৪৪/১৪. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১১৭ - মেঘের গর্জন, ফেরেশতা ও ইয়াকুবের খাদ্য

সূরা আর-রাদ

মেঘের গর্জন কী: রা’দ, ফেরেশতা ও ইয়াকুব (আঃ)

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১১৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْوَلِيدِ، وَكَانَ، يَكُونُ فِي بَنِي عِجْلٍ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَقْبَلَتْ يَهُودُ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالُوا يَا أَبَا الْقَاسِمِ أَخْبِرْنَا عَنِ الرَّعْدِ مَا هُوَ قَالَ «مَلَكٌ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ مُوَكَّلٌ بِالسَّحَابِ مَعَهُ مَخَارِيقُ مِنْ نَارٍ يَسُوقُ بِهَا السَّحَابَ حَيْثُ شَاءَ اللَّهُ " . فَقَالُوا فَمَا هَذَا الصَّوْتُ الَّذِي نَسْمَعُ قَالَ «زَجْرُهُ بِالسَّحَابِ إِذَا زَجَرَهُ حَتَّى يَنْتَهِيَ إِلَى حَيْثُ أُمِرَ» . قَالُوا صَدَقْتَ فَأَخْبِرْنَا عَمَّا حَرَّمَ إِسْرَائِيلُ عَلَى نَفْسِهِ قَالَ «اشْتَكَى عِرْقَ النَّسَا فَلَمْ يَجِدْ شَيْئًا يُلاَئِمُهُ إِلاَّ لُحُومَ الإِبِلِ وَأَلْبَانَهَا فَلِذَلِكَ حَرَّمَهَا " . قَالُوا صَدَقْتَ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

ইয়াহুদীরা নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, হে আবুল কাসিম! আমাদেরকে রা’দ (মেঘের গর্জন) প্রসঙ্গে বলুন, এটা কি? তিনি বললেনঃ মেঘমালাকে হাঁকিয়ে নেয়ার জন্য ফেরেশতাদের একজন নিয়োজিত আছে। তার সাথে রয়েছে আগুনের চাবুক। এর সাহায্যে সে মেঘমালাকে সেদিকে পরিচালনা করেন, যেদিকে আল্লাহ তা’আলা চান। তারা বলল, আমরা যে আওয়াজ শুনতে পাই তার তাৎপর্য কি? রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটা হচ্ছে ফেরেশতার হাঁকডাক। এভাবে হাঁকডাক দিয়ে সে মেঘমালাকে তার নির্দেশিত স্থানে নিয়ে যায়। তারা বলল, আপনি সত্য বলেছেন।তারা আবার বলল, আপনি আমাদের বলুন, ইসরাঈল [ইয়াকুব (‘‘আঃ)] কোন জিনিস নিজের জন্য হারাম করেছিলেন? রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তিনি ইরকুন নিসা (স্যায়াটিকা) রোগে আক্রান্ত ছিলেন কিন্তু উটের গোশত ও এর দুধ ছাড়া তার উপযোগী খাদ্য ছিল না। তাই তিনি তা হারাম করে নিয়েছিলেন। তারা বলল, আপনি সত্য বলেছেন।

আবু ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১১৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে কয়েকজন ইয়াহুদি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে রা’দ বা মেঘের গর্জন সম্পর্কে প্রশ্ন করে। তিনি বলেন, মেঘ পরিচালনার দায়িত্বে একজন ফেরেশতা আছেন। তাঁর সঙ্গে আগুনের চাবুক রয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি আল্লাহর ইচ্ছামতো মেঘকে নির্দিষ্ট দিকে নিয়ে যান। আমরা যে গর্জনের শব্দ শুনি, তা সেই ফেরেশতার মেঘকে হাঁক দেওয়ার শব্দ—যতক্ষণ না মেঘ নির্দেশিত স্থানে পৌঁছে। তারা উত্তরের সত্যতা স্বীকার করে। পরে তারা জানতে চায়, ইসরাঈল অর্থাৎ ইয়াকুব (আঃ) কোন খাবার নিজের জন্য হারাম করেছিলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তিনি সায়াটিকা রোগে ভুগছিলেন এবং উটের গোশত ও দুধ ছাড়া উপযোগী খাবার পাননি; তাই তিনি সেগুলো নিজের জন্য হারাম করেছিলেন। হাদিসে এই দুই প্রশ্নের উত্তর পাশাপাশি এসেছে। এর বাইরে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে দেওয়া হয়নি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মেঘ পরিচালনার দায়িত্বে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত আছেন বলে হাদিসে এসেছে।
  • মেঘের গর্জনকে সেই ফেরেশতার হাঁক বা নির্দেশের শব্দ বলা হয়েছে।
  • সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছা ও নির্দেশ অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
  • ইয়াকুব (আঃ) অসুস্থতার কারণে উটের গোশত ও দুধ নিজের জন্য হারাম করেছিলেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন