৩৯/১৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬৭৩ - অন্যায় হত্যার প্রচলনের ধারাবাহিক গুনাহ
সৎ কাজের পথপ্রদর্শক উক্ত কাজ সম্পাদনকারীর সমতুল্য
অন্যায় হত্যার গুনাহ: মন্দ পথ চালুর ভয়াবহ দায়
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৬৭৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৬৭৩
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَا مِنْ نَفْسٍ تُقْتَلُ ظُلْمًا إِلاَّ كَانَ عَلَى ابْنِ آدَمَ كِفْلٌ مِنْ دَمِهَا وَذَلِكَ لأَنَّهُ أَوَّلُ مَنْ أَسَنَّ الْقَتْلَ " . وَقَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ " سَنَّ الْقَتْلَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ قَالَ " سَنَّ الْقَتْلَ " .
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অন্যায়ভাবে যে কোন লোককেই হত্যা করা হয় তার খুনের (গুনাহর) একটি অংশ আদমের ছেলের (কাবীল) উপর বর্তাবে। কেননা সর্বপ্রথম সে-ই (প্রাণ) হত্যার প্রচলন করে।
‘আবদুর রায্যাকের বর্ণনায়, “আসান্নাল কাতলা” স্থলে “সান্নাল কাতলা” বর্ণিত আছে। উক্ত বর্ণনাটি ইবনু আবী ‘উমার সুফ্ইয়ান ইবনু ‘উয়াইনাহ্ হতে, তিনি আ‘মাশ হতে এই সানাদে বর্ণনা করেছেন। আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم জানিয়েছেন, অন্যায়ভাবে যখনই কোনো মানুষকে হত্যা করা হয়, তার রক্তপাতের গুনাহের একটি অংশ আদমের সেই ছেলের ওপর বর্তায়, যে প্রথম হত্যার প্রচলন করেছিল। হাদিসটির মূল শিক্ষা শুধু একটি পুরোনো ঘটনার উল্লেখ নয়; বরং মন্দ কাজের পথ খুলে দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি দায় বোঝানো। যে ব্যক্তি অন্যায় হত্যার শুরু করেছিল, তার পরে একই অন্যায় চলতে থাকায় সে সেই ধারার গুনাহের অংশ বহন করে। এতে বোঝা যায়, সহিংসতা শুরু করা, তাকে স্বাভাবিক করা বা অন্যদের জন্য মন্দ নজির স্থাপন করা খুব গুরুতর বিষয়। হাদিসটি অন্যায় প্রাণহানির ভয়াবহতা এবং প্রথম মন্দ উদাহরণের প্রভাব নিয়ে সতর্ক করে। তবে প্রতিটি হত্যাকারীর নিজস্ব দায়ও থাকে; বর্ণনায় কারও গুনাহ কমে যাওয়ার কথা বলা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যায়ভাবে প্রাণ নেওয়া গুরুতর গুনাহ।
- মন্দ কাজের প্রথম প্রচলনকারী পরবর্তী অনুকরণকারীদের গুনাহের অংশ বহন করে।
- সহিংসতার খারাপ নজির সমাজে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ছড়াতে পারে।
- অন্যের দায়ের অংশ প্রথম প্রচলনকারীর ওপর গেলেও কাজকারীর নিজের দায় থাকে।
