৩৫/৫৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৫১২ - কৃতজ্ঞ ও ধৈর্যশীল হওয়ার দুটি অভ্যাস
দ্বীনের ব্যাপারে উচ্চশ্রেণীর এবং দুনিয়াবী ব্যাপারে নিম্নশ্রেণীর লোকের প্রতি দৃষ্টিপাত করা
কৃতজ্ঞ ও ধৈর্যশীল হওয়ার জন্য দ্বীন ও দুনিয়াকে যেভাবে দেখবেন
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৫১২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৫১২
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنِ الْمُثَنَّى بْنِ الصَّبَّاحِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «خَصْلَتَانِ مَنْ كَانَتَا فِيهِ كَتَبَهُ اللَّهُ شَاكِرًا صَابِرًا وَمَنْ لَمْ تَكُونَا فِيهِ لَمْ يَكْتُبْهُ اللَّهُ شَاكِرًا وَلاَ صَابِرًا مَنْ نَظَرَ فِي دِينِهِ إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَهُ فَاقْتَدَى بِهِ وَنَظَرَ فِي دُنْيَاهُ إِلَى مَنْ هُوَ دُونَهُ فَحَمِدَ اللَّهَ عَلَى مَا فَضَّلَهُ بِهِ عَلَيْهِ كَتَبَهُ اللَّهُ شَاكِرًا صَابِرًا وَمَنْ نَظَرَ فِي دِينِهِ إِلَى مَنْ هُوَ دُونَهُ وَنَظَرَ فِي دُنْيَاهُ إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَهُ فَأَسِفَ عَلَى مَا فَاتَهُ مِنْهُ لَمْ يَكْتُبْهُ اللَّهُ شَاكِرًا وَلاَ صَابِرًا».أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ حِزَامٍ الرَّجُلُ الصَّالِحُ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا الْمُثَنَّى بْنُ الصَّبَّاحِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ نَحْوَهُ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَلَمْ يَذْكُرْ سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ فِي حَدِيثِهِ عَنْ أَبِيهِ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যার মধ্যে দু’টি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, আল্লাহ্ তা’আলা কৃতজ্ঞ ও ধৈর্যশীলদের মধ্যে তার নাম লিখে রাখেন। আর যার মধ্যে এ দু’টি বৈশিষ্ট্য নেই, আল্লাহ্ তা’আলা কৃতজ্ঞ ও ধৈর্যশীলদের দলে তার নাম লিখেন না।যে ব্যক্তি ধর্মীয় ব্যাপারে তার চাইতে উঁচু স্তরের লোকের দিকে দেখে এবং তার অনুসরণ করে; আর পার্থিব ব্যাপারে তার চাইতে নীচু স্তরের লোকের দিকে দেখে এবং আল্লাহ্ তা’আলা তাকে সে লোকের উপর যে মর্যাদা ও নি’আমাত দান করেছেন তার শুকরিয়া আদায় করে এবং আল্লাহ্ তা’আলার প্রশংসা করে, আল্লাহ্ তা’আলা তার নাম কৃতজ্ঞ ও ধৈর্যশীলদের দলে লিখে রাখেন। আর যে ব্যক্তি ধর্মীয় ব্যাপারে তার চাইতে নিম্নমানের লোকের দিকে এবং পার্থিব ব্যাপারে তার চাইতে উঁচু স্তরের লোকের দিকে দেখে এবং তার কাছে পার্থিব সামগ্রী না থাকার কারণে আফসোস করে, আল্লাহ্ তা’আলা তার নাম কৃতজ্ঞ ও ধৈর্যশীল বান্দাদের দলে লিখেন না।
মূসা ইবনু হিশাম-‘আলী ইবনু ইসহাক হতে তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক হতে তিনি মুসান্না ইবনুস সাব্বাহ হতে তিনি ‘আমর ইবনু শু’আইব (রহঃ) হতে তিনি তাঁর পিতা হতে স্বীয় দাদার সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে উপরোক্ত হাদিসের সমার্থবোধক হাদিস বর্ণনা করেছেন। এ হাদিসটি হাসান ও গারীব। সুওয়াইদ ইবনু নাসর তার সনদসূত্রে “তার পিতা থেকে” কথাটুকু উল্লেখ করেননি। য’ঈফ, য’ঈফাহ্- হাঃ নং- ৬৩৩, ১৯২৪
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৫১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো শুকর ও ধৈর্য। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) দুটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন। দ্বীনের বিষয়ে নিজের চেয়ে এগিয়ে থাকা ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে তার ভালো কাজ অনুসরণ করতে হবে। আবার দুনিয়ার সম্পদ ও সুযোগের বিষয়ে নিজের চেয়ে কম পাওয়া মানুষের দিকে তাকাতে হবে। এতে আল্লাহ যে নিয়ামত দিয়েছেন, তা বুঝে তাঁর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করা সহজ হয়। হাদিসে এমন ব্যক্তিকে কৃতজ্ঞ ও ধৈর্যশীলদের মধ্যে লেখার কথা বলা হয়েছে। বিপরীতভাবে, দ্বীনের বিষয়ে পিছিয়ে থাকা মানুষের সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়া এবং দুনিয়ার বিষয়ে ধনী মানুষের দিকে তাকিয়ে না-পাওয়ার আফসোস করা ক্ষতিকর মনোভাব। এতে বর্তমান নিয়ামত ছোট মনে হতে পারে। তাই দ্বীনি উন্নতির জন্য ভালো উদাহরণ অনুসরণ করা এবং পার্থিব জীবনে কৃতজ্ঞতার দৃষ্টি রাখা এই হাদিসের মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দ্বীনি কাজে নিজের চেয়ে এগিয়ে থাকা মানুষের ভালো দিক অনুসরণ করা উচিত।
- পার্থিব বিষয়ে নিজের চেয়ে কম পাওয়া মানুষের দিকে তাকালে কৃতজ্ঞতা বাড়ে।
- শুধু না-পাওয়া সম্পদের দিকে তাকিয়ে আফসোস করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
- আল্লাহর দেওয়া মর্যাদা ও নিয়ামতের জন্য প্রশংসা করা দরকার।
