২/১১৪. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০২ - শান্তভাবে নামাজ আদায়ের শিক্ষা

নামাজ পড়ার নিয়ম

শান্তভাবে নামাজ আদায়ের নিয়ম ও রুকন ঠিক রাখার গুরুত্ব

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০২

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى بْنِ خَلاَّدِ بْنِ رَافِعٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ بَيْنَمَا هُوَ جَالِسٌ فِي الْمَسْجِدِ يَوْمًا قَالَ رِفَاعَةُ وَنَحْنُ مَعَهُ إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ كَالْبَدَوِيِّ فَصَلَّى فَأَخَفَّ صَلاَتَهُ ثُمَّ انْصَرَفَ فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " وَعَلَيْكَ فَارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ " . فَرَجَعَ فَصَلَّى ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَقَالَ " وَعَلَيْكَ فَارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ " . فَفَعَلَ ذَلِكَ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا كُلُّ ذَلِكَ يَأْتِي النَّبِيَّ ﷺ فَيُسَلِّمُ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ فَيَقُولُ النَّبِيُّ ﷺ " وَعَلَيْكَ فَارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ " . فَخَافَ النَّاسُ وَكَبُرَ عَلَيْهِمْ أَنْ يَكُونَ مَنْ أَخَفَّ صَلاَتَهُ لَمْ يُصَلِّ فَقَالَ الرَّجُلُ فِي آخِرِ ذَلِكَ فَأَرِنِي وَعَلِّمْنِي فَإِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ أُصِيبُ وَأُخْطِئُ .فَقَالَ " أَجَلْ إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلاَةِ فَتَوَضَّأْ كَمَا أَمَرَكَ اللَّهُ ثُمَّ تَشَهَّدْ وَأَقِمْ فَإِنْ كَانَ مَعَكَ قُرْآنٌ فَاقْرَأْ وَإِلاَّ فَاحْمَدِ اللَّهَ وَكَبِّرْهُ وَهَلِّلْهُ ثُمَّ ارْكَعْ فَاطْمَئِنَّ رَاكِعًا ثُمَّ اعْتَدِلْ قَائِمًا ثُمَّ اسْجُدْ فَاعْتَدِلْ سَاجِدًا ثُمَّ اجْلِسْ فَاطْمَئِنَّ جَالِسًا ثُمَّ قُمْ فَإِذَا فَعَلْتَ ذَلِكَ فَقَدْ تَمَّتْ صَلاَتُكَ وَإِنِ انْتَقَصْتَ مِنْهُ شَيْئًا انْتَقَصْتَ مِنْ صَلاَتِكَ " . قَالَ وَكَانَ هَذَا أَهْوَنَ عَلَيْهِمْ مِنَ الأَوَّلِ أَنَّهُ مَنِ انْتَقَصَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا انْتَقَصَ مِنْ صَلاَتِهِ وَلَمْ تَذْهَبْ كُلُّهَا .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَعَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ رِفَاعَةَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ .

