৪২/৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮৮৯ - জুমার রাতে সূরা দুখান পাঠের বর্ণনা
সূরা হা-মীম আদ-দুখানের ফজিলত
জুমার রাতে সূরা দুখান পাঠ: ক্ষমার বর্ণনা ও সনদের সতর্কতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৮৮৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৮৮৯
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، عَنْ هِشَامٍ أَبِي الْمِقْدَامِ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنْ قَرَأَ حم الدُّخَانَ فِي لَيْلَةِ الْجُمُعَةِ غُفِرَ لَهُ» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ. وَهِشَامٌ أَبُو الْمِقْدَامِ يُضَعَّفُ وَلَمْ يَسْمَعِ الْحَسَنُ مِنْ أَبِي هُرَيْرَةَ هَكَذَا قَالَ أَيُّوبُ وَيُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ وَعَلِيُّ بْنُ زَيْدٍ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআর রাতে সূরা হা-মীম আদ-দুখান পাঠ করবে তাকে ক্ষমা করা হবে।
আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। আবূ মিকদাম হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল বলে আখ্যায়িত। হাসান বাসরী (রহঃ) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে কিছুই শুনেননি। আইউব, ইউনুস ইবনু উবাইদ ও আলী ইবনু যাইদ এরকমই বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি জুমার রাতে সূরা হা-মীম আদ-দুখান পাঠ করবে, তাকে ক্ষমা করা হবে। তবে বর্ণনার শেষে গুরুত্বপূর্ণ সনদসংক্রান্ত মন্তব্য আছে। আবূ ঈসা এটিকে গরীব বলেছেন, হিশাম আবূ মিকদামকে দুর্বল বলা হয়েছে এবং হাসান বসরী আবূ হুরাইরা রাঃ থেকে শোনেননি—এ কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তাই জুমার রাতে সূরা দুখান পড়ার এই নির্দিষ্ট ক্ষমার ফজিলতকে নিশ্চিত সহিহ আমল হিসেবে বলা ঠিক হবে না। বর্ণনার কথা জানানো হলে তার দুর্বলতার তথ্যও একসঙ্গে বলা দরকার। এতে মানুষ কুরআন তিলাওয়াত থেকে নিরুৎসাহিত হয় না; বরং দলিলের মান বুঝে আমল ও প্রচারের ভাষা ঠিক রাখতে শেখে। মূল শিক্ষা হলো, কুরআন পড়া সম্মানিত কাজ, কিন্তু নির্দিষ্ট রাত ও নির্দিষ্ট ফলের দাবি করার ক্ষেত্রে যাচাই ও সতর্কতা জরুরি। শুধু জনপ্রিয়তার কারণে কোনো বর্ণনাকে শক্ত প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বর্ণনায় জুমার রাতে সূরা দুখান পাঠের কথা এসেছে।
- ক্ষমার নির্দিষ্ট দাবির সঙ্গে সনদের দুর্বলতাও উল্লেখ আছে।
- দুর্বল বর্ণনাকে নিশ্চিত সহিহ ফজিলত হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়।
- কুরআন তিলাওয়াত ও দলিল যাচাই—দুটিই গুরুত্ব পায়।
