৪৬/১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৬১৪ - আযানের পর দরূদ ও ওয়াসীলাহ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মর্যাদা
আযানের পর দোয়া: দরূদ, ওয়াসীলাহ ও শাফাআতের হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৬১৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৬১৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، أَخْبَرَنَا كَعْبُ بْنُ عَلْقَمَةَ، سَمِعَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ جُبَيْرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ " إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ الْمُؤَذِّنُ ثُمَّ صَلُّوا عَلَىَّ فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَىَّ صَلاَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا ثُمَّ سَلُوا لِيَ الْوَسِيلَةَ فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الْجَنَّةِ لاَ تَنْبَغِي إِلاَّ لِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ وَمَنْ سَأَلَ لِيَ الْوَسِيلَةَ حَلَّتْ عَلَيْهِ الشَّفَاعَةُ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. قَالَ مُحَمَّدٌ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ جُبَيْرٍ هَذَا قُرَشِيٌّ مِصْرِيٌّ مَدَنِيٌّ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ شَامِيٌّ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছেনঃ তোমরা মুয়াজ্জিনের আযান যখন শুনবে সে সময় তোমরা তার মতো বলবে, তারপর আমার উপর দরূদ পড়বে। কেননা যে লোক আমার প্রতি একবার দরূদ পড়ে আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি এর বিনিময়ে দশবার দয়া বর্ষণ করেন। তারপর আমার জন্য তোমরা আল্লাহ তা’আলার নিকটে ওয়াসীলাহ্ প্রার্থনা কর। কেননা ওয়াসীলাহ্ হল জান্নাতের এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ জায়গা যা আল্লাহ তা’আলার বান্দাদের মাঝে শুধুমাত্র একজনই অর্জন করবে। আশা করি আমিই হব সেই বান্দা। আমার জন্য যে লোক উসীলা প্রার্থনা করল তার জন্য (আমার) সুপারিশ অবধারিত হল।
আবূ 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম মুহাম্মদ [বুখারী (রহঃ)] বলেন, এই 'আব্দুর রহমান ইবনু জুবাইর হলেন কুরাশী ও মিসররিয্ মাদীনাবাসী এবং 'আব্দুর রহমান ইবনু জুবাইর ইবনু নুফাইর হলেন সিরিয়ার অধিবাসী।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৬১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আযান শোনার আদব শেখানো হয়েছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, মুয়াজ্জিনের আযান শুনলে তার মতো বলতে হবে। তারপর তাঁর ওপর দরূদ পড়তে হবে। কারণ যে তাঁর প্রতি একবার দরূদ পড়ে, আল্লাহ তার প্রতি দশবার দয়া বর্ষণ করেন। এরপর তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে ওয়াসীলাহ চাইতে বলা হয়েছে। হাদিসে ওয়াসীলাহকে জান্নাতের এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ স্থান বলা হয়েছে, যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে শুধু একজন পাবে; নবী (صلى الله عليه وسلم) আশা করেছেন তিনিই হবেন সেই বান্দা। শেষে বলা হয়েছে, যে তাঁর জন্য ওয়াসীলাহ চায়, তার জন্য শাফাআত অবধারিত হয়। তাই আযানের পর দোয়া, দরূদ ও নবীর জন্য ওয়াসীলাহ চাওয়া—তিনটি আমল এখানে একসাথে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আযান শুনে মুয়াজ্জিনের বাক্যের জবাব দেওয়া শেখানো হয়েছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ওপর দরূদ পড়া বড় ফজিলতের আমল।
- আযানের পর নবীর জন্য ওয়াসীলাহ চাওয়ার শিক্ষা এসেছে।
