২৬/২৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২০৭৬ - দুধপানকালে স্ত্রীসহবাসের বিধান
দুগ্ধবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস করা
দুধপানকালে স্ত্রীসহবাস: হাদিসে গিয়ালের আলোচনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২০৭৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২০৭৬
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ ابْنَةِ وَهْبٍ، وَهِيَ جُدَامَةُ - قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «أَرَدْتُ أَنْ أَنْهَى عَنِ الْغِيَالِ فَإِذَا فَارِسُ وَالرُّومُ يَفْعَلُونَ وَلاَ يَقْتُلُونَ أَوْلاَدَهُمْ» .قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَاهُ مَالِكٌ عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ جُدَامَةَ بِنْتِ وَهْبٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ . قَالَ مَالِكٌ وَالْغِيَالُ أَنْ يَطَأَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَهِيَ تُرْضِعُ .
আইশা (রাঃ) হতে জুদামা বিনতু ওয়াহ্ব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি (জুদামা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি: আমি দুগ্ধদায়িনী স্ত্রীর সাথে সহবাস করাকে নিষিদ্ধ করতে ইচ্ছা করলাম। কিন্তু আমি অবহিত হলাম যে, পারস্য ও রোমের (এশিয়া মাইনর) জনগণ এটা করে থাকে (দুগ্ধপোষ্য শিশু থাকাকালীন সময়ে স্ত্রী সহবাস করে)। অথচ তাদের সন্তানদের তারা হত্যা করে না (উল্লেখিত সময়ে সহবাসের কারণে শিশুর কোন ক্ষতি হয় না)।
আবূ ঈসা বলেন, আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি সহীহ। মালিক-আবুল আসওয়াদ হতে, তিনি উরওয়া হতে, তিনি আইশা হতে, তিনি জুদামা বিনতু ওয়াহ্ব (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে একইরকম বর্ণনা করেছেন। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, ‘গীলা’ অর্থ দুগ্ধপোষ্য শিশুর মায়ের সাথে সহবাস করা।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২০৭৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় গিয়াল, অর্থাৎ স্ত্রী দুধপান করাচ্ছেন এমন সময়ে স্বামীর সহবাস। জুদামা (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে বলতে শুনেছেন, তিনি এ কাজ নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন, পারস্য ও রোমের লোকেরা এ কাজ করে, অথচ এতে তাদের সন্তানদের হত্যা বা ক্ষতি হয় না। তাই তিনি নিষিদ্ধ করেননি। এই হাদিসে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আছে: কোনো বিষয় নিষিদ্ধ করার আগে বাস্তব ক্ষতি ও প্রমাণের বিষয় বিবেচনায় এসেছে। তবে এখানে হাদিসের সীমা মেনে বলা উচিত—এটি দুধপোষ্য শিশু থাকা অবস্থায় সহবাস প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। এর বাইরে অতিরিক্ত সামাজিক বা চিকিৎসাগত দাবি করা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুধপোষ্য শিশু থাকা অবস্থায় স্ত্রীসহবাস প্রসঙ্গে হাদিসে আলোচনা এসেছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم ক্ষতির বিষয় জানার পর নিষেধ করেননি।
- বিধান বোঝার সময় হাদিসের নির্দিষ্ট প্রসঙ্গ মানা জরুরি।
