২/৩৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯৯ - যে আযান দেবে, সে ইকামত দেবে
যে আযান দিয়েছে সে ইকামাত দিবে
যে আযান দেবে, সে ইকামত দেবে: ফজরের আযানের হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৯৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৯৯
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، وَيَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ الإِفْرِيقِيِّ، عَنْ زِيَادِ بْنِ نُعَيْمٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ زِيَادِ بْنِ الْحَارِثِ الصُّدَائِيِّ، قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنْ أُؤَذِّنَ فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ فَأَذَّنْتُ فَأَرَادَ بِلاَلٌ أَنْ يُقِيمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنَّ أَخَا صُدَاءٍ قَدْ أَذَّنَ وَمَنْ أَذَّنَ فَهُوَ يُقِيمُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ.قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ زِيَادٍ إِنَّمَا نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ الإِفْرِيقِيِّ وَالإِفْرِيقِيُّ هُوَ ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ ضَعَّفَهُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ وَغَيْرُهُ قَالَ أَحْمَدُ لاَ أَكْتُبُ حَدِيثَ الإِفْرِيقِيِّ . قَالَ وَرَأَيْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يُقَوِّي أَمْرَهُ وَيَقُولُ هُوَ مُقَارِبُ الْحَدِيثِ. وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ مَنْ أَذَّنَ فَهُوَ يُقِيمُ.
যিয়াদ ইবনু হারিস আস-সুদাঈ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে ফজরের নামাজের আযান দিতে বললেন। আমি আযান দিলাম। বিলাল (রাঃ) ইকামাত দিতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ “সুদাঈ আযান দিয়েছে, আর যে আযান দিবে ইকামাতও সে-ই দিবে”।
এ অনুচ্ছেদে ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে, আবূ ‘ঈসা বলেনঃ যিয়াদের হাদীসটি আমরা ইফরিকীর হাদীসের মাধ্যমেই জানতে পারি। অথচ ইফরিকী হাদীস বিশারদদের মতে দুর্বল রাবী। ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ ও অন্যরা তাঁকে দুর্বল মনে করেছেন। আহমাদ বলেছেন, আমি ইফরিকীর হাদীস লিখি না। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমা‘ঈলকে দেখেছি তিনি তাঁকে মজবুত রাবী বলে সমর্থন করেছেন এবং তিনি বলেছেন, ইফরিকী একজন প্রিয়ভাজন রাবী। বেশিরভাগ ‘আলিমদের মত হল, যে আযান দিবে সে-ই ইকামাত দিবে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৯৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যিয়াদ ইবনু হারিস আস-সুদাঈ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁকে ফজরের নামাজের আযান দিতে বলেন। তিনি আযান দেন। এরপর বিলাল (রাঃ) ইকামত দিতে চাইলে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, সুদাঈ আযান দিয়েছে, আর যে আযান দেবে ইকামতও সে-ই দেবে। এখানে মূল বিষয় হলো আযান ও ইকামতের দায়িত্ব। হাদিসের শেষে বর্ণনাকারী সম্পর্কে দুর্বলতার কথাও এসেছে, তবে আমলের আলোচনায় অধিকাংশ আলেমের মত উল্লেখ করা হয়েছে যে, যে আযান দেয় সে-ই ইকামত দেয়। সাধারণভাবে এই বর্ণনা দায়িত্বের ধারাবাহিকতা শেখায়। মসজিদের কাজে শৃঙ্খলা থাকা দরকার। একজন আযান দিলেন, আর একই ব্যক্তি ইকামত দিলে ঘোষণা ও জামাতের যোগসূত্র পরিষ্কার থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফজরের আযান দেওয়ার দায়িত্ব সুদাঈ (রাঃ)-কে দেওয়া হয়েছিল।
- বর্ণনায় যে আযান দেবে, সে ইকামত দেবে—এই কথা এসেছে।
- মসজিদের কাজে দায়িত্বের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ।
- সনদের আলোচনাও হাদিস পড়ার সময় খেয়াল করা দরকার।
