৪৪/৭১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৩২৮ - আল্লাহভীতি, তাওহিদ ও ক্ষমার আশা
সূরা আল-মুদ্দাসসির
আল্লাহভীতি ও ক্ষমা: তাওহিদের সঙ্গে তাকওয়ার সম্পর্ক
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৩২৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৩২৮
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّارُ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، أَخْبَرَنَا سُهَيْلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْقُطَعِيُّ، وَهُوَ أَخُو حَزْمِ بْنِ أَبِي حَزْمٍ الْقُطَعِيِّ عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ فِي هَذِهِ الْآيَةَ ( هُوَ أَهْلُ التَّقْوَى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ ) قَالَ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنَا أَهْلٌ أَنْ أُتَّقَى فَمَنْ اتَّقَانِي فَلَمْ يَجْعَلْ مَعِي إِلَهًا فَأَنَا أَهْلٌ أَنْ أَغْفِرَ لَهُ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَسُهَيْلٌ لَيْسَ بِالْقَوِيِّ فِي الْحَدِيثِ وَقَدْ تَفَرَّدَ بِهَذَا الْحَدِيثِ عَنْ ثَابِتٍ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ “তিনিই সেই সত্তা যাকে ভয় করা উচিত। আর তিনিই বান্দার পাপ মার্জনা করার অধিকারী” (সূরাঃ আল-মুদ্দাচ্ছির – ৫৬)।এই আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেনঃ আমিই কেবল মাত্র (বান্দার জন্য) ভয়ের যোগ্য। সুতরাং যে ব্যক্তি আমাকে ভয় করে, আমার সাথে কাউকে অংশীদার স্থির করে না, তাকে মাফ করার যথার্থ অধিকারী আমিই।
আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব। হাদীস শাস্ত্রবিদগণের দৃষ্টিতে সুহাইল তেমন মজবুত রাবী নন। সাবিত হতে এ হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি একাকী।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৩২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূরা মুদ্দাসসিরের “তিনিই ভয় করার যোগ্য এবং ক্ষমা করার অধিকারী” আয়াতের ব্যাখ্যা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানান, আল্লাহ তাআলা বলেছেন—তিনিই একমাত্র ভয়ের যোগ্য। যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে উপাস্য হিসেবে শরিক স্থির করে না, তাকে ক্ষমা করার অধিকারীও আল্লাহ। হাদিসটির মূল বিষয় আল্লাহভীতি, তাওহিদ এবং মাগফিরাত। “আল্লাহভীতি”, “তাকওয়া ও মাগফিরাত” এবং “শিরক থেকে বাঁচা” এই বর্ণনার প্রধান কীওয়ার্ড। এখানে আল্লাহকে ভয় করা এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ক্ষমার কথা এসেছে। তাই বর্ণনাটির ভাষা অনুযায়ী, তাওহিদ বজায় রেখে আল্লাহকে ভয় করা এবং তাঁর ক্ষমার আশা রাখা—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে বোঝা যায়। হাদিসে যে শর্ত বলা হয়েছে, তার বাইরে বাড়তি নিশ্চয়তা যোগ করা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহই প্রকৃতভাবে ভয় ও সম্মান করার যোগ্য।
- আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা হাদিসের স্পষ্ট শর্ত।
- তাকওয়া ও তাওহিদের সঙ্গে আল্লাহর ক্ষমার আশা জড়িত।
