৪৪/৭১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৩২৭ - না জানলে জিজ্ঞেস করা ও জাহান্নামের উনিশ প্রহরী
সূরা আল-মুদ্দাসসির
জাহান্নামের প্রহরী উনিশজন: না জানলে সঠিক উৎসে জিজ্ঞেস করুন
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৩২৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৩২৭
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ نَاسٌ مِنَ الْيَهُودِ لأُنَاسٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَلْ يَعْلَمُ نَبِيُّكُمْ كَمْ عَدَدُ خَزَنَةِ جَهَنَّمَ قَالُوا لاَ نَدْرِي حَتَّى نَسْأَلَ نَبِيَّنَا . فَجَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ غُلِبَ أَصْحَابُكَ الْيَوْمَ . قَالَ " وَبِمَ غُلِبُوا " . قَالَ سَأَلَهُمْ يَهُودُ هَلْ يَعْلَمُ نَبِيُّكُمْ كَمْ عَدَدُ خَزَنَةِ جَهَنَّمَ قَالَ " فَمَا قَالُوا " . قَالَ قَالُوا لاَ نَدْرِي حَتَّى نَسْأَلَ نَبِيَّنَا . قَالَ " أَفَغُلِبَ قَوْمٌ سُئِلُوا عَمَّا لاَ يَعْلَمُونَ فَقَالُوا لاَ نَعْلَمُ حَتَّى نَسْأَلَ نَبِيَّنَا لَكِنَّهُمْ قَدْ سَأَلُوا نَبِيَّهُمْ فَقَالُوا أَرِنَا اللَّهَ جَهْرَةً عَلَىَّ بِأَعْدَاءِ اللَّهِ إِنِّي سَائِلُهُمْ عَنْ تُرْبَةِ الْجَنَّةِ وَهِيَ الدَّرْمَكُ " . فَلَمَّا جَاءُوا قَالُوا يَا أَبَا الْقَاسِمِ كَمْ عَدَدُ خَزَنَةِ جَهَنَّمَ قَالَ " هَكَذَا وَهَكَذَا " . فِي مَرَّةٍ عَشْرَةٌ وَفِي مَرَّةٍ تِسْعٌ . قَالُوا نَعَمْ . قَالَ لَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَا تُرْبَةُ الْجَنَّةِ " . قَالَ فَسَكَتُوا هُنَيْهَةً ثُمَّ قَالُوا خُبْزَةٌ يَا أَبَا الْقَاسِمِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْخُبْزُ مِنَ الدَّرْمَكِ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ إِنَّمَا نَعْرِفُهُ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ مُجَالِدٍ .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কিছু সংখ্যক ইয়াহূদী রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কয়েকজন সাহাবীর নিকটে প্রশ্ন করল, জাহান্নামের দারোগার সংখ্যা কত তা কী তোমাদের নবী জানেন? তাঁরা বললেন, আমরা তা তাঁর নিকটে জিজ্ঞেস না করে বলতে পারি না। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকটে এসে বললঃ হে মুহাম্মাদ! আজ আপনার সঙ্গীরা হেরে গেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কেন তারা হেরে গেছে? সে বলল, ইয়াহূদীরা তাদের নিকটে প্রশ্ন করেছিল, তোমাদের রাসূল (ﷺ) কি জানেন জাহান্নামের দারোগার সংখ্যা কত? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তারা কি জবাব দিয়েছে? সে বললঃ তারা বলেছে, আমরা আমাদের নবীকে জিজ্ঞেস না করে বলতে পারি না।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সেই জাতি কি হেরে যায়, যাদের কাছে এমন ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয় যা তারা জানে না, তারপর তারা বলে, এ ব্যাপারে আমাদের নবীর নিকটে জিজ্ঞেস না করে আমরা বলতে পারি না? বরং ইয়াহূদীরা তো তাদের নবীর কাছে অযাচিত আবদার ধরেছিল, “আমাদেরকে প্রকাশ্যে আল্লাহ্ তা’আলাকে দেখান”। আল্লাহ্ তা’আলার শত্রুদেরকে আমার নিকট নিয়ে এসো। আমি আল্লাহ্র এই শত্রুদেরকে জান্নাতের মাটি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করব। আর তা হল ময়দা।তারপর ইয়াহূদীরা এসে বলল, হে আবুল কাসিম! জাহান্নামের দারোগার সংখ্যা কত? তিনি বললেনঃ এত এতজন (এক হাতের আঙ্গুলের ইশারায়) দশজন এবং (অপর হাতের ইশারায়) নয়জন। তারা বলল, হ্যাঁ আপনি ঠিকই বলেছেন। এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে প্রশ্ন করলেনঃ জান্নাতের মাটি কিসের? রাবী বলেন, তারা কিছু সময় চুপ থাকার পর বলল, হে আবুল কাসিম! তা হল রুটি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ময়দার রুটি।
আবূ ঈসা (রহঃ) বলেনঃ আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র এই সনদে মুজালিদের রিওয়ায়াত হিসেবে জেনেছি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৩২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জ্ঞান, সততা এবং প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার আদব দেখা যায়। কিছু ইহুদি সাহাবিদের জিজ্ঞেস করেছিল, জাহান্নামের দারোগা বা প্রহরীর সংখ্যা কত। সাহাবিরা অনুমান করে উত্তর দেননি; তারা বলেছিলেন, নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস না করে বলতে পারবেন না। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এটিকে পরাজয় বলেননি। বরং না জানা বিষয়ে “জানি না” বলা এবং জ্ঞানীর কাছে ফিরে যাওয়া সঠিক আচরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। পরে তিনি দুই হাতের আঙুলের ইশারায় দশ ও নয়—মোট উনিশজন বোঝান। এরপর তিনি তাদের জান্নাতের মাটি সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। তারা রুটি বললে তিনি বলেন, রুটি দরমক বা সূক্ষ্ম সাদা আটা থেকে হয়। “জাহান্নামের প্রহরী কতজন”, “না জানলে জিজ্ঞেস করা” এবং “জান্নাতের মাটি” এই হাদিসের মূল অনুসন্ধান বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অজানা বিষয়ে অনুমান করে উত্তর না দেওয়া সাহাবিদের সৎ আচরণ ছিল।
- জাহান্নামের প্রহরীর সংখ্যা উনিশজন বলে ইশারায় বোঝানো হয়েছে।
- সঠিক জ্ঞান পেতে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির কাছে ফিরে যাওয়া উচিত।
- প্রশ্নোত্তরে সত্য, ধৈর্য ও স্পষ্টতা বজায় রাখা দরকার।
