২/৬৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৩৮ - সালাতের চাবি পবিত্রতা
নামাজ শুরু এবং শেষ করার বাক্য
সালাতের চাবি, শুরু ও শেষ: পবিত্রতা, তাকবীর ও সালাম
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৩৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৩৮
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفُضَيْلِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، طَرِيفٍ السَّعْدِيِّ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مِفْتَاحُ الصَّلاَةِ الطُّهُورُ وَتَحْرِيمُهَا التَّكْبِيرُ وَتَحْلِيلُهَا التَّسْلِيمُ وَلاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بــ"الْحَمْدُ" وَسُورَةٍ _ فِي فَرِيضَةٍ أَوْ غَيْرِهَا " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَعَائِشَةَ . قَالَ وَحَدِيثُ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ فِي هَذَا أَجْوَدُ إِسْنَادًا وَأَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ وَقَدْ كَتَبْنَاهُ فِي أَوَّلِ كِتَابِ الْوُضُوءِ . وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَمَنْ بَعْدَهُمْ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ أَنَّ تَحْرِيمَ الصَّلاَةِ التَّكْبِيرُ وَلاَ يَكُونُ الرَّجُلُ دَاخِلاً فِي الصَّلاَةِ إِلاَّ بِالتَّكْبِيرِ .قَالَ أَبُو عِيسَى وَسَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ أَبَانَ مُسْتَمْلِيَ وَكِيعٍ يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ مَهْدِيٍّ يَقُولُ لَوِ افْتَتَحَ الرَّجُلُ الصَّلاَةَ بِسَبْعِينَ اسْمًا مِنْ أَسْمَاءِ اللَّهِ وَلَمْ يُكَبِّرْ لَمْ يُجْزِهِ وَإِنْ أَحْدَثَ قَبْلَ أَنْ يُسَلِّمَ أَمَرْتُهُ أَنْ يَتَوَضَّأَ ثُمَّ يَرْجِعَ إِلَى مَكَانِهِ فَيُسَلِّمَ إِنَّمَا الأَمْرُ عَلَى وَجْهِهِ . قَالَ وَأَبُو نَضْرَةَ اسْمُهُ الْمُنْذِرُ بْنُ مَالِكِ بْنِ قُطَعَةَ .
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নামাজের চাবি হল পবিত্রতা; তার তাহরীম হল শুরুতে ‘আল্লাহু আকবার’ বলা; তার তাহলীল হল (শেষে) সালাম বলা। যে ব্যক্তি আলহামদু লিল্লাহ (সূরা ফাতিহা) ও অন্য সূরা পাঠ করেনি তার নামাজ হয়নি, চাই তা ফরজ নামাজ হোক বা সুন্নাত নামাজ।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান। এ অনুচ্ছেদ আলী ও আয়িশাহ্ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। সনদের বিচারে আলী (রাঃ)-এর হাদীস আবূ সা’ঈদের হাদীসের তুলনায় বেশি শক্তিশালী ও সহীহ যা তাহারাত অধ্যায়ে লিপিবদ্ধ করেছি। নাবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবা ও তাবিঈগণ এ হাদীসের ভিত্তিতে বলেছেন, ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নামাজ শুরু করতে হবে। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এই মত ব্যক্ত করেছেন যে আল্লাহু আকবার বলা ছাড়া কেউ নামাজের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে না। আবদুর রহমান ইবনু মাহদী বলেছেন, কোন লোক যদি আল্লাহ তা’আলার নিরানব্বই নামের যে কোন সত্তরটি নাম নিয়ে নামাজ শুরু করে কিন্তু ‘আল্লাহু আকবার’ না বলে, তাহলে তার নামাজ হবে না। আর সালাম ফিরানোর আগ মুহূর্তে যদি কারো ওযূ ছুটে যায়, তাহলে আমি তাকে হুকুম করব, সে যেন আবার ওযূ করে নিজ স্থানে এসে সালাম ফিরায়। এ হাদীসের জাহিরী আপাতদৃষ্ট অর্থই গ্রহণযোগ্য হবে। আবূ নাদরাহ’র নাম আল-মুনযির ইবনু মালিক ইবনু কুতায়াহ্।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালাতের কয়েকটি মৌলিক বিষয় একসাথে বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, সালাতের চাবি হলো পবিত্রতা। অর্থাৎ নামাজে দাঁড়ানোর আগে পবিত্রতা জরুরি। এরপর বলা হয়েছে, সালাতের তাহরীম হলো শুরুতে আল্লাহু আকবার বলা, আর তাহলীল হলো শেষে সালাম বলা। অর্থাৎ তাকবীর দিয়ে নামাজের সীমায় প্রবেশ করা হয় এবং সালামের মাধ্যমে বের হওয়া হয়। হাদিসে আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আলহামদু লিল্লাহ বা সূরা ফাতিহা এবং অন্য সূরা পাঠ করেনি, তার সালাত হয়নি—চাই তা ফরজ হোক বা সুন্নাত। এই বর্ণনা সালাতের ভেতরের পাঠ, শুরু ও শেষের প্রতি যত্ন নিতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের আগে পবিত্রতা অর্জন করা জরুরি।
- তাকবীরের মাধ্যমে নামাজ শুরু হয়।
- সালামের মাধ্যমে নামাজ শেষ হয়।
- সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পাঠের গুরুত্ব এই হাদিসে এসেছে।
