৪২/৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮৮৭ - সূরা ইয়াসিনের ফজিলত ও বর্ণনার সতর্কতা
সূরা ইয়াসিনের ফজিলত
সূরা ইয়াসিন কুরআনের হৃদয়—বর্ণিত ফজিলত ও সনদের কথা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৮৮৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৮৮৭
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَسُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الرُّؤَاسِيُّ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ هَارُونَ أَبِي مُحَمَّدٍ، عَنْ مُقَاتِلِ بْنِ حَيَّانَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ " إِنَّ لِكُلِّ شَيْءٍ قَلْبًا وَقَلْبُ الْقُرْآنِ يس وَمَنْ قَرَأَ يس كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِقِرَاءَتِهَا قِرَاءَةَ الْقُرْآنِ عَشْرَ مَرَّاتٍ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَبِالْبَصْرَةِ لاَ يَعْرِفُونَ مِنْ حَدِيثِ قَتَادَةَ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ. وَهَارُونُ أَبُو مُحَمَّدٍ شَيْخٌ مَجْهُولٌ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেকটা বস্তুর কলব (হৃদয়) আছে। কোরআনের কলব হচ্ছে সূরা ইয়াসীন। যে ব্যক্তি এ সূরা একবার পাঠ করবে আল্লাহ্ তা’আলা এর পরিবর্তে তার জন্য দশবার কোরআন পাঠের সমান সাওয়াব নিরূপণ করবেন।
আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধুমাত্র হুমাইদ ইবনু আবদুর রহমানের সূত্রে এ হাদীস জেনেছি। বসরায় এই সূত্র ব্যতীত কাতাদার রিওয়াত প্রসঙ্গে কিছু জানা নেই। হারূন আবূ মুহাম্মাদ একজন অপরিচিত শাইখ। আবূ মূসা মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না হতে তিনি আহমাদ ইবনু সাঈদ আদ-দারিমী হতে তিনি কুতাইবা হতে তিনি হুমাইদ ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) সূত্রে উপরের হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। এ অনুচ্ছেদে আবূ বাক্র সিদ্দীক (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। সনদের দিক হতে তাঁর সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি সহীহ নয়। এর সনদসূত্র দুর্বল। এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। মাওযূ, যঈফা (১৬৯)
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৮৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক বস্তুর একটি হৃদয় আছে এবং কুরআনের হৃদয় হলো সূরা ইয়াসিন। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি একবার সূরা ইয়াসিন পড়বে, তার জন্য দশবার কুরআন পাঠের সমান সওয়াব লেখা হবে। তবে বর্ণনার শেষ অংশে আবূ ঈসা এটিকে গরীব বলেছেন এবং হারূন আবূ মুহাম্মাদকে অজ্ঞাত রাবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই এই ফজিলত তুলে ধরার সময় বর্ণনার সনদসংক্রান্ত মন্তব্য গোপন না করাই সঠিক। সহজ ভাষায়, হাদিসের বক্তব্যটি এমনই; কিন্তু এটিকে শক্ত প্রমাণের অন্য বর্ণনার মতো নিশ্চিতভাবে প্রচার না করে সতর্কভাবে বলা উচিত। মূল শিক্ষা হিসেবে কুরআন তিলাওয়াতের প্রতি আগ্রহ রাখা যায়, তবে নির্দিষ্ট দশগুণ সওয়াবের দাবি এই বর্ণনার সূত্রের অবস্থাসহ উল্লেখ করা দরকার। এতে পাঠক বাণী ও বর্ণনার মান—দুই দিকই জানতে পারেন। সূরা ইয়াসিন পড়া যাবে, কিন্তু এই নির্দিষ্ট ফজিলতকে কেন্দ্র করে বাড়তি নিশ্চয়তা দেওয়া ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বর্ণনায় সূরা ইয়াসিনকে কুরআনের হৃদয় বলা হয়েছে।
- একবার পাঠে দশবার কুরআন পাঠের সওয়াবের কথা এসেছে।
- বর্ণনার শেষে এক রাবিকে অজ্ঞাত বলা হয়েছে।
- ফজিলত বলার সময় সনদসংক্রান্ত সতর্কতাও জানানো উচিত।
