৩৯/৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬৬২ - জেনে মিথ্যা হাদিস বর্ণনার দায়
যে ব্যক্তি মিথ্যা হাদিস বর্ণনা করে
মিথ্যা হাদিস বর্ণনার দায়: জেনেশুনে প্রচার কেন বিপজ্জনক
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৬৬২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৬৬২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ أَبِي شَبِيبٍ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ " مَنْ حَدَّثَ عَنِّي حَدِيثًا وَهُوَ يَرَى أَنَّهُ كَذِبٌ فَهُوَ أَحَدُ الْكَاذِبِينَ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَسَمُرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .وَرَوَى شُعْبَةُ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ سَمُرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ هَذَا الْحَدِيثَ وَرَوَى الأَعْمَشُ وَابْنُ أَبِي لَيْلَى عَنِ الْحَكَمِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ وَكَأَنَّ حَدِيثَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ سَمُرَةَ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ أَصَحُّ . قَالَ سَأَلْتُ أَبَا مُحَمَّدٍ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ حَدِيثِ النَّبِيِّ ﷺ " مَنْ حَدَّثَ عَنِّي حَدِيثًا وَهُوَ يَرَى أَنَّهُ كَذِبٌ فَهُوَ أَحَدُ الْكَاذِبِينَ " . قُلْتُ لَهُ مَنْ رَوَى حَدِيثًا وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّ إِسْنَادَهُ خَطَأٌ أَيَخَافُ أَنْ يَكُونَ قَدْ دَخَلَ فِي حَدِيثِ النَّبِيِّ ﷺ أَوْ إِذَا رَوَى النَّاسُ حَدِيثًا مُرْسَلاً فَأَسْنَدَهُ بَعْضُهُمْ أَوْ قَلَبَ إِسْنَادَهُ يَكُونُ قَدْ دَخَلَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ . فَقَالَ لاَ إِنَّمَا مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ إِذَا رَوَى الرَّجُلُ حَدِيثًا وَلاَ يُعْرَفُ لِذَلِكَ الْحَدِيثِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَصْلٌ فَحَدَّثَ بِهِ فَأَخَافُ أَنْ يَكُونَ قَدْ دَخَلَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ .
মুগীরাহ্ ইবনু শু'বাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমার পক্ষ হতে যে লোক কোন হাদীস বর্ণনা করে অথচ সে জানে যে, তা মিথ্যা, সে মিথ্যাবাদীদের একজন।
‘আলী ইবনু আবী তালিব ও সামুরাহ্ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি আল-হাকাম-‘আবদুর রাহমান ইবনু আবূ লাইলা হতে, তিনি সামুরা (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এই সূত্রে শু‘বাহ্ (রহঃ) বর্ণনা করেছেন। আ‘মাশ ও ইবনু আবী লাইলা (রহঃ) আল-হাকাম হতে, তিনি ‘আবদুর রাহমান ইবনু আবী লাইলা হতে, তিনি ‘আলী (রাঃ) হতে, তিনি নাবী (ﷺ) হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। সামুরাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে ‘আবদুর রাহমান ইবনু আবী লাইলা বর্ণিত হাদীসটি মুহাদ্দিসগণের মতে অনেক বেশি সহীহ। আবূ ‘ঈসা বলেন, আমি আবূ মুহাম্মাদ ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুর রাহমান (রহঃ)-কে নাবী (ﷺ)-এর হাদীস “ যে ব্যক্তি আমার পক্ষ হতে কোন হাদীস বর্ণনা করে অথচ সে জানে যে, তা মিথ্যা, সে মিথ্যাবাদীদের একজন” সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। আমি বললাম, যদি কোন ব্যক্তি হাদীস বর্ণনা করে এবং জানে যে, এর সনদ ত্রুটিপূর্ণ তবে সে কি এ হাদীস মোতাবেক মিথ্যুক বলে পরিগণিত হবে? অথবা যদি কোন ব্যক্তি মুরসাল হাদীসকে মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করে কিংবা সনদে উল্টাপাল্টা করে তাহলে সেও কি উক্ত হাদীসের আওতাভুক্ত বলে পরিগণিত হবে? ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুর রাহমান বলেন, না, বরং এ হাদীসের তাৎপর্য হলঃ যে এমন হাদীস বর্ণনা করে, যে সম্পর্কে সে জানে না, যে, এটা নাবী (ﷺ)-এর হাদীস কি-না। আমি আশংকা করি যে, সে নাবী (ﷺ)-এর উক্ত হাদীসের আওতাভুক্ত হবে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم জানিয়েছেন, কেউ তাঁর পক্ষ থেকে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করল, যা সে মিথ্যা বলে জানে, তাহলে সে মিথ্যাবাদীদের একজন। এখানে শুধু মিথ্যা কথা বানানোর বিষয় নয়; জানা মিথ্যা কথাকে আবার প্রচার করাও দায়ের মধ্যে পড়ে। তাই কোনো পোস্ট, বই, বক্তৃতা বা বার্তায় “হাদিসে আছে” লেখা দেখলেই যাচাই ছাড়া তা ছড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, মিথ্যা হাদিস প্রচার বন্ধ করতে প্রত্যেক বর্ণনাকারী ও শেয়ারকারীর দায়িত্ব আছে। সত্যতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে নিশ্চিত ভাষা ব্যবহার না করাই নিরাপদ। কোনো বর্ণনার নির্ভরযোগ্য ভিত্তি জানা না গেলে সেটিকে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কথা হিসেবে চালানো উচিত নয়। এভাবে হাদিস বর্ণনায় সতর্কতা, সত্যবাদিতা ও দায়িত্ববোধ বজায় থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মিথ্যা বলে জানা বর্ণনা নবী صلى الله عليه وسلم-এর নামে প্রচার করলে প্রচারকারীও দায়ী হয়।
- শুধু বানানো নয়, জেনেশুনে মিথ্যা হাদিস ছড়ানোও কঠিন অপরাধ।
- হাদিস শেয়ার করার আগে তার নির্ভরযোগ্য ভিত্তি আছে কি না দেখা দরকার।
- সন্দেহ থাকলে নবীজির নামে নিশ্চিত বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
