৪৩/৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৪১ - কিয়ামতের ভয়াবহতা ও কুরআনের শুদ্ধ পাঠ
সূরা আল-হজ্জ
কিয়ামতের ভয়াবহতা: ‘মানুষকে মাতাল দেখবে’ আয়াতের শুদ্ধ কিরাআত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৯৪১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯৪১
حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، وَالْفَضْلُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ بِشْرٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَرَأَ: (وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُمْ بِسُكَارَى ) .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ وَهَكَذَا رَوَى الْحَكَمُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ عَنْ قَتَادَةَ . وَلاَ نَعْرِفُ لِقَتَادَةَ سَمَاعًا مِنْ أَحَدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ إِلاَّ مِنْ أَنَسٍ وَأَبُو الطُّفَيْلِ . وَهُوَ عِنْدِي حَدِيثٌ مُخْتَصَرٌ إِنَّمَا يُرْوَى عَنْ قَتَادَةَ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فِي السَّفَرِ فَقَرَأَ : (يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ ) الْحَدِيثَ بِطُولِهِ وَحَدِيثُ الْحَكَمِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ عِنْدِي مُخْتَصَرٌ مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ .
‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) পাঠ করেছেন “ওয়া তারান-নাসা সুকারা, ওয়ামাহুম বিসুকারা”।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আনাস (রাঃ) ও আবুত তুফাইল (রাঃ) ব্যতীত নবী (ﷺ) এর অন্য কোন সাহাবী হতে ক্বাতাদাহ্ কিছু শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই। এটা আমার মতে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। ক্বাতাদাহ্ হাসান হতে তিনি ‘ইমরান ইবনু হুসাইন হতে এই সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক সফরে নবী (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। তিনি “ইয়া আইয়্যুহান-নাসুত্তাকূ রব্বাকুম” পাঠ করেন। হাদীসটি অনেক লম্বা। এখানে সংক্ষেপে পেশ করা হয়েছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কুরআনের শুদ্ধ কিরাআত এবং কিয়ামতের ভয়াবহ দৃশ্য। নবী صلى الله عليه وسلم সূরা হজের একটি অংশ পাঠ করেছেন—মানুষকে মাতালের মতো দেখা যাবে, অথচ তারা মাতাল হবে না। কথাটি বোঝায়, সেই দিনের আতঙ্ক মানুষের স্বাভাবিক অবস্থা বদলে দেবে। তবে হাদিসটি কোনো বাড়তি ঘটনার বিবরণ দেয় না; এটি মূলত আয়াতটি কীভাবে পড়া হয়েছে, সেটিই তুলে ধরে। তাই এই বর্ণনা থেকে কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে নবী صلى الله عليه وسلم-এর শেখানো পাঠের গুরুত্ব বোঝা যায়। একই সঙ্গে কিয়ামতের ভয়াবহতা নিয়ে কুরআনের ভাষা কত গভীর, তাও সামনে আসে। আয়াত পড়ার সময় শব্দ, উচ্চারণ ও অর্থের দিকে মনোযোগ দেওয়া দরকার। শুধু আবেগ নয়, সঠিক পাঠও কুরআন শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআনের আয়াত নবী صلى الله عليه وسلم যেভাবে পাঠ করেছেন, সেভাবে শুদ্ধভাবে শেখার চেষ্টা করা উচিত।
- কিয়ামতের আতঙ্ক এত তীব্র হবে যে মানুষকে মাতালের মতো মনে হবে।
- আয়াতের শব্দ ও অর্থ—দুই দিকেই মনোযোগ দিয়ে তিলাওয়াত করা দরকার।
