৪৪/৪৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৬৩ - ক্ষমা, জান্নাত ও মহাসাফল্য
সূরা আল-ফাতহ
মুমিনের মহাসাফল্য: ক্ষমা, জান্নাত ও সূরা ফাতহের সুসংবাদ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩২৬৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩২৬৩
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، رضى الله عنه قَالَ أُنْزِلَتْ عَلَى النَّبِيِّ ﷺَ : ﴾ليغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ ) مَرْجِعَهُ مِنَ الْحُدَيْبِيَةِ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " لَقَدْ أُنْزِلَتْ عَلَىَّ آيَةٌ أَحَبُّ إِلَىَّ مِمَّا عَلَى الأَرْضِ ثُمَّ قَرَأَهَا النَّبِيُّ ﷺ عَلَيْهِمْ فَقَالُوا هَنِيئًا مَرِيئًا يَا نَبِيَّ اللَّهِ قَدْ بَيَّنَ اللَّهُ لَكَ مَاذَا يُفْعَلُ بِكَ فَمَاذَا يُفْعَلُ بِنَا فَنَزَلَتْ عَلَيْهِ : ﴾ ليُدْخِلَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الأَنْهَارُ ﴿ حَتَّى بَلَغَ : ﴾فوزًا عَظِيمًا ﴿قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَفِيهِ عَنْ مُجَمِّعِ بْنِ جَارِيَةَ .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হুদাইবিয়া হতে প্রত্যাবর্তনের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) –এর উপর আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “যেন আল্লাহ্ তা’আলা তোমার অতীত ও ভবিষ্যৎ ভুলসমূহ মাফ করেন” – (সূরা আল ফাতহ, ২), তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমার উপর এমন একটি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে যা আমার নিকটে দুনিয়ার সবকিছু হতে প্রিয়। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবীগণের সামনে আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! মুবারাকবাদ! এটি আপনার জন্য অভিনন্দন। আপনার সাথে কেমন আচরণ করা হবে, তাতো আল্লাহ্ তা’আলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের সাথে কেমন ব্যবহার করা হবে?তখন তাঁর উপর এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “তা এজন্য যে, তিনি ঈমানদার পুরুষ ও মহিলাদের জান্নাতে দাখিল করাবেন, যার নিম্নদেশে প্রবাহিত হয় নহরসমূহ। সেখানে তাঁরা অনন্তকাল থাকবে এবং তিনি তাদের পাপসমূহ মার্জনা করবেন। এটাই আল্লাহ্ তা’আলার সমীপে মহা সাফল্য।” (সূরা আল-ফাতহ ২)
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদের মুজাম্মি’ ইবনু জারিয়াহ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূরা ফাতহের কয়েকটি আয়াত নাজিল হওয়ার আনন্দময় ঘটনা এসেছে। হুদায়বিয়া থেকে ফেরার পথে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর জন্য অতীত ও ভবিষ্যৎ ভুল ক্ষমার কথা জানানো হয়। তিনি বলেন, এই আয়াত তাঁর কাছে দুনিয়ার সবকিছুর চেয়েও প্রিয়। সাহাবীরা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে জানতে চান, তাদের সঙ্গে কী আচরণ করা হবে। তখন মুমিন পুরুষ ও নারীদের জান্নাতে প্রবেশ, সেখানে স্থায়ী থাকা এবং তাদের পাপ ক্ষমার সুসংবাদ দেওয়া হয়। হাদিসটির মূল বিষয় হলো আল্লাহর ক্ষমা ও মুমিনের মহাসাফল্য। “জান্নাতের সুসংবাদ”, “পাপ ক্ষমা” এবং “সূরা ফাতহের তাফসির” এখানে একসঙ্গে যুক্ত। তবে শিক্ষা গ্রহণের সময় বর্ণনায় যতটুকু বলা হয়েছে ততটুকুতেই থাকা দরকার—এখানে ঈমানদারদের জন্য ক্ষমা ও জান্নাতের প্রতিশ্রুতিই স্পষ্ট করা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর ক্ষমার সংবাদ রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিল।
- মুমিন নারী ও পুরুষ—উভয়ের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ এসেছে।
- পাপ ক্ষমা এবং জান্নাতে স্থায়ী থাকা মহাসাফল্য হিসেবে উল্লেখ হয়েছে।
- সাহাবীরা নিজেদের পরিণতি জানার জন্য আগ্রহের সঙ্গে প্রশ্ন করেছিলেন।
