২/২৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৮৪ - আসরের পর দুই রাকাতের কারণ
আসরের নামাজের পর অন্য নামাজ আদায় প্রসঙ্গে
আসরের পর দুই রাকাত নামাজ: নবী صلى الله عليه وسلم কেন আদায় করেছিলেন
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৮৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৮৪
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ إِنَّمَا صَلَّى النَّبِيُّ ﷺ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ لأَنَّهُ أَتَاهُ مَالٌ فَشَغَلَهُ عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ فَصَلاَّهُمَا بَعْدَ الْعَصْرِ ثُمَّ لَمْ يَعُدْ لَهُمَا .وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ وَمَيْمُونَةَ وَأَبِي مُوسَى.قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ. وَقَدْ رَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ صَلَّى بَعْدَ الْعَصْرِ رَكْعَتَيْنِ. وَهَذَا خِلاَفُ مَا رُوِيَ عَنْهُ أَنَّهُ نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ " . وَحَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ أَصَحُّ حَيْثُ قَالَ لَمْ يَعُدْ لَهُمَا. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ نَحْوُ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَائِشَةَ فِي هَذَا الْبَابِ رِوَايَاتٌ رُوِيَ عَنْهَا أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ مَا دَخَلَ عَلَيْهَا بَعْدَ الْعَصْرِ إِلاَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَرُوِيَ عَنْهَا عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَبَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ . وَالَّذِي اجْتَمَعَ عَلَيْهِ أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى كَرَاهِيَةِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَبَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ إِلاَّ مَا اسْتُثْنِيَ مِنْ ذَلِكَ مِثْلُ الصَّلاَةِ بِمَكَّةَ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَبَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ بَعْدَ الطَّوَافِ فَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ رُخْصَةٌ فِي ذَلِكَ. وَقَدْ قَالَ بِهِ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَمَنْ بَعْدَهُمْ. وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ. وَقَدْ كَرِهَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَمَنْ بَعْدَهُمُ الصَّلاَةَ بِمَكَّةَ أَيْضًا بَعْدَ الْعَصْرِ وَبَعْدَ الصُّبْحِ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَبَعْضُ أَهْلِ الْكُوفَةِ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা নবী (ﷺ) আসরের নামাজের পর দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন। কেননা তাঁর নিকট কিছু সম্পদ এসেছিল, তিনি তা বিলি করতে ব্যস্ত ছিলেন এবং যুহরের (ফরজের) পরের দুই রাকাত আদায়ের সুযোগ পাননি। এই দুই রাকাতই তিনি আসরের নামাজের পর আদায় করলেন। তারপর তিনি কখনো তার পুণসঙ্ঘটন করেননি।
এ অনুচ্ছেদে আইশা, উম্মু সালামা, মাইমূনা ও আবূ মূসা (রা:) হতে বর্ণিত হাদীসও আছে। আবূ ঈসা বলেন, ইবনু আব্বাস (রা:) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। একাধিক ব্যক্তি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আসরের পর দুই রাক‘আত নামায আদায় করেছিলেন। এই হাদীসটি আসরের পর নামায সম্পর্কিত নেতিবাচক হাদীস পরিপন্থী। ইবনু আব্বাস (রা:)-এর হাদীসটি বেশী সহীহ, যাতে তিনি বলেছেন : তারপর তিনি তার পুণসঙ্ঘটন করেন নি। ইবনু আব্বাসের হাদীসের অনুরূপ হাদীস যাইদ ইবনু সাবিত (রা:) হতেও বর্ণিত আছে। এ অনুচ্ছেদে আইশা (রা:)-এর বেশ কয়েকটি বর্ণনা আছে। একটি বর্ণনা হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসরের নামাযের পর তাঁর ঘরে গেলেই তিনি দুই রাক‘আত নামায আদায় করতেন। আইশা (রা:)-এর দ্বিতীয় হাদীসটি উম্মু সালামা (রা:)-এর সূত্রে বর্ণিত, এতে আছে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসরের পর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত এবং ফযরের পর সূর্য উঠা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন। এ বিষয়ে বিদ্বানগণের অধিকাংশই ঐকমত্য পোষণ করেন যে, মক্কা মুআযযমায় বাইতুল্লাহ তাওয়াফের পর আসরের পর হতে সূর্য ডোবা পর্যন্ত এবং ফযরের পর হতে সূর্য উঠা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নামায আদায় করা এই নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত রাখা হয়েছে। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাওয়াফের পর উল্লেখিত সময়ে নামায আদায়ের অনুমতি দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও তাদের পরবর্তীগণ (মাক্কাতে) উল্লেখিত সময়ে নামায আদায়ের অনুমতি দিয়েছেন। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও এ অভিমত দিয়েছেন। সাহাবাদের অপর দল ও তাদের পরবর্তীগণ ফজরের পর এবং ‘আসরের পর মক্কাতেও নামায আদায় করা মাকরূহ বলেছেন। সুফইয়ান সাওরী, মালিক ইবনু আনাস এবং কিছু কুফাবাসী এ মত সমর্থন করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি বিশেষ ঘটনার কথা এসেছে। নবী صلى الله عليه وسلم আসরের নামাজের পর দুই রাকাত নামাজ আদায় করেছিলেন। কারণ তাঁর কাছে কিছু সম্পদ এসেছিল এবং তা বিলি করতে গিয়ে তিনি যুহরের ফরজের পরের দুই রাকাত আদায়ের সুযোগ পাননি। পরে তিনি সেই দুই রাকাত আসরের পর আদায় করেন। বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, তিনি এরপর আর তার পুনরাবৃত্তি করেননি। তাই এই হাদিস বুঝতে হলে ১৮৩ নম্বর হাদিসের নিষিদ্ধ সময়ের কথাও মনে রাখতে হয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ঘটনাটি একটি নির্দিষ্ট কারণের সঙ্গে যুক্ত। এটিকে সাধারণ নিয়ম বানিয়ে নেওয়া ঠিক নয়। আসরের পর নামাজ, যুহরের সুন্নত এবং মিস হওয়া নামাজের প্রসঙ্গে এই হাদিস খুব সতর্কভাবে পড়া দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم একটি নির্দিষ্ট কারণে আসরের পর দুই রাকাত আদায় করেছিলেন।
- ঘটনার কারণ না বুঝে সাধারণ নিয়ম বানানো ঠিক নয়।
- মিস হওয়া সুন্নত আদায়ের বিষয়টি বর্ণনায় এসেছে।
- হাদিসের শেষ কথাও গুরুত্বপূর্ণ: তিনি পরে তা পুনরাবৃত্তি করেননি।
