৩৯/১২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬৬৮ - লিখে হাদিস সংরক্ষণে আবদুল্লাহ ইবন আমর
হাদিস লিপিবদ্ধ করার সম্মতি প্রসঙ্গে
হাদিস লিখে সংরক্ষণ: আবদুল্লাহ ইবন আমর রাঃ-এর দৃষ্টান্ত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৬৬৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৬৬৮
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَخِيهِ، وَهُوَ هَمَّامُ بْنُ مُنَبِّهٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ لَيْسَ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَكْثَرَ حَدِيثًا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مِنِّي إِلاَّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو فَإِنَّهُ كَانَ يَكْتُبُ وَكُنْتُ لاَ أَكْتُبُ.قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَوَهْبُ بْنُ مُنَبِّهٍ عَنْ أَخِيهِ هُوَ هَمَّامُ بْنُ مُنَبِّهٍ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীদের মধ্যে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র (রাঃ) ব্যতীত আমার চাইতে বেশি তাঁর হাদীস সংরক্ষণকারী কেউ নেই। কারণ তিনি হাদীস লিখতেন, আর আমি লিখতাম না।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ওয়াহ্ব ইবনু মুনাব্বিহ তাঁর ভাই হতে বর্ণনা করেন, যার নাম হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬৬৮-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবু হুরায়রা রাঃ নিজের ও অন্য এক সাহাবির হাদিস সংরক্ষণের পদ্ধতির পার্থক্য বলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সাহাবিদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবন আমর রাঃ ছাড়া আর কেউ তাঁর চেয়ে বেশি হাদিস সংরক্ষণকারী ছিলেন না। কারণ আবদুল্লাহ ইবন আমর রাঃ হাদিস লিখে রাখতেন, আর আবু হুরায়রা রাঃ লিখতেন না। এখানে লিখিত নোটের বাস্তব উপকার স্পষ্ট হয়েছে। নিয়মিত লেখা তথ্য ধরে রাখতে, পরে মনে করতে এবং বর্ণনা সংরক্ষণে সাহায্য করে। একই সঙ্গে আবু হুরায়রা রাঃ নিজের অবস্থাও খোলামেলাভাবে বলেছেন; এতে জ্ঞানের ক্ষেত্রে সততা ও অন্যের বিশেষ যোগ্যতা স্বীকার করার শিক্ষা আছে। হাদিস লিখে সংরক্ষণ, স্মৃতি সহায়তা এবং জ্ঞান বহন—এই তিনটি বিষয় বর্ণনাটির কেন্দ্রীয় বার্তা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাদিস লিখে রাখা দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণে সহায়ক হতে পারে।
- আবদুল্লাহ ইবন আমর রাঃ লিখতেন বলে বেশি হাদিস সংরক্ষণ করেছিলেন।
- নিজের সীমাবদ্ধতা ও অন্যের বিশেষ যোগ্যতা স্বীকার করা জ্ঞানচর্চার ভালো গুণ।
- শোনা জ্ঞান হারিয়ে না ফেলতে নিয়মিত নোট রাখা কার্যকর অভ্যাস।
