৪৪/৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০১০ - শহীদের জীবন ও বিশেষ মর্যাদা
সূরা আলে ইমরান
শহীদের জীবন: জাবির (রাঃ)-এর পিতার বিশেষ মর্যাদা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০১০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০১০
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ كَثِيرٍ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ طَلْحَةَ بْنَ خِرَاشٍ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ لَقِيَنِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ لِي " يَا جَابِرُ مَا لِي أَرَاكَ مُنْكَسِرًا ". قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ اسْتُشْهِدَ أَبِي قُتِلَ يَوْمَ أُحُدٍ وَتَرَكَ عِيَالاً وَدَيْنًا. قَالَ " أَفَلاَ أُبَشِّرُكَ بِمَا لَقِيَ اللَّهُ بِهِ أَبَاكَ ". قَالَ قُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " مَا كَلَّمَ اللَّهُ أَحَدًا قَطُّ إِلاَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ وَأَحْيَا أَبَاكَ فَكَلَّمَهُ كِفَاحًا فَقَالَ يَا عَبْدِي تَمَنَّ عَلَىَّ أُعْطِكَ . قَالَ يَا رَبِّ تُحْيِينِي فَأُقْتَلَ فِيكَ ثَانِيةً . قَالَ الرَّبُّ عَزَّ وَجَلَّ إِنَّهُ قَدْ سَبَقَ مِنِّي أَنَّهُمْ إِلَيْهَا لاَ يُرْجَعُونَ ". قَالَ وَأُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ : (وَلَاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا ) الآيَةَ.قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَلاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ مُوسَى بْنِ إِبْرَاهِيمَ وَرَوَاهُ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمَدِينِيِّ وَغَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ كِبَارِ أَهْلِ الْحَدِيثِ هَكَذَا عَنْ مُوسَى بْنِ إِبْرَاهِيمَ. وَقَدْ رَوَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ عَنْ جَابِرٍ شَيْئًا مِنْ هَذَا.
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার সাথে সাক্ষাৎ করে আমাকে বললেনঃ হে জাবির! কি ব্যাপার, আমি তোমাকে ভগ্নহৃদয় দেখছি কেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার আব্বা (উহূদের যুদ্ধে) শহীদ হয়েছেন এবং অসহায় পরিবার-পরিজন ও কর্জ রেখে গেছেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা কিভাবে তোমার আব্বার সাথে মিলিত হয়েছেন আমি কি তোমাকে সেই সুসংবাদ দিব না? আমি বললাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল!তিনি বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা কখনো কারো সাথে তাঁর পর্দার অন্তরাল ব্যতীত (সরাসরি) কথা বলেননি কিন্তু তিনি তোমার বাবাকে জীবন দান করে তার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন। তাকে তিনি বললেনঃ তুমি আমার নিকট (যা ইচ্ছা) চাও, আমি তোমাকে তা দান করব। সে বলল, হে প্রভু! আপনি আমাকে জীবনদান করুন, যাতে আমি আবার আপনার রাহে নিহত হতে পারি। বারকাতময় আল্লাহ তা’আলা বললেনঃ আমার পক্ষ থেকে আগে হতেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে আছে যে, তারা আবার (দুনিয়ায়) ফিরে যাবে না।এ প্রসঙ্গে নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয় : “যারা আল্লাহ তা’আলার পথে নিহত হয়েছে, তোমরা তাদেরকে মৃত মনে করো না, বরং তারা জীবিত এবং তাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তারা রিযিকপ্রাপ্ত”- (সূরা আ-লি ‘ইমরান ১৬৯)।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি উপরোক্ত সনদসূত্রে হাসান গারীব। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আক্বীল (রহঃ) জাবির (রাঃ) এর সূত্রে এ হাদীসের অংশবিশেষ বর্ণনা করেছেন। এটিকে আমরা মূসা ইবনু ইবরাহীমের সূত্রে জেনেছি। ‘আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ আল মাদীনী সহ অপরাপর হাদীসবিদগণ মূসা ইবনু ইবরাহীমের সূত্রে একই রকম রিওয়ায়াত করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০১০-এর সারসংক্ষেপ
জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর পিতা উহুদের যুদ্ধে শহীদ হন। তিনি পরিবার ও ঋণ রেখে যাওয়ায় জাবির (রাঃ) ভগ্নহৃদয় ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে সান্ত্বনা দিয়ে তার পিতার জন্য একটি বড় সুসংবাদ জানান। আল্লাহ তাকে জীবন দিয়ে সরাসরি কথা বলেন এবং যা চাইবেন তা দেওয়ার প্রস্তাব করেন। তিনি আবার দুনিয়ায় ফিরে আল্লাহর পথে নিহত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তখন আল্লাহ জানান, আগে থেকেই সিদ্ধান্ত হয়েছে যে মৃতরা দুনিয়ায় ফিরে যাবে না। এরপর সূরা আলে ইমরান ১৬৯ নম্বর আয়াত নাজিল হয়—আল্লাহর পথে নিহতদের মৃত মনে করা যাবে না; তারা তাদের রবের কাছে জীবিত এবং রিজিকপ্রাপ্ত। হাদিসটি শহীদের জীবন, মর্যাদা এবং আল্লাহর পথে আবার জীবন দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর পথে নিহত শহীদরা তাদের রবের কাছে জীবিত ও রিজিকপ্রাপ্ত।
- জাবির (রাঃ)-এর পিতা আবার আল্লাহর পথে শহীদ হওয়ার ইচ্ছা করেছিলেন।
- মৃতদের দুনিয়ায় ফিরে আসার সুযোগ নেই—এ সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নির্ধারিত।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) শোকাহত সাহাবিকে সুসংবাদ দিয়ে সান্ত্বনা দিয়েছেন।
