২/১১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৬৬ - ইশার হাদিসে সনদ পার্থক্য
ইশার নামাজের ওয়াক্ত
ইশা নামাজের হাদিসে সনদ পার্থক্য ও সতর্ক পাঠ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৬৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৬৬
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ أَبِي عَوَانَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ، هُشَيْمٌ عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، . وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ هُشَيْمٌ عَنْ بَشِيرِ بْنِ ثَابِتٍ، . وَحَدِيثُ أَبِي عَوَانَةَ أَصَحُّ عِنْدَنَا لأَنَّ يَزِيدَ بْنَ هَارُونَ رَوَى عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، نَحْوَ رِوَايَةِ أَبِي عَوَانَةَ .
নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এ হাদীসটি নুমান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে মুহাম্মাদ ইবনু আবান, আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী’র সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হুশাইম বর্ণনা করেছেন আবূ বিশর হতে, তিনি হাবীব ইবনু সালিম হতে তিনি নু’মান ইবনু বাশীর হতে। হুশাইম তাঁর বর্ণনায় বাশীর ইবনু সাবিতের উল্লেখ করেননি। আমাদের মতে আবূ ‘আওয়ানার সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি সর্বাধিক সহীহ। কেননা ইয়াযীদ ইবনু হারুন শুবা হতে, তিনি আবূ বিশর হতে আবূ আওয়ানার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনাটি মূলত আগের ইশা নামাজের সময় সম্পর্কিত হাদিসের সনদ নিয়ে আলোচনা। এখানে বলা হয়েছে, নু‘মান ইবন বাশীর (রাঃ) থেকে একই অর্থের বর্ণনা মুহাম্মাদ ইবন আবান ও আব্দুর রহমান ইবন মাহদীর সূত্রেও এসেছে। এরপর ইমাম তিরমিযী বিভিন্ন বর্ণনার সূত্র উল্লেখ করেছেন এবং কোন বর্ণনা তাঁদের কাছে বেশি সঠিক, সেটিও বলেছেন। তাই এই হাদিস থেকে নতুন করে ইশার আলাদা নিয়ম বের করা ঠিক হবে না। বরং এর মূল শিক্ষা হলো, হাদিসের পাঠ ও সনদ আলেমদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এক বর্ণনাকারী কোনো নাম উল্লেখ করেছেন, অন্যজন করেননি—এ ধরনের পার্থক্যও তারা লক্ষ্য করেছেন। যারা হাদিসের সনদ, ইশা নামাজের হাদিস এবং বর্ণনার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে জানতে চান, তাদের জন্য এই অংশটি খুব শিক্ষণীয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একই হাদিসের সূত্রে ছোট পার্থক্য থাকলেও আলেমরা তা লক্ষ্য করতেন।
- সনদ যাচাই ছাড়া হাদিসের পূর্ণ পাঠ বোঝা কঠিন হতে পারে।
- এখানে মূল শিক্ষা নতুন বিধান নয়; বরং বর্ণনা যাচাইয়ের সতর্কতা।
