৩১/১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৫৮ - মুসলিমের রক্তের পবিত্রতা
তিনটি কারণের কোন একটি ব্যতীত কোন মুসলমানের রক্তপাত বৈধ নয়
তিন অপরাধ ছাড়া মুসলিমের প্রাণ নেওয়া বৈধ নয়
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২১৫৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২১৫৮
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، أَشْرَفَ يَوْمَ الدَّارِ فَقَالَ أَنْشُدُكُمُ اللَّهَ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «لاَ يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلاَّ بِإِحْدَى ثَلاَثٍ زِنًا بَعْدَ إِحْصَانٍ أَوِ ارْتِدَادٍ بَعْدَ إِسْلاَمٍ أَوْ قَتْلِ نَفْسٍ بِغَيْرِ حَقٍّ فَقُتِلَ بِهِ» . فَوَاللَّهِ مَا زَنَيْتُ فِي جَاهِلِيَّةٍ وَلاَ فِي إِسْلاَمٍ وَلاَ ارْتَدَدْتُ مُنْذُ بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَلاَ قَتَلْتُ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ فَبِمَ تَقْتُلُونَنِيقَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَعَائِشَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَرَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ فَرَفَعَهُ . وَرَوَى يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ هَذَا الْحَدِيثَ فَأَوْقَفُوهُ وَلَمْ يَرْفَعُوهُ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ عُثْمَانَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مَرْفُوعًا .
আবূ উমামা ইবনু সাহ্ল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উসমান (রাঃ) বিদ্রোহীদের দ্বারা বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকাকালে (বিদ্রোহীদের) বলেন, আমি আল্লাহর শপথ করে তোমাদেরকে বলছি: তোমরা কি জান যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ “তিনটি অপরাধের কোন একটি ব্যতীত মুসলমান ব্যক্তিকে খুন করা হালাল নয়? বিয়ে করার পর যিনা করা, ইসলাম কবুল করার পর ধর্মত্যাগী হওয়া এবং কোন ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে খুন করা। এগুলোর যে কোন একটি অপরাধের কারণে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা যায়”।আল্লাহর শপথ! আমি জাহিলী আমলেও যিনা করিনি এবং ইসলাম কবুলের পরেও নয়। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট যেদিন আনুগত্যের শপথ (বাই’আত) গ্রহণ করেছি সেদিন হতে ধর্মত্যাগীও হইনি। আর এরূপ কোন প্রাণও আমি হত্যা করিনি যার হত্যা আল্লাহ তা’আলা অবৈধ করেছেন। আমাকে কি কারণে তোমরা হত্যা করবে?
আবূ ঈসা বলেন, ইবনু মাসঊদ, আইশা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান। এ হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হতে হাম্মাদ ইবনু সালামা মারফুরূপে বর্ণনা করেছেন। আর এ হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ হতে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তানসহ একাধিক বর্ণনাকারী মাওকুফভাবে বর্ণনা করেছেন, মারফুভাবে নয়। উসমান (রাঃ) এর বরাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে একাধিক সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত আছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৫৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় মুসলিমের প্রাণের মর্যাদা এবং অন্যায় হত্যার নিষেধ। উসমান (রাঃ) অবরুদ্ধ অবস্থায় বিদ্রোহীদের সামনে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর একটি বাণী স্মরণ করিয়ে দেন। সেখানে তিনটি অপরাধের কথা বলা হয়েছে: বিবাহিত হওয়ার পর ব্যভিচার করা, ইসলাম গ্রহণের পর ধর্মত্যাগ করা এবং অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা। উসমান (রাঃ) আল্লাহর শপথ করে বলেন, তিনি জাহিলিয়াত বা ইসলামের যুগে ব্যভিচার করেননি, বাইআতের পর ইসলাম ত্যাগ করেননি এবং আল্লাহ যে প্রাণ হত্যা করতে নিষেধ করেছেন তা হত্যা করেননি। তাই তিনি প্রশ্ন করেন, তাঁকে কেন হত্যা করা হবে। হাদিসটি কোনো অভিযোগ বা দলীয় উত্তেজনার ভিত্তিতে মানুষের প্রাণ নেওয়ার অনুমতি দেয় না। বরং মুসলিমের রক্তের পবিত্রতা এবং প্রমাণ ছাড়া হত্যার ভয়াবহতা তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুসলিমের প্রাণ সম্মানিত এবং অন্যায়ভাবে তা নেওয়া বৈধ নয়।
- উল্লিখিত তিন অপরাধের কোনোটি না করলে কাউকে হত্যার কারণ তৈরি হয় না।
- উসমান (রাঃ) নিজের নির্দোষতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিলেন।
- অভিযোগ বা বিদ্রোহের কারণে মানুষের রক্তকে হালকা মনে করা যাবে না।
