৩১/২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৫৯ - রক্ত, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তা
পরস্পরের জীবন ও সম্পদে হস্তক্ষেপ করা হারাম
মুসলিমের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান রক্ষার বিদায় হজের শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২১৫৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২১৫৯
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ شَبِيبِ بْنِ غَرْقَدَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ فِي حِجَّةِ الْوَدَاعِ لِلنَّاسِ " أَىُّ يَوْمٍ هَذَا» . قَالُوا يَوْمُ الْحَجِّ الأَكْبَرِ . قَالَ " فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ بَيْنَكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا أَلاَ لاَ يَجْنِي جَانٍ إِلاَّ عَلَى نَفْسِهِ أَلاَ لاَ يَجْنِي جَانٍ عَلَى وَلَدِهِ وَلاَ مَوْلُودٌ عَلَى وَالِدِهِ أَلاَ وَإِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ أَيِسَ مِنْ أَنْ يُعْبَدَ فِي بِلاَدِكُمْ هَذِهِ أَبَدًا وَلَكِنْ سَتَكُونُ لَهُ طَاعَةٌ فِيمَا تَحْتَقِرُونَ مِنْ أَعْمَالِكُمْ فَسَيَرْضَى بِهِ» .قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي بَكْرَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَجَابِرٍ وَحُذَيْمِ بْنِ عَمْرٍو السَّعْدِيِّ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَرَوَى زَائِدَةُ عَنْ شَبِيبِ بْنِ غَرْقَدَةَ نَحْوَهُ وَلاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ شَبِيبِ بْنِ غَرْقَدَةَ .
সুলাইমান ইবনু আমর (রহঃ) হতে তার বাবা আমর (রাঃ)এর সূত্রে হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি বিদায় হজ্জে জনগণের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি: এটা কোন দিন? জনগণ বলল, বড় হজ্জের দিন। তিনি বললেনঃ আজকের এ দিন ও তোমাদের এ শহর যেমন হারাম (মহাপবিত্র) অনুরূপভাবে তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের সম্ভ্রম পরস্পরের জন্য হারাম। সাবধান! অপরাধী তার অপরাধের জন্য নিজেই দায়ী। সাবধান! সন্তানের প্রতি জনকের অপরাধ এবং জনকের প্রতি সন্তানের অপরাধ বর্তায় না। জেনে রাখো, শয়তানের কোন ইবাদাত তোমাদের এ নগরে কখনো হবে না, সে এ ক্ষেত্রে নিরাশ হয়ে গেছে। তবে তোমরা যে সকল কাজকে তুচ্ছ মনে কর অতি শীঘ্রই সে সকল কাজে তার অনুসরণ করা হবে এবং সে তাতে সন্তুষ্ট হবে।
আবূ ঈসা বলেন, আবূ বাক্রা, ইবনু আব্বাস, জাবির ও হিয্ইয়াম ইবনু আমর আস-সা’দী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। যাইদাও একইরকম হাদীস শাবীব ইবনু গারকাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র শাবীব ইবনু গারকাদার সূত্রেই জেনেছি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২১৫৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিদায় হজের ভাষণের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) পবিত্র দিন ও পবিত্র শহরের উদাহরণ দিয়ে মানুষের রক্ত, সম্পদ ও সম্মানকে পরস্পরের জন্য হারাম ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ কারও জীবন, সম্পদ বা মর্যাদার ওপর অন্যায় আঘাত করা যাবে না। তিনি আরও বলেছেন, প্রত্যেক অপরাধী নিজের অপরাধের জন্য দায়ী। পিতার অপরাধ সন্তানের ওপর এবং সন্তানের অপরাধ পিতার ওপর চাপানো যাবে না। এরপর শয়তানের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। সে বড় আকারে উপাসিত হওয়ার বিষয়ে নিরাশ হলেও মানুষ যেসব কাজকে ছোট মনে করে, সেসব কাজে তার অনুসরণ হতে পারে। তাই ছোট ভুল বা পাপকে অবহেলা করা উচিত নয়। হাদিসটি ব্যক্তিগত দায়, মানুষের অধিকার এবং ছোট কাজের ব্যাপারে সতর্কতা শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হারাম।
- প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের অপরাধের জন্য নিজেই দায়ী।
- পিতা বা সন্তানের অপরাধ অন্যজনের ওপর চাপানো যাবে না।
- ছোট মনে হওয়া ভুল কাজেও শয়তানের অনুসরণ হতে পারে।
