২/১২৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২১ - মসজিদে ঘুমানোর বিধান ও আদব
মসজিদে ঘুমানো
মসজিদে ঘুমানোর বিধান: ইবনু উমরের বর্ণনা থেকে শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩২১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩২১
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كُنَّا نَنَامُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي الْمَسْجِدِ وَنَحْنُ شَبَابٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَخَّصَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي النَّوْمِ فِي الْمَسْجِدِ . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لاَ يَتَّخِذُهُ مَبِيتًا وَلاَ مَقِيلاً . وَقَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ ذَهَبُوا إِلَى قَوْلِ ابْنِ عَبَّاسٍ .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবন কালে মসজিদে ঘুমাতাম। অথচ আমরা তখন যুবক ছিলাম।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ ইবনু ‘উমারের হাদীসটি হাসান সহীহ্। একদল বিদ্বান মসজিদে ঘুমানোর পক্ষে অভিমত দিয়েছেন। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, “মসজিদকে দিনের বা রাতের শোয়ার জায়গায় পরিণত কর না”। বিদ্বানদের একদল ইবনু ‘আব্বাসের মতকেই গ্রহণ করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু উমর (রাঃ) জানান, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর জীবদ্দশায় তাঁরা মসজিদে ঘুমাতেন এবং তখন তাঁরা যুবক ছিলেন। মূল শিক্ষা হলো, মসজিদ শুধু নামাজের জায়গা হলেও সেখানে অবস্থান করা বা প্রয়োজন হলে ঘুমানো সাহাবিদের আমলে দেখা যায়। তবে হাদিসের শেষ অংশে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর মতও এসেছে যে, মসজিদকে স্থায়ী রাত কাটানোর জায়গা বা দুপুরের ঘুমের জায়গা বানানো উচিত নয়। তাই মসজিদে ঘুমানোর বিধান বুঝতে হলে ভারসাম্য রাখা দরকার। মসজিদে থাকা হলে পবিত্রতা, আদব ও অন্য মুসল্লিদের সুবিধার দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। এই বর্ণনা মসজিদের ব্যবহার নিয়ে বাস্তব ও সহজ দিক তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রয়োজন হলে মসজিদে অবস্থান বা ঘুমানোর সুযোগ ছিল বলে এই বর্ণনায় বোঝা যায়।
- মসজিদকে সাধারণ আবাসস্থল বা অভ্যাসগত বিশ্রামের জায়গা বানানো থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
- মসজিদে থাকলে পবিত্রতা, শালীনতা ও অন্যদের অধিকার রক্ষা করা দরকার।
- সাহাবিদের আমল থেকে মসজিদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের একটি বাস্তব ছবি পাওয়া যায়।
