২২/৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৭২৬ - হালাল-হারামের মূলনীতি ও নীরব বিষয়ের ছাড়
পশমী কাপড় পরা জায়িয
হালাল-হারামের মূলনীতি: আল্লাহর বিধানই চূড়ান্ত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৭২৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৭২৬
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى الْفَزَارِيُّ، حَدَّثَنَا سَيْفُ بْنُ هَارُونَ الْبُرْجُمِيُّ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ سَلْمَانَ، قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنِ السَّمْنِ وَالْجُبْنِ وَالْفِرَاءِ . فَقَالَ «الْحَلاَلُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ وَالْحَرَامُ مَا حَرَّمَ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ وَمَا سَكَتَ عَنْهُ فَهُوَ مِمَّا عَفَا عَنْهُ» .قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنِ الْمُغِيرَةِ . وَهَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَرَوَى سُفْيَانُ وَغَيْرُهُ عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ سَلْمَانَ قَوْلَهُ وَكَأَنَّ الْحَدِيثَ الْمَوْقُوفَ أَصَحُّ . وَسَأَلْتُ الْبُخَارِيَّ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ مَا أُرَاهُ مَحْفُوظًا رَوَى سُفْيَانُ عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ سَلْمَانَ مَوْقُوفًا . قَالَ الْبُخَارِيُّ وَسَيْفُ بْنُ هَارُونَ مُقَارِبُ الْحَدِيثِ وَسَيْفُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ عَاصِمٍ ذَاهِبُ الْحَدِيثِ .
সালমান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ঘি, পনির ও পশমী বা চামড়ার জামা প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করা হল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর গ্রন্থে যা বৈধ করেছেন তা-ই বৈধ এবং আল্লাহ তা‘আলা তাঁর গ্রন্থে যা অবৈধ করেছেন তা-ই অবৈধ। আর তিনি যে সকল বিষয়ে নীরব থেকেছেন (বৈধ বা অবৈধ বিষয়ে কিছুই বলেননি) তা তাঁর ক্ষমা ও উদারতার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
আবূ ঈসা বলেন, মুগীরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি গারীব। আমরা এটাকে শুধু উল্লেখিত সনদ সূত্রেই মারফূভাবে জেনেছি। এটাকে সালমান ফারসী (রাঃ)-এর নিজের কথা হিসাবে সুফিয়ান সাওরী ও আরো কয়েকজন বর্ণনাকারী সুলাইমান আত-তাইমী হতে আবূ উসমানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। মাওকূফ বর্ণনাটি অনেক বেশি সহীহ্ মনে হয়। আমি ইমাম বুখারীর নিকট উক্ত হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি এটাকে মাহ্ফূয (সুরক্ষিত) বলে মনে করি না। সুফিয়ান-সুলাইমান আত-তাইমী হতে, তিনি আবূ উসমান হতে, তিনি সালমান (রাঃ) হতে মাওকূফভাবে বর্ণনা করেছেন। বুখারী আরো বলেন, হাদীস শাস্ত্রে সাইফ ইবনু হারুন গ্রহণ যোগ্য এবং সাইফ ইবনু মুহাম্মাদ, যিনি আসিমের সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেন, নির্ভরযোগ্য নন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৭২৬-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়—হালাল-হারাম। ঘি, পনির এবং পশমী বা চামড়ার পোশাক সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে এই বর্ণনায় একটি সাধারণ নীতি বলা হয়েছে। আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা বৈধ করেছেন, তা বৈধ; যা অবৈধ করেছেন, তা অবৈধ। আর যে বিষয়ে নীরব থাকা হয়েছে, তা ক্ষমা ও উদারতার অংশ হিসেবে ধরা হয়েছে। তাই হালাল-হারাম নির্ধারণে ব্যক্তিগত ধারণার বদলে আল্লাহর নির্দেশকে ভিত্তি করতে হবে—এটাই বক্তব্যের কেন্দ্র। তবে দেওয়া আরবি পাঠের শেষ অংশে বর্ণনাটির মারফু‘ রূপ সংরক্ষিত কি না, সে বিষয়ে মুহাদ্দিসদের আপত্তি উল্লেখ আছে এবং মাওকুফ রূপকে বেশি সঠিক বলা হয়েছে। ফলে এই বর্ণনা উপস্থাপনের সময় এর হাদিসগত সতর্কতাও মনে রাখা জরুরি। এই সতর্কতা পাঠককে বক্তব্য ও বর্ণনার মান—দুই দিক একসঙ্গে বিবেচনা করতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হালাল ও হারাম নির্ধারণের ভিত্তি আল্লাহর বিধান।
- যে বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধ নেই, সে বিষয়ে অযথা কঠোর দাবি করা উচিত নয়।
- এই বর্ণনার মারফু‘ সনদ নিয়ে পাঠেই মুহাদ্দিসদের সতর্কতা উল্লেখ আছে।
