২/৩৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯৮ - ফজরের আযানে তাসবীব
ফজরের নামাজের ওয়াক্তে তাসবিব করা প্রসঙ্গে
ফজরের আযানে তাসবীব: কোন নামাজে বলা হবে
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৯৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৯৮
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْرَائِيلَ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ بِلاَلٍ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لاَ تُثَوِّبَنَّ فِي شَيْءٍ مِنَ الصَّلَوَاتِ إِلاَّ فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي مَحْذُورَةَ.قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ بِلاَلٍ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي إِسْرَائِيلَ الْمُلاَئِيِّ . وَأَبُو إِسْرَائِيلَ لَمْ يَسْمَعْ هَذَا الْحَدِيثَ مِنَ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ قَالَ إِنَّمَا رَوَاهُ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُمَارَةَ عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ. وَأَبُو إِسْرَائِيلَ اسْمُهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ وَلَيْسَ هُوَ بِذَاكَ الْقَوِيِّ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ.وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي تَفْسِيرِ التَّثْوِيبِ فَقَالَ بَعْضُهُمُ التَّثْوِيبُ أَنْ يَقُولَ فِي أَذَانِ الْفَجْرِ الصَّلاَةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ وَهُوَ قَوْلُ ابْنِ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدَ. وَقَالَ إِسْحَاقُ فِي التَّثْوِيبِ غَيْرَ هَذَا قَالَ التَّثْوِيبُ الْمَكْرُوهُ هُوَ شَيْءٌ أَحْدَثَهُ النَّاسُ بَعْدَ النَّبِيِّ ﷺ إِذَا أَذَّنَ الْمُؤَذِّنُ فَاسْتَبْطَأَ الْقَوْمَ قَالَ بَيْنَ الأَذَانِ وَالإِقَامَةِ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ. قَالَ وَهَذَا الَّذِي قَالَ إِسْحَاقُ هُوَ التَّثْوِيبُ الَّذِي قَدْ كَرِهَهُ أَهْلُ الْعِلْمِ وَالَّذِي أَحْدَثُوهُ بَعْدَ النَّبِيِّ ﷺ. وَالَّذِي فَسَّرَ ابْنُ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدُ أَنَّ التَّثْوِيبَ أَنْ يَقُولَ الْمُؤَذِّنُ فِي أَذَانِ الْفَجْرِ الصَّلاَةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ وَهُوَ قَوْلٌ صَحِيحٌ وَيُقَالُ لَهُ التَّثْوِيبُ أَيْضًا وَهُوَ الَّذِي اخْتَارَهُ أَهْلُ الْعِلْمِ وَرَأَوْهُ. وَرُوِيَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ الصَّلاَةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ . وَرُوِيَ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ دَخَلْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ مَسْجِدًا وَقَدْ أُذِّنَ فِيهِ وَنَحْنُ نُرِيدُ أَنْ نُصَلِّيَ فِيهِ فَثَوَّبَ الْمُؤَذِّنُ فَخَرَجَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ مِنَ الْمَسْجِدِ وَقَالَ اخْرُجْ بِنَا مِنْ عِنْدِ هَذَا الْمُبْتَدِعِ. وَلَمْ يُصَلِّ فِيهِ. قَالَ وَإِنَّمَا كَرِهَ عَبْدُ اللَّهِ التَّثْوِيبَ الَّذِي أَحْدَثَهُ النَّاسُ بَعْدُ.
বিলাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে বলেছেনঃ ফজরের নামাজ ছাড়া অন্য কোন নামাজে ‘তাসবীব’ করো না।
এ অনুচ্ছেদ আবূ মাহযুরা (রাঃ) হতে বর্ণনাকৃত হাদীসও আছে। আবূ ঈসা বলেন, আমরা শুধু আবূ ইসরাঈলের সূত্রে বিলাল (রাঃ)-এর হাদীসটি জানতে পেরেছি। অথচ আবূ ইসরাঈল হাকামের নিকট এ হাদীসটি কখনও শুনেননি। বরং তিনি হাসান ইবনু উমারার মাধ্যমে হাকামের নিকট হতে এ হাদীসটি সংগ্রহ করেছেন। আবূ ইসরাঈলের নাম ইসমাঈল ইবনু আবূ ইসহাক। তিনি হাদীস বিশারদদের মতে নির্ভরযোগ্য রাবী নন। তাসবীব শব্দের ব্যাখ্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মাঝে মত পার্থক্য আছে। ইবনুল মুবারাক ও আহমাদের মতে, ফজরের আযানের ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান্ নাওম’ বাক্যটিকে তাসবীব বলা হয়। ইসহাকের মতে, আযানের পর যদি লোকেরা আসতে দেরি করে তবে আযান ও ইকামাতের মাঝখানে ‘ক্বাদ কামাতিস্ সালাহ, হাইয়া ‘আলাস সালাহ ও হাইয়া ‘আলাল ফালাহ’ বলে লোকদের ডাকার নাম হল তাসবীব। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর মৃত্যুর পর লোকেরা এটা নতুনভাবে চালু করেছে বিধায় ইসহাকের উল্লেখিত এ তাসবীবকে ‘আলিমগণ মাকরূহ বলেছেন। ইবনুল মুবারাক ও আহমাদ তাসবীবের (উপরের উল্লেখিত) যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, সেটাই নির্ভুল এবং সহীহ। ফজরের আযানে এ তাসবীব করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে একেই তাসবীব বলা হয়। আর ‘আলিমগণ এ তাসবীবকেই পছন্দ করেছেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি ভোরের নামাজের সময় ‘আস্-সালাতু খাইরুম মিনান্ নাওম’ বলে (লোকদের) ডাকতেন। মুজাহিদ হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সাথে কোন এক মসজিদে গেলাম। সেখানে আগেই আযান হয়ে গেছে। আমরা নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলাম, এমন সময় মুয়াযযিন তাসবীব শুরু করে দিল। তা শুনা মাত্রই ইবনু ‘উমার (রাঃ) এ বলতে বলতে মসজিদ হতে বের হয়ে আসলেনঃ “এ বিদ‘আতীর কাছ থেকে চলে আস।” তিনি সেখানে নামাজ আদায় করলেন না। পরবর্তী সময়ে লোকেরা যে তাসবীব আবিষ্কার করেছে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) এটাকে খুবই মন্দ জানতেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯৮-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বিলাল (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁকে বলেছেন—ফজরের নামাজ ছাড়া অন্য কোনো নামাজে তাসবীব করো না। এখানে মূল বিষয় হলো তাসবীব এবং ফজরের আযান। বর্ণনার পরের অংশে তাসবীবের অর্থ নিয়ে আলেমদের মত এসেছে। কেউ বলেছেন, ফজরের আযানে ‘নামাজ ঘুমের চেয়ে উত্তম’ বলা তাসবীব। আবার অন্য ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আযান ও ইকামতের মাঝে পরে তৈরি হওয়া কিছু ডাকই অপছন্দনীয় তাসবীব। তাই এই হাদিসের ব্যাখ্যা করতে হলে সতর্কতা দরকার। মূল শিক্ষাটি হলো—আযানের শব্দে নিজের মতো করে কিছু যোগ করা যায় না। ফজরের আযান সম্পর্কিত বিশেষ শব্দ ও অন্য নামাজের আযানের পার্থক্য বুঝে আমল করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাসবীবের বিষয়টি ফজরের নামাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
- অন্য নামাজে তাসবীব না করার নির্দেশ এসেছে।
- তাসবীবের অর্থ নিয়ে আলেমদের ব্যাখ্যা আছে।
- আযানের শব্দে নিজের মতো করে যোগ করা থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
