২৭/১০. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১০১ - দাদীর মীরাসের অংশ

দাদী-নানীর অংশ

দাদীর মীরাস: এক-ষষ্ঠাংশের বিধান

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২১০১

حَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ خَرَشَةَ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ، قَالَ جَاءَتِ الْجَدَّةُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا . قَالَ فَقَالَ لَهَا مَا لَكِ فِي كِتَابِ اللَّهِ شَيْءٌ وَمَا لَكِ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ شَيْءٌ فَارْجِعِي حَتَّى أَسْأَلَ النَّاسَ . فَسَأَلَ النَّاسَ فَقَالَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ حَضَرْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَأَعْطَاهَا السُّدُسَ . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ هَلْ مَعَكَ غَيْرُكَ فَقَامَ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ الأَنْصَارِيُّ فَقَالَ مِثْلَ مَا قَالَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ فَأَنْفَذَهُ لَهَا أَبُو بَكْرٍ . قَالَ ثُمَّ جَاءَتِ الْجَدَّةُ الأُخْرَى إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا فَقَالَ مَا لَكِ فِي كِتَابِ اللَّهِ شَيْءٌ وَلَكِنْ هُوَ ذَاكَ السُّدُسُ فَإِنِ اجْتَمَعْتُمَا فِيهِ فَهُوَ بَيْنَكُمَا وَأَيَّتُكُمَا خَلَتْ بِهِ فَهُوَ لَهَا .قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ بُرَيْدَةَ . وَهَذَا أَحْسَنُ وَهُوَ أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عُيَيْنَةَ .

কাবীসা ইবনু যুওয়াইব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

এক দাদী আবূ বাকর (রাঃ)-এর নিকটে এসে তার মীরাস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করে। তিনি তাকে বললেন, তোমার জন্য আল্লাহ তা'আলার কিতাবে কিছু নির্ধারিত নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাতেও তোমার সম্পর্কে কিছু নেই। তুমি চলে যাও, আমি লোকদের নিকটে প্রশ্ন করে ব্যাপারটি জেনে নেই।তিনি লোকদের প্রশ্ন করলে মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে হাযির থাকা অবস্থায় তিনি তাকে (দাদীকে) ছয় ভাগের এক অংশ দান করার ফাইসালা দিয়েছেন। তিনি (আবূ বাকর) প্রশ্ন করলেন, তোমার সাথে আরো কেউ ছিল কি? তখন মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা (রাঃ) উঠে দাঁড়িয়ে মুগীরা ইবনু শুবা (রাঃ)-এর মতই কথা বললেন। অতএব আবু বাকর (রাঃ) তাকে ছয় ভাগের এক অংশ দেয়ার বিধান জারি করেন।পরবর্তী কালে অপর এক দাদী এসে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর কাছে তার মীরাস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করে। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলার কিতাবে তোমার জন্য কোন অংশ নির্ধারিত নেই। তবে তোমার জন্য ঐ ছয় ভাগের এক অংশ নির্ধারিত আছে। তোমরা (দাদী-নানী) যদি উভয়ে বেঁচে থাক তবে এটা (ছয় ভাগের এক অংশ) তোমাদের উভয়ের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হবে। আর তোমাদের উভয়ের মধ্যে যদি একজন বেঁচে থাকে তবে এটা সে একাই পাবে।দুর্বল, দেখুন পূর্বের হাদীস, এ অনুচ্ছেদে বুরাইদা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।

আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। ইবনু উয়াইনার হাদীসের তুলনায় এটি অনেক বেশী সহীহ।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১০১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো দাদীর মীরাস। এক দাদী আবু বকর (রাঃ)-এর কাছে নিজের উত্তরাধিকার সম্পর্কে জানতে আসেন। তিনি সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে বলেন, আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সুন্নাতে তার বিষয়ে যা আছে তা তিনি লোকদের জিজ্ঞেস করে জানবেন। পরে মুগীরা ইবন শু‘বা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) দাদীকে ছয় ভাগের এক ভাগ দিয়েছেন। আবু বকর (রাঃ) একক সাক্ষ্যে থেমে যাননি; আরেকজন সাক্ষী চান। মুহাম্মাদ ইবন মাসলমা (রাঃ) একই কথা বললে তিনি বিধান জারি করেন। হাদিসটি মীরাসের মাসআলা ও দলিল যাচাইয়ের গুরুত্ব শেখায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মীরাসের ফায়সালা দলিল ও যাচাইয়ের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
  • দাদী-নানীর জন্য এক-ষষ্ঠাংশ অংশের কথা এই বর্ণনায় এসেছে।
  • দুই দাদী-নানী থাকলে অংশটি তাদের মধ্যে ভাগ হবে।
  • নেতা বা বিচারককে না জেনে দ্রুত সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন