৪৪/৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৪৭ - পাপ কাজে শক্তভাবে বাধা দেওয়ার শিক্ষা
সূরা আল –মায়িদা
অন্যায় কাজে বাধা দেওয়া ও পাপকে স্বাভাবিক না বানানোর শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০৪৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০৪৭
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ بَذِيمَةَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لَمَّا وَقَعَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ فِي الْمَعَاصِي نَهَتْهُمْ عُلَمَاؤُهُمْ فَلَمْ يَنْتَهُوا فَجَالَسُوهُمْ فِي مَجَالِسِهِمْ وَوَاكَلُوهُمْ وَشَارَبُوهُمْ فَضَرَبَ اللَّهُ قُلُوبَ بَعْضِهِمْ بِبَعْضٍ وَلَعَنَهُمْ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ» .قَالَ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَكَانَ مُتَّكِئًا فَقَالَ «لاَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ حَتَّى تَأْطِرُوهُمْ عَلَى الْحَقِّ أَطْرًا» . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ يَزِيدُ وَكَانَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ لاَ يَقُولُ فِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ أَبِي الْوَضَّاحِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ بَذِيمَةَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ نَحْوَهُ وَبَعْضُهُمْ يَقُولُ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مُرْسَلٌ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বানূ ইসরাঈল গর্হিত কাজে জড়িত হলে তাদের বিজ্ঞ আলিমগণ তাদেরকে বাধা দেন। কিন্তু তারা (পাপাচার থেকে) ক্ষান্ত হয়নি। এতদসত্ত্বেও তাদের আলিমগণ তাদের সাথে তাদের সভা সমিতিতে উঠাবসা ঠিক রাখে এবং তাদের সাথে এক সঙ্গে ভোজসভায় যোগদান করে। ফলে আল্লাহ্ তা’আলা তাদের কারো হৃদয়সমূহ অন্য কারো (পাপীদের) হৃদয়ের সাথে একাকার করে দিলেন এবং দাঊদ (আঃ) ও ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ)-এর যবানীতে তাদেরকে অভিসম্পাত করলেন। কেননা, তারা বিরুদ্ধাচারী হয়ে গিয়েছিল এবং সীমালংঘন করেছিল।রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। তিনি এবার সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেনঃ কসম সেই সত্তার যাঁর হাতে আমার জান! ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা মুক্তি পাবে না যতক্ষণ না তোমরা পথভ্রষ্ট লোকদের (শক্তভাবে) বাধা দিচ্ছ।
আবূ ঈসা বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু আবদুর রহমান বলেন, ইয়াযীদ বলেছেন, সুফিয়ান সাওরী (রহঃ) উক্ত হাদীসের সনদে আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর উল্লেখ করেননি। এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম ইবনু আবুল ওয়ায্যাহ-আলী ইবনু বাযীমা হতে তিনি আবূ উবাইদা হতে তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হতে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এরকমই বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ এ হাদীস আবূ উবাইদার সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৪৭-এর সারসংক্ষেপ
রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানান, বনী ইসরাঈলের আলিমরা প্রথমে পাপীদের অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করতেন। কিন্তু পাপীরা বিরত না হলেও পরে তারা তাদের সঙ্গে সভায় বসতেন এবং একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করতেন। এর ফলে সত্য ও অন্যায়ের পার্থক্য দুর্বল হয়ে যায়। আল্লাহ তাদের হৃদয়কে পরস্পরের মতো করে দেন এবং দাঊদ (আঃ) ও ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ)-এর ভাষায় তাদের অভিশপ্ত হওয়ার কথা আসে। নবী (صلى الله عليه وسلم) হেলান দেওয়া অবস্থা থেকে সোজা হয়ে বসে বিষয়টির গুরুত্ব বোঝান। তিনি বলেন, পথভ্রষ্ট মানুষকে সত্যের দিকে শক্তভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা না করা পর্যন্ত মুক্তির আশা করা ঠিক নয়। হাদিসটি পাপীকে অপমান করার কথা নয়; বরং অন্যায়কে স্বাভাবিকভাবে মেনে না নেওয়ার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শুধু মুখে নিষেধ করেই পরে অন্যায়কে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া ঠিক নয়।
- পাপের সঙ্গে আপস করতে করতে মানুষের হৃদয়ও প্রভাবিত হতে পারে।
- সামর্থ্য অনুযায়ী পথভ্রষ্ট মানুষকে সত্যের দিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে।
