৩৯/১৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬৭৬ - সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা ও বিভেদ থেকে বাঁচা
সুন্নতকে আঁকড়ে ধরা এবং বিদ‘আত পরিহার করা
সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা: বিভেদের সময়ে নবী صلى الله عليه وسلم-এর নসিহত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৬৭৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৬৭৬
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ بَحِيرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو السُّلَمِيِّ، عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ، قَالَ وَعَظَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَوْمًا بَعْدَ صَلاَةِ الْغَدَاةِ مَوْعِظَةً بَلِيغَةً ذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ فَقَالَ رَجُلٌ إِنَّ هَذِهِ مَوْعِظَةُ مُوَدِّعٍ فَمَاذَا تَعْهَدُ إِلَيْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ «أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ عَبْدٌ حَبَشِيٌّ فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ يَرَى اخْتِلاَفًا كَثِيرًا وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ فَإِنَّهَا ضَلاَلَةٌ فَمَنْ أَدْرَكَ ذَلِكَ مِنْكُمْ فَعَلَيْهِ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .وَقَدْ رَوَى ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو السُّلَمِيِّ، عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ نَحْوَ هَذَا . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ وَغَيْرُ وَاحِدٍ قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَمْرٍو السُّلَمِيِّ عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ نَحْوَهُ وَالْعِرْبَاضُ بْنُ سَارِيَةَ يُكْنَى أَبَا نَجِيحٍ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ حُجْرِ بْنِ حُجْرٍ عَنْ عِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ نَحْوَهُ .
'ইরবায ইবনু সারিয়াহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন ফজরের নামাজের পর আমাদেরকে মর্মস্পর্শী ওয়াজ শুনালেন, যাতে (আমাদের) সকলের চোখে পানি এলো এবং অন্তর কেপে উঠলো। কোন একজন বলল, এ তো বিদায়ী ব্যক্তির নাসীহাতের মতো। হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এখন আপনি আমাদেরকে কি উপদেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করার এবং (নেতার আদেশ) শ্রবণ ও মান্য করার উপদেশ দিচ্ছি, যদিও সে (নেতা) হাবশী ক্রীতদাস হয়ে থাকে।তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তারা বহু বিভেদ-বিসম্বাদ প্রত্যক্ষ করবে। তোমরা নতুন নতুন বিষয় আবিষ্কার করা হতে দূরে থাকবে। কেননা তা গুমরাহী। তোমাদের মধ্যে কেউ সে যুগ পেলে সে যেন আমার সুন্নাতে ও সৎপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদ্বীনের সুন্নাতে দৃঢ়ভাবে অবিচল থাকে। তোমরা এসব সুন্নাতকে চোয়ালের দাঁতের সাহায্যে শক্তভাবে আঁকড়ে ধর।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি সাওর ইবনু ইয়াযীদ-খালিদ ইবনু মা‘দান হতে, তিনি ‘আবদুর রাহমান ইবনু ‘আম্র আস-সুলামী হতে, তিনি আল-ইরবায ইবনু সারিয়াহ্ (রাঃ) হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণনা করেছেন। আল-হাসান ইবনু ‘আলী আল-খাল্লাল আরো অনেকে আবূ আসিম হতে, তিনি সাওর ইবনু ইয়াযীদ হতে, তিনি খালিদ ইবনু মা‘দান হতে, তিনি ‘আবদুর রাহমান ইবনু ‘আম্র আস-সুলামী হতে, তিনি আল-ইরবায ইবনু সারিয়াহ্ (রাঃ) হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের মতো হাদীস বর্ণনা করেছেন। আল-ইরবায (রাঃ)-এর উপনাম আবূ নাজীহ। এ হাদীস হুজ্র ইবনু হুজ্র-ইরবায (রাঃ) হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রে একই রকম বর্ণিত হয়েছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৬৭৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ফজরের নামাজের পর এমন গভীর নসিহত করেন, যাতে সাহাবিদের চোখে পানি আসে এবং অন্তর কেঁপে ওঠে। বিদায়ী উপদেশের মতো মনে হওয়ায় তাঁরা করণীয় জানতে চান। নবী صلى الله عليه وسلم প্রথমে আল্লাহকে ভয় করতে বলেন। এরপর নেতৃত্বের কথা শুনতে ও মানতে উপদেশ দেন, যদিও নেতা হাবশি ক্রীতদাস হন। তিনি জানান, পরবর্তী সময়ে বহু মতভেদ দেখা যাবে। তখন নতুন উদ্ভাবিত গোমরাহির বিষয় থেকে দূরে থাকতে এবং তাঁর সুন্নাহ ও সৎপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদিনের সুন্নাহ শক্তভাবে ধরে রাখতে বলেন। “চোয়ালের দাঁত দিয়ে আঁকড়ে ধরো” কথাটি দৃঢ়তার ছবি তুলে ধরে। হাদিসটির শিক্ষা হলো—বিভেদের সময়ে আবেগে নতুন পথ বানানো নয়; তাকওয়া, শৃঙ্খলা এবং প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহর প্রতি স্থির থাকা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জীবনের সিদ্ধান্তে আল্লাহভীতি ধরে রাখার উপদেশ দেওয়া হয়েছে।
- বৈধ নেতৃত্বের কথা শোনা ও মানার ওপর গুরুত্ব এসেছে।
- বিভেদের সময়ে নতুন গোমরাহির বিষয় থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم ও খুলাফায়ে রাশিদিনের সুন্নাহ দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে।
