৪২/২১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯২০ - ঘুমের আগে সূরা বনি ইসরাইল ও যুমার
(রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুমানোর পূর্বে যেসব সূরা পাঠ করতেন)
ঘুমের আগে সূরা বনি ইসরাইল ও সূরা যুমার পড়ার আমল
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৯২০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯২০
حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي لُبَابَةَ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ لاَ يَنَامُ عَلَى فِرَاشِهِ حَتَّى يَقْرَأَ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَالزُّمَرَ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ. وَأَبُو لُبَابَةَ شَيْخٌ بَصْرِيٌّ قَدْ رَوَى عَنْهُ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ غَيْرَ حَدِيثٍ وَيُقَالُ اسْمُهُ مَرْوَانُ. أَخْبَرَنِي بِذَلِكَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ فِي كِتَابِ التَّارِيخِ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সূরা বানী ইসরাঈল ও সূরা আয্-যুমার তিলাওয়াত না করা পর্যন্ত নবী (ﷺ) ঘুমাতেন না।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গরীব। আবূ লুবাবা একজন বাসরার শাইখ। হাম্মাদ ইবনু যাইদ তার সূত্রে একাধিক হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তাঁর নাম মারওয়ান বলে কথিত। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল উক্ত কথাটি তার কিতাবুত্ তারীখ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯২০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী صلى الله عليه وسلم-এর রাতের একটি আমলের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বিছানায় ঘুমানোর আগে সূরা বনি ইসরাইল এবং সূরা আয-যুমার তিলাওয়াত করতেন। অর্থাৎ এই দুই সূরা পাঠ না করা পর্যন্ত তিনি ঘুমাতেন না। সূরা বনি ইসরাইল সূরা আল-ইসরা নামেও পরিচিত। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, ঘুমের আগে কুরআন তিলাওয়াত নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমলের অংশ ছিল এবং তিনি বিশেষভাবে এই দুই সূরা পড়তেন। বর্ণনায় অন্য কোনো সূরা যোগ করার কথা, নির্দিষ্ট সংখ্যায় পড়া বা বিশেষ কোনো দুনিয়াবি ফলের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। তাই হাদিসের সীমার মধ্যে থেকে বলা যায়, সামর্থ্য অনুযায়ী ঘুমের আগে এ দুই সূরা পড়ার অভ্যাস করা সুন্নাহ অনুসরণের একটি উপায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم ঘুমের আগে সূরা বনি ইসরাইল ও সূরা যুমার পড়তেন।
- রাতে ঘুমানোর আগে কুরআন তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তোলা যায়।
- হাদিসে এই দুই সূরা কতবার পড়তে হবে, তা বলা হয়নি।
- বর্ণনায় নেই এমন বিশেষ ফল বা নিশ্চয়তা এ আমলের সঙ্গে যোগ করা উচিত নয়।
