২/১৫৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৫৮ - অপছন্দনীয় ইমাম ও সতর্কতা
লোকদের অসন্তোষ সত্ত্বেও তাদের ইমামতি করা
অপছন্দের ইমামতি ও জামাআতের ডাক: সতর্কতার হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৫৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৫৮
حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ وَاصِلِ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ الأَسَدِيُّ، عَنِ الْفَضْلِ بْنِ دَلْهَمٍ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ثَلاَثَةً رَجُلٌ أَمَّ قَوْمًا وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ وَامْرَأَةٌ بَاتَتْ وَزَوْجُهَا عَلَيْهَا سَاخِطٌ وَرَجُلٌ سَمِعَ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ ثُمَّ لَمْ يُجِبْ .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَطَلْحَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَأَبِي أُمَامَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ لاَ يَصِحُّ لأَنَّهُ قَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ الْحَسَنِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مُرْسَلٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَمُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ تَكَلَّمَ فِيهِ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ وَضَعَّفَهُ وَلَيْسَ بِالْحَافِظِ . وَقَدْ كَرِهَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ يَؤُمَّ الرَّجُلُ قَوْمًا وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ فَإِذَا كَانَ الإِمَامُ غَيْرَ ظَالِمٍ فَإِنَّمَا الإِثْمُ عَلَى مَنْ كَرِهَهُ . وَقَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ فِي هَذَا إِذَا كَرِهَ وَاحِدٌ أَوِ اثْنَانِ أَوْ ثَلاَثَةٌ فَلاَ بَأْسَ أَنْ يُصَلِّيَ بِهِمْ حَتَّى يَكْرَهَهُ أَكْثَرُ الْقَوْمِ .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিন ব্যক্তিকে অভিশাপ দিয়েছেন। তারা হলঃ যে ব্যক্তি মুক্তাদীদের অপছন্দ সত্ত্বেও তাদের ইমামতি করে; যে নারী স্বামীর বিরাগ নিয়ে রাত কাটায় এবং যে ব্যক্তি ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ শুনেও তাতে সাড়া দেয় না (জামা’আতে উপস্থিত হয় না)।
এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাস, তালহা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আবূ উমামা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেনঃ আনাসের হাদীসটি সহীহ নয়। কেননা এটি হাসানের সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হতে মুরসাল হিসাবেও বর্ণিত হয়েছে। তাছাড়া ইমাম আহমাদ এ হাদীসের অধঃস্তন রাবী মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিমের সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, তিনি হাদীস শাস্ত্রে যঈফ এবং তাঁর স্মরণ শক্তি মোটেই ধারালো নয়। একদল বিশেষজ্ঞ বলেছেন, লোকেরা যদি ইমামকে খারাপ জানে তবে তাদের ইমামতি করা তার জন্য মাকরূহ। কিন্তু ইমাম যদি যালিম না হয় তবে যারা তাকে খারাপ জানে তারা গুনাহগার হবে। এ প্রসঙ্গে ইমাম আহমাদ ও ইসহাক বলেছেন, যদি এক, দুই অথবা তিনজন লোক তাকে খারাপ জানে তবে তার ইমামতি করাতে কোন অপরাধ নেই। হ্যাঁ যদি বেশির ভাগ মুক্তাদী তাকে খারাপ জানে তবে তাদের ইমামতি করা তাঁর জন্য শ্রেয় হবে না।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৫৮-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় তিন ব্যক্তির কথা এসেছে: যে ব্যক্তি মুক্তাদিদের অপছন্দ সত্ত্বেও ইমামতি করে, যে নারী স্বামীর বিরাগ নিয়ে রাত কাটায়, এবং যে ব্যক্তি ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ শুনেও সাড়া দেয় না। তবে বর্ণনার শেষে আবু ঈসা বলেছেন, আনাস (রাঃ)-এর এই হাদিস সহীহ নয়; কারণ এটি মুরসাল হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে এবং একজন রাবী দুর্বল। তাই ব্যাখ্যায় খুব সতর্ক হওয়া দরকার। মূল বিষয় হলো ইমামতির দায়িত্ব, পারিবারিক সম্পর্ক এবং জামাআতের ডাকে সাড়া দেওয়া। এই বর্ণনা থেকে সরাসরি কঠোর রায় দেওয়ার বদলে বলা যায়, ইমাম হওয়া মানে মানুষের আস্থা, ন্যায় ও সম্পর্কের বিষয়। জামাআতের আহ্বানকেও হালকা করে দেখা ঠিক নয়। তবে হাদিসের মান সম্পর্কে দেওয়া মন্তব্য অবশ্যই মনে রাখতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমামতির দায়িত্বে মানুষের আস্থা গুরুত্বপূর্ণ।
- আজানের ডাকে সাড়া দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে এসেছে।
- পারিবারিক সম্পর্কে বিরাগ ও অশান্তি এড়ানো দরকার।
- হাদিসের শেষে সনদ সম্পর্কে সতর্ক মন্তব্য আছে।
