৪২/৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮৮৮ - রাতে সূরা দুখান পাঠের বর্ণনা ও সনদের মান
সূরা হা-মীম আদ-দুখানের ফজিলত
রাতে সূরা আদ-দুখান পাঠ: ফজিলতের বর্ণনা ও সতর্কতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৮৮৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৮৮৮
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي خَثْعَمٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَنْ قَرَأَ حم الدُّخَانَ فِي لَيْلَةٍ أَصْبَحَ يَسْتَغْفِرُ لَهُ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ. وَعُمَرُ بْنُ أَبِي خَثْعَمٍ يُضَعَّفُ . قَالَ مُحَمَّدٌ وَهُوَ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে সূরা হা-মীম আদ-দুখান পাঠ করে, ভোর হওয়া পর্যন্ত তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা আল্লাহ্ তা’আলার নিকটে ক্ষমা চাইতে থাকে।
আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি। উমার ইবনু আবূ খাসআম যঈফ। মুহাম্মাদ (ইমাম বুখারী) বলেনঃ উমার একজন মুনকার রাবী। মাওযূ, মিশকাত (২১৪৯)
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি রাতে সূরা হা-মীম আদ-দুখান পাঠ করবে, ভোর পর্যন্ত সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে। কিন্তু একই বর্ণনার শেষে আবূ ঈসা বলেছেন, এটি গরীব এবং উমার ইবন আবী খাসআমকে দুর্বল বলা হয়েছে। আরও উল্লেখ আছে যে, ইমাম মুহাম্মাদ তাকে মুনকার হাদিসের বর্ণনাকারী বলেছেন। তাই নির্দিষ্ট ‘সত্তর হাজার ফেরেশতা’ ও নির্দিষ্ট ফলের কথা প্রচার করার সময় এই সনদসংক্রান্ত দুর্বলতা স্পষ্ট করা দরকার। হাদিসের বক্তব্যকে বদলানো যাবে না, আবার বর্ণনার মানও আড়াল করা উচিত নয়। সাধারণভাবে রাতে কুরআন তিলাওয়াত ভালো আমল; কিন্তু এই নির্দিষ্ট ফজিলতকে শক্ত ও নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা ঠিক হবে না। পাঠকের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা হলো—কুরআন পড়ুন, আর নির্দিষ্ট সওয়াবের দাবি করার আগে বর্ণনার মান জানুন। দুর্বলতার তথ্য বাদ দিয়ে শুধু আকর্ষণীয় সংখ্যাটি প্রচার করলে পাঠক পূর্ণ তথ্য জানতে পারেন না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বর্ণনায় রাতে সূরা দুখান পাঠের নির্দিষ্ট ফজিলত বলা হয়েছে।
- বর্ণনার এক রাবিকে দুর্বল ও মুনকার বলা হয়েছে।
- নির্দিষ্ট সওয়াব প্রচারে সনদের অবস্থা উল্লেখ করা উচিত।
- রাতে কুরআন পড়া যায়, তবে দুর্বল বর্ণনায় অতিরঞ্জিত নিশ্চয়তা দেওয়া ঠিক নয়।