রিফা'আ ইবনু রাফি' (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে অবস্থান করছিলেন। রিফাআ (রাঃ) বলেন, আমরাও তাঁর সাথে ছিলাম। এমন সময় বেদুইনের বেশে এক ব্যক্তি আসল। সে নামায আদায় করল, কিন্তু হালকাভাবে (তাড়াহুড়া করে, নামাযের রুকনসমূহ ঠিকভাবে আদায় না করে) নামায শেষ করে সে নবী (ﷺ)-কে সালাম করল। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমাকেও (সালাম), ফিরে গিয়ে আবার নামায আদায় কর, কেননা তুমি নামায পড়নি।সে ফিরে গিয়ে নামায আদায় করল, তারপর এসে তাঁকে সালাম করল। তিনি পুনরায় বললেনঃ তোমাকেও (সালাম), ফিরে গিয়ে আবার নামায আদায় কর, কেননা তুমি নামায পড়নি। দুই অথবা তিনবার এরূপ হল। প্রত্যেকবার সে এসে নবী (ﷺ)-কে সালাম করল। আর নবী (ﷺ) বলতে থাকলেনঃ তোমাকেও (সালাম), ফিরে গিয়ে আবার নামায আদায় কর, কেননা তুমি নামায আদায় করনি। ব্যাপারটা লোকদের (সাহাবাদের) নিকট ভয়ানক ও অস্বস্তিকর মনে হল যে, যে ব্যক্তি হালকাভাবে নামায আদায় করল তার নামাযই হল না। অবশেষে লোকটি বলল, আমাকে দেখিয়ে দিন, শিখিয়ে দিন, কেননা আমি তো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নই, কখনও শুদ্ধ কাজ করি কখনও ত্রুটি করি।তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, যখন তুমি নামায আদায় করতে দাঁড়াও, তখন তিনি (আল্লাহ) তোমাকে যেভাবে ওজু করার নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবে ওজু কর, তারপর তাশাহ্‌হুদ পাঠ কর (আযান দাও), তারপর ইকামাত বল। যদি তোমার কোরআন জানা থাকে তবে তা হতে পাঠ কর। অন্যথায়-’আলহামদুলিল্লাহ’ তাকবির-’আল্লাহু আকবার’ তাহলীল-’লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ পাঠ কর, অতঃপর রুকূ কর, শান্তভাবে রুকূতে অবস্থান কর। তারপর রুকূ হতে সোজা হয়ে দাঁড়াও, তারপর সাজদাহ্‌য় যাও, ঠিকভাবে সাজদাহ্‌ কর, সাজদাহ্‌ হতে উঠে শান্তভাবে বস, তারপর উঠো। যদি তুমি এভাবে নামায আদায় কর তবে তোমার নামায পূর্ণ হল। যদি তুমি তাতে কোনরূপ ভুল কর তবে তোমার নামাযের মধ্যেই ভুল করলে।রাবী বলেন, পূর্বের কথার চেয়ে এই পরবর্তী কথাটা লোকদের (সাহাবাদের) নিকট সহজ লাগল। কেননা যে নামাযের মধ্যে কোনরূপ ভুল করল তার নামাযে ভুল হল কিন্তু পরিপূর্ণ নামায নষ্ট হল না।

এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরায়রা ও ‘আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ রিফাআ ইবনু রাফি’র হাদীসটি হাসান। এ হাদীসটি রিফা’আ (রাঃ)-এর নিকট হতে অন্যান্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নামাজের মূল শিক্ষা খুব স্পষ্টভাবে এসেছে। এক ব্যক্তি মসজিদে এসে তাড়াহুড়া করে নামাজ পড়লেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে বললেন, ফিরে গিয়ে আবার নামাজ পড়, কারণ তুমি নামাজ পড়নি। কয়েকবার এমন হওয়ার পর তিনি নিজেই শিখতে চাইলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে ওজু, তাশাহহুদ বা ইকামত, কুরআন পাঠ, তারপর রুকু, রুকুতে শান্ত থাকা, সোজা হয়ে দাঁড়ানো, ঠিকভাবে সিজদা করা, সিজদা থেকে উঠে শান্তভাবে বসা—এসব ধাপে নামাজ শেখালেন। এখানে মূল কথা হলো, শুধু দাঁড়ানো-বসা করলেই নামাজ পূর্ণ হয় না; নামাজে ধীরতা, স্থিরতা ও রুকনগুলো ঠিকভাবে আদায় করা জরুরি। তাড়াহুড়া করে নামাজ পড়া থেকে এ হাদিস সতর্ক করে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নামাজে তাড়াহুড়া করলে রুকন ঠিকভাবে আদায় নাও হতে পারে।
  • রুকু ও সিজদায় শান্তভাবে থাকা নামাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
  • ভুল হলে শেখার জন্য বিনয়ের সঙ্গে প্রশ্ন করা ভালো।
  • কুরআন জানা না থাকলে আল্লাহর হামদ, তাকবির ও তাহলীল পড়ার কথা এখানে এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন