৪২/৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮৯০ - সূরা মুলক ও কবরের আজাব থেকে নাজাত
সূরা হা-মীম আদ-দুখানের ফজিলত
সূরা মুলকের ফজিলত: কবরের আজাব থেকে নাজাতের বর্ণনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৮৯০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৮৯০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ النُّكْرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ ضَرَبَ بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ خِبَاءَهُ عَلَى قَبْرٍ وَهُوَ لاَ يَحْسِبُ أَنَّهُ قَبْرٌ فَإِذَا فِيهِ إِنْسَانٌ يَقْرَأُ سُورَةَ تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ حَتَّى خَتَمَهَا فَأَتَى النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي ضَرَبْتُ خِبَائِي عَلَى قَبْرٍ وَأَنَا لاَ أَحْسِبُ أَنَّهُ قَبْرٌ فَإِذَا فِيهِ إِنْسَانٌ يَقْرَأُ سُورَةَ تَبَارَكَ الْمُلْكُ حَتَّى خَتَمَهَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «هِيَ الْمَانِعَةُ هِيَ الْمُنْجِيَةُ تُنْجِيهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ কোন এক সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এক সাহাবী একটি কবরের উপর তাঁর তাঁবু খাটান। তিনি জানতেন না যে, তা একটি কবর। তিনি হঠাৎ বুঝতে পারেন যে, কবরে একটি লোক সূরা আল-মুলক পাঠ করছে। সে তা পাঠ করে সমাপ্ত করলো। তারপর তিনি নবী (ﷺ)-এর নিকটে এসে বললেনঃ হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি একটি কবরের উপর তাঁবু খাটাই। আমি জানতাম না যে, তা কবর। হঠাৎ বুঝতে পারি যে, একটি লোক সূরা আল-মুলক পাঠ করছে এবং তা সমাপ্ত করেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ সূরাটি প্রতিরোধকারী নাজাত দানকারী। এটা কবরের আযাব হতে তিলাওয়াতকারীকে নাজাত দান করে।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি এ সূত্রে হাসান গারীব। এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। হুরাইম ইবনু মিস‘আর-ফুযাইল হতে, তিনি লাইস হতে, তিনি তাঊস (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, এ দুটি সূরায় (আলিফ লাম মীম তানযীল ও সূরা আল-মুল্ক) কোরআনের প্রতিটি সূরার উপর সত্তর গুণ বেশি সাওয়াব আছে। যঈফ, মাক্বতূ‘।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক সাহাবীর একটি ঘটনা এসেছে। তিনি না জেনে একটি কবরের ওপর তাঁবু খাটিয়েছিলেন। পরে তিনি শুনতে পান, কবরের একজন ব্যক্তি সূরা ‘তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলক’ পড়ছে এবং তা শেষ করছে। সাহাবী ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে জানালে তিনি সূরা মুলককে ‘প্রতিরোধকারী’ ও ‘নাজাত দানকারী’ বলেন। হাদিসের ভাষায়, এটি তিলাওয়াতকারীকে কবরের আজাব থেকে নাজাত দেয়। এই বর্ণনার মূল বিষয় সূরা মুলকের মর্যাদা এবং তিলাওয়াতকারীর জন্য তার উপকার। এখানে নির্দিষ্ট সময়, নির্দিষ্ট সংখ্যা বা অতিরিক্ত কোনো পদ্ধতি বলা হয়নি। তাই ব্যাখ্যায় শুধু বর্ণিত কথাই রাখা উচিত। নিয়মিত সূরা মুলক পড়ার আগ্রহ তৈরি করা যায়, তবে ফল সম্পর্কে হাদিসের ভাষার বাইরে বাড়তি নিশ্চয়তা যোগ না করাই নিরাপদ ও সঠিক। সূরাটি শুদ্ধভাবে শেখা এবং ধারাবাহিকভাবে পড়ার চেষ্টা এ হাদিস থেকে পাওয়া একটি বাস্তব উৎসাহ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূরা মুলককে প্রতিরোধকারী ও নাজাতদাতা বলা হয়েছে।
- হাদিসে কবরের আজাব থেকে তিলাওয়াতকারীর নাজাতের কথা এসেছে।
- বর্ণনায় কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বা সময় বলা হয়নি।
- সূরা মুলক নিয়মিত তিলাওয়াতের আগ্রহ রাখা যায়।
