৩৫/২৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪৬৪ - সুখ ও দুঃখ—দুই অবস্থায় ধৈর্যের পরীক্ষা
গ্রহণকারীর চাইতে প্রদানকারী উত্তম
স্বচ্ছলতার পরীক্ষা: সুখের সময়ও কেন ধৈর্য প্রয়োজন
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৪৬৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৪৬৪
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو صَفْوَانَ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، قَالَ ابْتُلِينَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ بِالضَّرَّاءِ فَصَبَرْنَا ثُمَّ ابْتُلِينَا بِالسَّرَّاءِ بَعْدَهُ فَلَمْ نَصْبِرْ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .
‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে আমাদেরকে বিপদাপদ দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। আমরা এতে ধৈর্য ধারণ করেছি। তাঁর মৃত্যুর পরে সুখ-স্বাচ্ছন্দ ও আরাম-আয়েশ দ্বারা আমাদেরকে পরীক্ষা করা হলে আমরা ধৈর্য ও সহনশীলতার স্বাক্ষর রাখতে পারিনি।
আবূ ঈসা বলেন, এই হাদিসটি হাসান।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪৬৪-এর সারসংক্ষেপ
আবদুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ) এই বর্ণনায় জীবনের দুই ধরনের পরীক্ষার কথা বলেছেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে থাকার সময় তাঁরা বিপদ, কষ্ট ও অভাবের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তখন তাঁরা ধৈর্য ধারণ করতে পেরেছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহর মৃত্যুর পরে যখন সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও আরাম-আয়েশ এলো, তখন সেই অবস্থার পরীক্ষায় তাঁরা আগের মতো ধৈর্য রাখতে পারেননি। হাদিসটি দেখায়, পরীক্ষা শুধু কষ্টের মাধ্যমে আসে না। স্বচ্ছলতা, সুযোগ ও আরামও মানুষের মন ও আচরণ যাচাই করে। অভাবের সময় মানুষ আল্লাহর দিকে মনোযোগী থাকতে পারে, কিন্তু সম্পদ ও আরাম এলে দায়িত্ব ভুলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সুখের সময় আত্মসংযম, কৃতজ্ঞতা এবং সঠিক পথে স্থির থাকাও ধৈর্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিপদ ও স্বচ্ছলতা—উভয় অবস্থাই মানুষের জন্য পরীক্ষা।
- কষ্টে ধৈর্য ধরার মতো সুখের সময় সংযত থাকাও জরুরি।
- আরাম-আয়েশ এলে দায়িত্ব ও মূল্যবোধ ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
- নিজের দুর্বলতা স্বীকার করা আত্মসংশোধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
