২৮/৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১২৩ - মৃত্যুর আগে দান ও গোলাম মুক্তির শিক্ষা
মৃত্যুর সময় কেউ দান খয়রাত করলে বা গোলাম আজাদ করলে
মৃত্যুর আগে দান: সময়মতো নেক কাজ করার হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২১২৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২১২৩
حَدَّثَنَا بُنْدَارٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي حَبِيبَةَ الطَّائِيِّ، قَالَ أَوْصَى إِلَىَّ أَخِي بِطَائِفَةٍ مِنْ مَالِهِ فَلَقِيتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ فَقُلْتُ إِنَّ أَخِي أَوْصَى إِلَىَّ بِطَائِفَةٍ مِنْ مَالِهِ فَأَيْنَ تَرَى لِي وَضْعَهُ فِي الْفُقَرَاءِ أَوِ الْمَسَاكِينِ أَوِ الْمُجَاهِدِينَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَقَالَ أَمَّا أَنَا فَلَوْ كُنْتُ لَمْ أَعْدِلْ بِالْمُجَاهِدِينَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «مَثَلُ الَّذِي يُعْتِقُ عِنْدَ الْمَوْتِ كَمَثَلِ الَّذِي يُهْدِي إِذَا شَبِعَ» . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আবূ হাবীবা আত-তাঈ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার ভাই তার সম্পদের একটা অংশ আমার জন্য ওসিয়াত করে যান। আমি আবুদ দারদা (রাঃ)-এর সাথে দেখা করে বললাম, আমার ভাই তার সম্পত্তির একটা অংশ আমার জন্য ওসিয়াত করে গেছেন। এ ব্যাপারে আপনার কি মত? আমি কি তা ফকীর-মিসকীনদের জন্য খরচ করব, না আল্লাহ্ তা’আলার পথের সৈনিকদের জন্য খরচ করব? তিনি বললেন, যদি আমি হতাম তবে এ ব্যাপারে আমি মুজাহিদদের মুকাবিলায় অন্য কাউকে অগ্রাধিকার দিতাম না। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি মৃত্যুর সময় (গোলাম) মুক্ত করে সে হচ্ছে এমন ব্যক্তির মত যে তৃপ্তি সহকারে খাওয়ার পর উপহার দেয়।
আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন: এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১২৩-এর সারসংক্ষেপ
হাদিসটিতে একটি ওসিয়তকৃত সম্পদ কোথায় ব্যয় করা হবে, সে প্রশ্নের সঙ্গে মৃত্যুর সময় গোলাম মুক্ত করার একটি দৃষ্টান্ত এসেছে। আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর পথে সংগ্রামরতদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী উল্লেখ করেন: মৃত্যুর সময় গোলাম মুক্ত করা এমন ব্যক্তির মতো, যে পেট ভরে খাওয়ার পর উপহার দেয়। তুলনাটি বোঝায়, সামর্থ্য থাকা অবস্থায় কল্যাণের কাজ পিছিয়ে দিয়ে একেবারে শেষ সময়ে করা আগেভাগে করার মতো নয়। হাদিসটি আমাদের দান, মুক্তি বা সম্পদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সময়ের মূল্য বুঝতে শেখায়। নেক কাজের ইচ্ছা থাকলে সুস্থতা ও সক্ষমতার সময় তা করা বেশি আন্তরিক ও কার্যকর হতে পারে। তবে ব্যয়ের ক্ষেত্র নির্ধারণে ওসিয়তের সীমা ও উদ্দেশ্যও মানতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কল্যাণকর কাজ সামর্থ্য থাকা অবস্থায় দেরি না করে করা উচিত।
- মৃত্যুর একেবারে শেষ সময়ের দানকে আগেভাগের দানের সমান ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
- ওসিয়তকৃত সম্পদ নির্ধারিত উদ্দেশ্য ও বৈধ খাতে ব্যয় করতে হবে।
- দান করার সময় উপকারের ক্ষেত্র ভেবে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।
