২৮/৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১২৪ - আল্লাহর বিধানবিরোধী শর্ত বাতিল
মৃত্যুর সময় কেউ দান খয়রাত করলে বা গোলাম আজাদ করলে
বৈধ চুক্তির শর্ত: আল্লাহর বিধানবিরোধী শর্ত কেন বাতিল
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২১২৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২১২৪
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، أَخْبَرَتْهُ أَنَّ بَرِيرَةَ جَاءَتْ تَسْتَعِينُ عَائِشَةَ فِي كِتَابَتِهَا وَلَمْ تَكُنْ قَضَتْ مِنْ كِتَابَتِهَا شَيْئًا فَقَالَتْ لَهَا عَائِشَةُ ارْجِعِي إِلَى أَهْلِكِ فَإِنْ أَحَبُّوا أَنْ أَقْضِيَ عَنْكِ كِتَابَتَكِ وَيَكُونَ لِي وَلاَؤُكِ فَعَلْتُ . فَذَكَرَتْ ذَلِكَ بَرِيرَةُ لأَهْلِهَا فَأَبَوْا وَقَالُوا إِنْ شَاءَتْ أَنْ تَحْتَسِبَ عَلَيْكِ وَيَكُونَ لَنَا وَلاَؤُكِ فَلْتَفْعَلْ . فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «ابْتَاعِي فَأَعْتِقِي فَإِنَّمَا الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ» ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ «مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللَّهِ مَنِ اشْتَرَطَ شَرْطًا لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَلَيْسَ لَهُ وَإِنِ اشْتَرَطَ مِائَةَ مَرَّةٍ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ عَائِشَةَ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ الْوَلاَءَ لِمَنْ أَعْتَقَ .
‘উরওয়াহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাকে আইশা (রাঃ) জানিয়েছেন। বারীরা (রাঃ) আইশা (রাঃ)- এর নিকট আসেন নিজের মুক্তির চুক্তিপত্রের ব্যাপারে তার সাহায্য প্রার্থনা করতে। তিনি তার চুক্তিপত্রের শর্ত মুতাবিক এ পর্যন্ত কিছুই পরিশোধ করতে পারেননি। আইশা (রাঃ) তাকে বললেন, তুমি তোমার মালিক পরিবারে ফিরে যাও। তারা যদি সম্মত হয় যে, তোমার চুক্তিপত্রের নির্ধারিত মূল্য আমি পরিশোধ করব এবং আমি তোমার ‘ওয়ালাআর’ হক্বদার হবো, তাহলে আমি মূল্য পরিশোধ করতে তৈরী আছি।তিনি ফিরে গিয়ে বিষয়টি তার মালিক পরিবারের কাছে বললেন। কিন্তু তারা এ শর্তে সম্মত হলো না। তারা বলল, তিনি যদি নেকীর উদ্দেশ্যে তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তোমার ওয়ালআর অধিকারী আমরা হবো তাহলে এই শর্তে আমরা সম্মত আছি এবং তিনি তা করতে পারেন। তিনি (আইশা) বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উল্লেখ করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ তুমি তাকে ক্রয় করে মুক্ত করে দাও। কেননা, যে ব্যক্তি মুক্ত করে সে-ই ওয়ালাআর মালিক হয়।তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে দাঁড়িয়ে বললেনঃ লোকদের কি হলো! তারা এমন শর্তারোপ করে যা আল্লাহ তা‘আলার গ্রন্থে নেই। যে লোক এরূপ শর্তারোপ করে যা আল্লাহ তা‘আলার গ্রন্থে নেই সেরূপ শর্ত তার কোন উপকারে আসবে না, সে শতবার শর্তারোপ করলেও।
আবু ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্। এ হাদীসটি আইশা (রাঃ) হতে একাধিকসূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীস অনুযায়ী অভিজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। তাদের মতে আযাদকারীই ওয়ালাআর স্বত্বাধিকারী হবে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১২৪-এর সারসংক্ষেপ
বারীরা রাদিয়াল্লাহু আনহা নিজের মুক্তির চুক্তি পূরণে সাহায্য চাইলে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা মূল্য পরিশোধ করতে চাইলেন। কিন্তু মালিকপক্ষ শর্ত দিল, অর্থ অন্যজন দিলেও ওয়ালার অধিকার তাদের থাকবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানালেন, যিনি মুক্ত করবেন, ওয়ালার অধিকার তারই। এরপর তিনি এমন সব শর্তের সমালোচনা করেন, যা আল্লাহর কিতাবের বিধানের সঙ্গে মেলে না। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, কোনো চুক্তি শুধু পক্ষগুলোর সম্মতিতে বৈধ হয়ে যায় না; শর্তটি আল্লাহর নির্ধারিত বিধানের বিরোধী কি না, সেটিও দেখতে হবে। অন্যায় বা অবৈধ শর্ত একশবার লেখা হলেও তা সত্য হয়ে যায় না। তাই ক্রয়, মুক্তির চুক্তি বা অন্য লেনদেনে অধিকার কার, তা স্পষ্ট রাখতে হবে এবং শরিয়তবিরোধী শর্ত গ্রহণ করা যাবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুক্তিদাতাই মুক্ত ব্যক্তির ওয়ালার অধিকারী।
- আল্লাহর বিধানের বিরোধী চুক্তির শর্ত কার্যকর নয়।
- একই অবৈধ শর্ত বারবার লিখলেও তা বৈধ হয়ে যায় না।
- লেনদেনে সাহায্য ও সদিচ্ছার পাশাপাশি বৈধ অধিকারও রক্ষা করতে হবে।
