৪৪/৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৪৮ - যালিমকে সত্যের পথে থামানোর দায়িত্ব
সূরা আল –মায়িদা
যালিমের হাত ধরে তাকে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত করা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০৪৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০৪৮
حَدَّثَنَا بُنْدَارٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ بَذِيمَةَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ لَمَّا وَقَعَ فِيهِمُ النَّقْصُ كَانَ الرَّجُلُ فِيهِمْ يَرَى أَخَاهُ عَلَى الذَّنْبِ فَيَنْهَاهُ عَنْهُ فَإِذَا كَانَ الْغَدُ لَمْ يَمْنَعْهُ مَا رَأَى مِنْهُ أَنْ يَكُونَ أَكِيلَهُ وَشَرِيبَهُ وَخَلِيطَهُ فَضَرَبَ اللَّهُ قُلُوبَ بَعْضِهِمْ بِبَعْضٍ وَنَزَلَ فِيهِمُ الْقُرْآنُ فَقَالَ : ﴾ لُعِِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ ﴿ " .فَقَرَأَ حَتَّى بَلَغَ : ﴾وَلَوْ كَانُوا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالنَّبِيِّ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مَا اتَّخَذُوهُمْ أَوْلِيَاءَ وَلَكِنَّ كَثِيرًا مِنْهُمْ فَاسِقُونَ ﴿ قَالَ وَكَانَ نَبِيُّ اللَّهِ ﷺ مُتَّكِئًا فَجَلَسَ فَقَالَ «لاَ حَتَّى تَأْخُذُوا عَلَى يَدَىِ الظَّالِمِ فَتَأْطِرُوهُ عَلَى الْحَقِّ أَطْرًا» .
আবূ উবাইদা (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বানী ইসরাঈলের মধ্যে যখন দোষ পদ-স্খলন ছড়িয়ে পড়তে লাগলো তখন তাদের একজন অন্যজনকে পাপে নিমজ্জিত দেখলে তাকে তা থেকে নিষেধ করত। কিন্তু সে তাকে যা করতে দেখেছে তা পরদিন তাকে তার সাথে পানাহার ও এক সাথে মাজলিসে উঠাবাসা হতে নিবৃত্ত রাখল না।অবশেষে আল্লাহ্ তা’আলা তাদের হৃদয়সমূহকে পরস্পর একাকার করে দিলেন। তাদের প্রসঙ্গেই কোরআন অবতীর্ণ হয়। তিনি পাঠ করেনঃ “বানী ইসরাঈলের মধ্যে যেসব লোক কুফরী করেছিল তাদের প্রতি দাঊদ ও মারইয়ামের পুত্র ঈসার যবানে অভিশাপ করা হয়েছে। কেননা, তারা ছিল অবাধ্য ও সীমালংঘনকারী”। তিনি তিলাওয়াত করতে করতে “তারা আল্লাহ্ তা’আলাতে, নবীতে ও তার উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান আনলে ওদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত না, কিন্তু তাদের অনেকেই ফাসিক” (সূরাঃ আল-মায়িদাহ- ৭৯-৮১) পর্যন্ত পৌঁছলেন।রাবী বলেন, আল্লাহ্ তা’আলার নবী হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। তিনি সোজা হয়ে বসে বলেনঃ না, তোমরা যালিমের হাত ধরে তাকে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত না করা পর্যন্ত রক্ষা পাবে না।
বুনদার আবূ দাঊদ-আত-তাইয়া লিসী হতে তিনি মুহাম্মদ ইবনু মুসলিম ইবনু আবুল ওয়ায্যাহ হতে তিনি আলী ইবনু বাযীমা হতে তিনি আবূ উবাইদা হতে তিনি আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে একই রকম বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বনী ইসরাঈলের সমাজে অন্যায় ছড়িয়ে পড়ার একটি কারণ বলা হয়েছে। একজন অন্যজনকে পাপ করতে দেখে নিষেধ করত, কিন্তু পরদিন সেই পাপী ব্যক্তির সঙ্গে আগের মতো খাওয়া-দাওয়া ও মেলামেশা চালিয়ে যেত। ফলে নিষেধের কথাটি কার্যকর অবস্থান হয়ে উঠত না। আল্লাহ তাদের হৃদয়কে পরস্পরের মতো করে দেন এবং কুরআনে তাদের অবাধ্যতা, সীমালঙ্ঘন ও অন্যায় থেকে একে অন্যকে না ফেরানোর কথা আসে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বিষয়টির গুরুত্ব বোঝাতে সোজা হয়ে বসেন। তিনি বলেন, যালিমের হাত ধরে তাকে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা না করা পর্যন্ত রক্ষা পাওয়ার আশা করা যায় না। এখানে লক্ষ্য ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নয়; বরং জুলুম ও পাপ বন্ধ করে সত্য প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যায়কে নিষেধ করার পর সেটিকে স্বাভাবিক আচরণ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।
- যালিমকে জুলুম থেকে থামানো তার প্রতিও এক ধরনের সাহায্য।
- সামাজিক অন্যায়ের ব্যাপারে উদাসীনতা ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
