৪১/৭০. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮৪৭ - সত্যের পক্ষে কবিতার শক্তিশালী প্রভাব

কবিতা আবৃত্তি প্রসঙ্গে

সত্যের পক্ষে কবিতা তীরের চেয়েও দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৮৪৭

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ دَخَلَ مَكَّةَ فِي عُمْرَةِ الْقَضَاءِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ بَيْنَ يَدَيْهِ يَمْشِي وَهُوَ يَقُولُ خَلُّوا بَنِي الْكُفَّارِ عَنْ سَبِيلِهِ الْيَوْمَ نَضْرِبْكُمْ عَلَى تَنْزِيلِهِ ضَرْبًا يُزِيلُ الْهَامَ عَنْ مَقِيلِهِ وَيُذْهِلُ الْخَلِيلَ عَنْ خَلِيلِهِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ يَا ابْنَ رَوَاحَةَ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَفِي حَرَمِ اللَّهِ تَقُولُ الشِّعْرَ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ " خَلِّ عَنْهُ يَا عُمَرُ فَلَهِيَ أَسْرَعُ فِيهِمْ مِنْ نَضْحِ النَّبْلِ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَقَدْ رَوَى عَبْدُ الرَّزَّاقِ هَذَا الْحَدِيثَ أَيْضًا عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ نَحْوَ هَذَا وَرُوِيَ فِي غَيْرِ هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ دَخَلَ مَكَّةَ فِي عُمْرَةِ الْقَضَاءِ وَكَعْبُ بْنُ مَالِكٍ بَيْنَ يَدَيْهِ وَهَذَا أَصَحُّ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْحَدِيثِ لأَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ قُتِلَ يَوْمَ مُؤْتَةَ وَإِنَّمَا كَانَتْ عُمْرَةُ الْقَضَاءِ بَعْدَ ذَلِكَ .

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) যখন কাযা উমরা আদায়ের উদ্দেশ্যে মাক্কায় প্রবেশ করলেন, তখন কবি ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) তাঁর সামনে সামনে এ কবিতা বলে হেঁটে যাচ্ছিলেন : হে বানী কুফ্‌ফার! ছেড়ে দে তাঁর চলার পথ। আজ মারবো তোদের কোরআনের ভাষায় মারার মতো। কল্লা উড়ে যাবে তোদের গর্দান হতে, বন্ধু হতে বন্ধু হবে পৃথক তাতে”। ‘উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন, হে ইবনু রাওয়াহা! তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর সামনে আল্লাহ তা‘আলার হেরেমের মধ্যে কবিতা বলছ? নবী (ﷺ) তাঁকে বললেনঃ হে ‘উমর! তাঁকে বলতে দাও। কেননা এই কবিতা তীরের চাইতেও দ্রুতগতিতে গিয়ে তাদেরকে (কাফিরদের) আহতকারী।

আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ, উক্ত সূত্রে গারীব। এ হাদীসটি মা‘মার-যুহরী হতে, তিনি আনাস (রাঃ) হতে এই সূত্রে ‘আবদুর রাযযাকও একই রকম বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি ব্যতীতও অপর হাদীসে বর্ণিত আছে : নবী (ﷺ) কাযা ‘উমরাহ্‌ আদায়ের উদ্দেশ্যে মাক্কায় প্রবেশ করলেন এবং কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) তাঁর সামনে কবিতা আবৃত্তি করছিলেন”। এ বর্ণনাটি কিছু মুহাদ্দিসগণের নিকট অনেক বেশী সহীহ। কেননা ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) মুতার যুদ্ধে শহীদ হন। আর এ ‘উমরাতুল কাযার ঘটনা ছিল সে যুদ্ধের অনেক পরে।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮৪৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে কাজা উমরার সময় মক্কায় প্রবেশের একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। একজন সাহাবি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সামনে সামনে কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। কবিতার ভাষা ছিল বিরোধীদের উদ্দেশে দৃঢ় ও জবাবমূলক। উমর রাঃ প্রশ্ন করেন, আল্লাহর হারামে রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর সামনে কবিতা বলা হচ্ছে কেন। তখন নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে কবিকে বাধা না দিতে বলেন। তিনি জানান, এই কবিতা বিরোধীদের মনে তীরের চেয়েও দ্রুত আঘাত বা প্রভাব সৃষ্টি করে। হাদিসটি দেখায়, উপযুক্ত সময়ে সত্যের পক্ষে শক্তিশালী ভাষা বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখানে সব কবিতা বা সব কঠোর ভাষার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ঘটনাটি ছিল রাসূল صلى الله عليه وسلم ও মুসলিমদের বিরোধিতাকারীদের জবাব দেওয়ার নির্দিষ্ট পরিস্থিতি। তাই এর শিক্ষা সেই সীমার মধ্যেই বুঝতে হবে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সত্যের পক্ষে বলা কবিতা বিরোধীদের মনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
  • উমর রাঃ প্রশ্ন করলে নবী صلى الله عليه وسلم কবিকে আবৃত্তি চালিয়ে যেতে দেন।
  • হাদিসটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জবাবমূলক কবিতার কার্যকারিতা দেখায়।
  • সব সময় বা সব ধরনের কঠোর কবিতাকে এই ঘটনা দিয়ে সমর্থন করা যায় না।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন