৩৫/৫৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৫১৪ - ঈমানি অবস্থার ওঠানামা ও জীবনের ভারসাম্য
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে সাহাবীগণের এক অবস্থা এবং পরে অন্য অবস্থা
ঈমানি অনুভূতির ওঠানামা: হানজালা (রাঃ)-এর হাদিসের শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৫১৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৫১৪
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ هِلاَلٍ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا سَيَّارٌ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ الْمَعْنَى، وَاحِدٌ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ حَنْظَلَةَ الأُسَيْدِيِّ، وَكَانَ، مِنْ كُتَّابِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ مَرَّ بِأَبِي بَكْرٍ وَهُوَ يَبْكِي فَقَالَ مَا لَكَ يَا حَنْظَلَةُ قَالَ نَافَقَ حَنْظَلَةُ يَا أَبَا بَكْرٍ نَكُونُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ يُذَكِّرُنَا بِالنَّارِ وَالْجَنَّةِ كَأَنَّا رَأْىَ عَيْنٍ فَإِذَا رَجَعْنَا إِلَى الأَزْوَاجِ وَالضَّيْعَةِ نَسِينَا كَثِيرًا . قَالَ فَوَاللَّهِ إِنَّا لَكَذَلِكَ انْطَلِقْ بِنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ . فَانْطَلَقْنَا فَلَمَّا رَآهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَالَ " مَا لَكَ يَا حَنْظَلَةُ " . قَالَ نَافَقَ حَنْظَلَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ نَكُونُ عِنْدَكَ تُذَكِّرُنَا بِالنَّارِ وَالْجَنَّةِ كَأَنَّا رَأْىَ عَيْنٍ فَإِذَا رَجَعْنَا عَافَسْنَا الأَزْوَاجَ وَالضَّيْعَةَ وَنَسِينَا كَثِيرًا . قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لَوْ تَدُومُونَ عَلَى الْحَالِ الَّذِي تَقُومُونَ بِهَا مِنْ عِنْدِي لَصَافَحَتْكُمُ الْمَلاَئِكَةُ فِي مَجَالِسِكُمْ وَفِي طُرُقِكُمْ وَعَلَى فُرُشِكُمْ وَلَكِنْ يَا حَنْظَلَةُ سَاعَةً وَسَاعَةً وَسَاعَةً " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.
হানযালা আল-উসাইদী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)–এর সচিবগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি কোন একদিন কাঁদতে কাঁদতে আবূ বাকর (রাঃ) এর সম্মুখ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আবূ বাকর (রাঃ) তাঁকে প্রশ্ন করেন, হে হানযালা! তোমার কি হয়েছে? তিনি বললেন, হে আবূ বাকর! হানযালা তো মুনাফিক হয়ে গেছে। আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মাজলিসে অবস্থান করি এবং তিনি আমাদেরকে জান্নাত-জাহান্নামের স্মরণে নাসীহাত করেন, তখন মনে হয় যেন আমরা সেগুলো স্বচক্ষে দেখছি। কিন্তু বাড়ি ফিরে আসার পর স্ত্রী-পুত্র-পরিজন ও বিষয়-সম্পদের কাজে ব্যাকুল হয়ে পড়ি এবং অনেক কিছুই ভুলে যাই।আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমাদেরও তো এই অবস্থা। চলো আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট যাই। তারপর আমরা সেদিকে যাত্রা শুরু করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে দেখে প্রশ্ন করেন, হে হানযালা! কি সংবাদ? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! হানযালা তো মুনাফিক হয়ে গেছে। আমরা যখন আপনার নিকটে থাকি আর আপনি জান্নাত-জাহান্নামের নাসীহাত করেন, তখন মনে হয় যেন আমরা সেগুলো প্রত্যক্ষভাবে দেখছি। পরে যখন বাড়ি ফিরে গিয়ে স্ত্রী-পুত্র-পরিজন ও বিষয়-সম্পদের কাজে ব্যাকুল হয়ে পড়ি তখন অনেক কিছুই ভুলে যাই।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা আমার নিকট হতে যে অবস্থায় ফিরে যাও, যদি সবসময় সেই অবস্থায় থাকতে তাহলে অবশ্যই তোমাদের বৈঠকে, বিছানায় এবং পথে-ঘাটে ফেরেশতারা তোমাদের সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করতো। হে হানযালা! সেই অবস্থা মাঝে মধ্যে হয়ে থাকে।
আবূ ‘ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৫১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ঈমানি অবস্থার পরিবর্তন। হানজালা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে জান্নাত ও জাহান্নামের নসিহত শুনলে গভীরভাবে প্রভাবিত হতেন। কিন্তু বাড়িতে ফিরে স্ত্রী, সন্তান ও সম্পদের কাজে ব্যস্ত হলে সেই অনুভূতির অনেকটাই ভুলে যেতেন। এতে তিনি নিজেকে মুনাফিক মনে করে কাঁদছিলেন। আবু বকর (রাঃ)-এরও একই অভিজ্ঞতা ছিল। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বুঝিয়ে দেন, তাঁর কাছে থাকার সময়ের অবস্থা যদি সবসময় একইভাবে থাকত, তাহলে ফেরেশতারা তাদের বৈঠক, বিছানা ও পথে করমর্দন করত। এরপর তিনি বলেন, এই অবস্থা মাঝে মাঝে হয়। হাদিসটি দেখায়, মানুষের মন সবসময় একই মাত্রায় থাকে না। দ্বীনি নসিহতে গভীর অনুভূতি এবং সংসারের কাজে স্বাভাবিক ব্যস্ততা—দুটিই মানুষের জীবনে আসতে পারে। তাই পরিবর্তন দেখেই নিজেকে মুনাফিক ভাবা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের ঈমানি অনুভূতি সবসময় একই মাত্রায় থাকে না।
- দ্বীনি নসিহতের পর পারিবারিক কাজে ব্যস্ত হওয়াকে সরাসরি মুনাফিকি ভাবা উচিত নয়।
- নিজের মনের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ হলে জ্ঞানী মানুষের কাছে জিজ্ঞাসা করা ভালো।
- দ্বীনি স্মরণ ও দৈনন্দিন দায়িত্বের মধ্যে স্বাভাবিক ভারসাম্য রয়েছে।
