৪৪/২৩. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৬৮ - কিয়ামতের ভয়াবহতা ও জান্নাতের আশা

সূরা আল-হজ্জ

কিয়ামতের ভয়াবহতা, সোজা পথ ও জান্নাতের সুসংবাদ

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩১৬৮

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ جُدْعَانَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ لَمَّا نَزَلَتْ: ( يا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ إِنَّ زَلْزَلَةَ السَّاعَةِ شَيْءٌ عَظِيمٌ ) إِلَى قَوْلِهِ: (ولَكِنَّ عَذَابَ اللَّهِ شَدِيدٌ ) قَالَ أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ هَذِهِ وَهُوَ فِي سَفَرٍ فَقَالَ " أَتَدْرُونَ أَىُّ يَوْمٍ ذَلِكَ " . فَقَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ " ذَلِكَ يَوْمَ يَقُولُ اللَّهُ لآدَمَ ابْعَثْ بَعْثَ النَّارِ فَقَالَ يَا رَبِّ وَمَا بَعْثُ النَّارِ قَالَ تِسْعُمِائَةٍ وَتِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ إِلَى النَّارِ وَوَاحِدٌ إِلَى الْجَنَّةِ " .قَالَ فَأَنْشَأَ الْمُسْلِمُونَ يَبْكُونَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " قَارِبُوا وَسَدِّدُوا فَإِنَّهَا لَمْ تَكُنْ نُبُوَّةٌ قَطُّ إِلاَّ كَانَ بَيْنَ يَدَيْهَا جَاهِلِيَّةٌ قَالَ فَيُؤْخَذُ الْعَدَدُ مِنَ الْجَاهِلِيَّةِ فَإِنْ تَمَّتْ وَإِلاَّ كَمُلَتْ مِنَ الْمُنَافِقِينَ وَمَا مَثَلُكُمْ وَالأُمَمِ إِلاَّ كَمَثَلِ الرَّقْمَةِ فِي ذِرَاعِ الدَّابَّةِ أَوْ كَالشَّامَةِ فِي جَنْبِ الْبَعِيرِ ثُمَّ قَالَ إِنِّي لأَرْجُو أَنْ تَكُونُوا رُبُعَ أَهْلِ الْجَنَّةِ " . فَكَبَّرُوا ثُمَّ قَالَ " إِنِّي لأَرْجُو أَنْ تَكُونُوا ثُلُثَ أَهْلِ الْجَنَّةِ " . فَكَبَّرُوا ثُمَّ قَالَ " إِنِّي لأَرْجُو أَنْ تَكُونُوا نِصْفَ أَهْلِ الْجَنَّةِ " . فَكَبَّرُوا قَالَ وَلاَ أَدْرِي قَالَ الثُّلُثَيْنِ أَمْ لاَ.قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ.

‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

“হে লোকেরা! তোমাদের প্রভুর গযব হতে নিজকে রক্ষা কর। কিয়ামাতের কম্পন বড়ই ভয়াবহ ব্যাপার। যেদিন তোমরা তা দেখতে পাবে সেদিনের অবস্থা এমন হবে যে, প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী নিজের দুধের শিশুকে দুধ পান করাতে ভুলে যাবে। প্রত্যেক গর্ভবতী গর্ভপাত করবে এবং লোকদেরকে তোমরা মাতালের মতো দেখতে পাবে, অথচ তারা নেশাগ্রস্ত নয়। বরং আল্লাহ্‌ তা’আলার শাস্তিই এতদূর কঠোর হবে” (সূরাঃ আল-হাজ্জ- ১-২)।রাবী বলেন, এ আয়াত যখন অবতীর্ণ হয়, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সফরে ছিলেন। তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান এটা কোন দিন? সাহাবীগণ বললেনঃ আল্লাহ্‌ তা’আলা ও তাঁর রাসূলই সবচাইতে ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ এটা সেই দিন, যখন আল্লাহ্‌ তা’আলা আদম (আঃ)-কে বলবেনঃ জাহান্নামের বাহিনী প্রস্তুত কর। আদম (আঃ) বলবেনঃ হে প্রভু! জাহান্নামের বাহিনীর সংখ্যা কত? তিনি বলবেনঃ (হাজারকে) নয় শত নিরানব্বই জন জাহান্নামের এবং একজন জান্নাতের বাহিনী। একথা শুনে মুসলমানরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ সমতল পথে চলো, আল্লাহ্‌ তা’আলার নৈকট্য খোঁজ কর, সোজা পথ ধর। প্রত্যেক নাবূয়্যাতের পূর্বেই রয়েছে জাহিলিয়াত। তিনি আরো বলেনঃ জাহিলিয়াত হতেই বেশি সংখ্যক নেয়া হবে। যদি এতে সংখ্যা পূর্ণ হয় তো ভালো, অন্যথায় মুনাফিকদের দিয়ে সংখ্যা পূর্ণ করা হবে। অপরাপর উম্মাতের ও তোমাদের উদাহরণ হচ্ছে, যেমন পশুর বাহুর দাগ অথবা উটের পার্শ্বদেশের তিলক (অর্থাৎ তোমাদের সংখ্যা বেশি হবে)।তিনি আবার বললেনঃ আমি আশা করি তোমরাই হবে জান্নাতের এক-চতুর্থাংশ অধিবাসী। একথা শুনে তারা তাকবির ধ্বনি উচ্চারণ করেন। তারপর তিনি বললেনঃ আমি আশা করি তোমরাই হবে জান্নাতের এক-তৃতীয়াংশ অধিবাসী। একথা শুনে তারা তাকবির ধ্বনি দেন। তিনি আবার বললেনঃ আমি আশা করি তোমরাই হবে জান্নাতের অর্ধেক অধিবাসী। তারা এবারও তাকবির ধ্বনি দেন। রাবী বলেন, তিনি দুই-তৃতীয়াংশের কথা বলেছেন কি-না তা আমার মনে নেই।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩১৬৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সূরা হজ্জের প্রথম দুই আয়াতের আলোকে কিয়ামতের ভয়াবহ অবস্থা বোঝানো হয়েছে। সেই দিনের কম্পনে স্তন্যদাত্রী তার শিশুকে ভুলে যাবে, গর্ভবতীর গর্ভপাত হবে এবং মানুষকে মাতালের মতো দেখা যাবে, যদিও তারা নেশাগ্রস্ত থাকবে না। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানান, আল্লাহ আদম (আঃ)-কে জাহান্নামের বাহিনী বের করতে বলবেন। প্রতি হাজারে নয়শ নিরানব্বই জনের কথা শুনে সাহাবীরা কাঁদতে শুরু করেন। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) তাদের সোজা পথে চলতে, আল্লাহর নৈকট্য খুঁজতে এবং ভারসাম্যপূর্ণ আমল করতে বলেন। তিনি জানান, সংখ্যার বড় অংশ পূর্ববর্তী জাহিলিয়াত ও মুনাফিকদের মধ্য থেকে পূরণ হবে। এরপর তিনি তাঁর উম্মত জান্নাতবাসীর এক-চতুর্থাংশ, এক-তৃতীয়াংশ এবং অর্ধেক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এতে ভয় ও আশার ভারসাম্য ফুটে উঠেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কিয়ামতের দিন অত্যন্ত কঠিন ও ভয়াবহ হবে।
  • ভয় পেলেও সোজা পথে চলা ও ভালো কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
  • আখিরাতের সতর্কতার পাশাপাশি আল্লাহর রহমতের আশা রাখা দরকার।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর উম্মতের জন্য জান্নাতের বড় অংশ লাভের আশা প্রকাশ করেছেন।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন