৩৫/২৯. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪৬৩ - সম্পদের বরকত ও উপরের হাতের মর্যাদা

গ্রহণকারীর চাইতে প্রদানকারী উত্তম

উপরের হাত উত্তম: সম্পদ গ্রহণে লোভ ও সন্তুষ্টির শিক্ষা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৪৬৩

حَدَّثَنَا سُوَيْدٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، وَابْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ حَكِيمَ بْنَ حِزَامٍ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَأَعْطَانِي ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَأَعْطَانِي ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَأَعْطَانِي ثُمَّ قَالَ «يَا حَكِيمُ إِنَّ هَذَا الْمَالَ خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ فَمَنْ أَخَذَهُ بِسَخَاوَةِ نَفْسٍ بُورِكَ لَهُ فِيهِ وَمَنْ أَخَذَهُ بِإِشْرَافِ نَفْسٍ لَمْ يُبَارَكْ لَهُ فِيهِ وَكَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلاَ يَشْبَعُ وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى " . فَقَالَ حَكِيمٌ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لاَ أَرْزَأُ أَحَدًا بَعْدَكَ شَيْئًا حَتَّى أُفَارِقَ الدُّنْيَا .فَكَانَ أَبُو بَكْرٍ يَدْعُو حَكِيمًا إِلَى الْعَطَاءِ فَيَأْبَى أَنْ يَقْبَلَهُ ثُمَّ إِنَّ عُمَرَ دَعَاهُ لِيُعْطِيَهُ فَأَبَى أَنْ يَقْبَلَ مِنْهُ شَيْئًا فَقَالَ عُمَرُ إِنِّي أُشْهِدُكُمْ يَا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِينَ عَلَى حَكِيمٍ أَنِّي أَعْرِضُ عَلَيْهِ حَقَّهُ مِنْ هَذَا الْفَىْءِ فَيَأْبَى أَنْ يَأْخُذَهُ . فَلَمْ يَرْزَأْ حَكِيمٌ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ شَيْئًا بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ حَتَّى تُوُفِّيَ .قَالَ هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ .

হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আমি কিছু ধন-সম্পদ চাইলাম। তিনি আমাকে (সেটা) দিলেন। আমি আবার চাইলে তিনি আবারো দিলেন। আমি আবার চাইলে তিনি আবারো দিলেন, তারপর বললেন, হে হাকীম! ধন-দৌলত হলো সবুজ-শ্যামল ও লোভনীয় বস্তু। সুতরাং যে লোক এটাকে উদার মনে গ্রহণ করবে, তার জন্যে এতেই মঙ্গল ও রাহমত প্রদান করা হবে। আর যে লোক তা লোভাতুর মনোভাব নিয়ে গ্রহণ করবে, সে তাতে বারকাত ও মঙ্গলপ্রাপ্ত হবে না। সে এমন লোকের সাথে তুলনীয়, যে খাদ্য গ্রহণ করে প্রচুর কিন্তু তৃপ্ত হয় না। উপরের হাত (দাতার হাত) নিচের (প্রার্থনাকারীর) হাত হতে উত্তম।হাকীম (রাঃ) বলেনঃ আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)! সেই মহান সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহকারে প্রেরণ করেছেন! আমি মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত আপনার পর আর কারো নিকট প্রার্থনা করে তার সম্পদে কমতি করবো না।তারপর আবূ-বাকর (রাঃ) তার আমলে হাকীম (রাঃ)-কে কিছু দেয়ার জন্য ডেকে পাঠান। কিন্তু তিনি তা নিতে অসম্মতি জানান। তারপর উমর (রাঃ)-ও তাঁকে কিছু দেয়ার জন্য ডেকে পাঠান। কিন্তু তিনি কিছু নিতে অসম্মতি প্রকাশ করেন।অতঃপর উমর (রাঃ) বলেন, হে মুসলিম সমাজ! আমি হাকীমের ব্যাপারে তোমাদেরকে সাক্ষী করছি যে, আমি তাঁকে গানীমাতের সম্পদ হতে তার প্রাপ্য উপস্থাপন করেছি, কিন্তু তিনি তা নিতে অসম্মতি জানান। তারপর হাকীম (রাঃ) মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পরে আর কারো নিকট হতে কোন কিছুই নেননি।

আবূ ঈসা বলেন, এই হাদিসটি সহীহ।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪৬৩-এর সারসংক্ষেপ

হাকীম ইবন হিযাম (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে কয়েকবার সম্পদ চেয়েছিলেন এবং প্রতিবারই তিনি তাঁকে দিয়েছিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সম্পদের প্রকৃতি বুঝিয়ে বলেন, এটি সবুজ ও আকর্ষণীয় বস্তুর মতো। যে ব্যক্তি উদার ও লোভহীন মনে তা গ্রহণ করে, তার সম্পদে বরকত দেওয়া হয়। আর যে লোভাতুর মন নিয়ে নেয়, সে এমন মানুষের মতো হয় যে অনেক খেয়েও তৃপ্ত হয় না। এই হাদিসে আরও বলা হয়েছে, দানকারীর উপরের হাত গ্রহণকারীর নিচের হাতের চেয়ে উত্তম। উপদেশটি হাকীম (রাঃ)-এর মনে গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি এরপর আর কারও কাছে কিছু চেয়ে নেননি; এমনকি আবূ বকর ও উমর (রাঃ) তাঁর প্রাপ্য দিতে চাইলেও তিনি গ্রহণ করেননি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • লোভহীন মনে গ্রহণ করা সম্পদে বরকতের কারণ হতে পারে।
  • অতিরিক্ত চাওয়ার অভ্যাস মানুষের তৃপ্তি নষ্ট করে।
  • দান করা শুধু গ্রহণ করার চেয়ে উত্তম অবস্থান।
  • ভালো উপদেশ গ্রহণ করে জীবনের আচরণ বদলে ফেলা উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন