৪৬/১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৬১৬ - হাবীবুল্লাহ ও প্রথম শাফাআতকারী
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মর্যাদা
হাবীবুল্লাহ ও প্রথম শাফাআতকারী: রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বিশেষ মর্যাদা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৬১৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৬১৬
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ نَصْرِ بْنِ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ، حَدَّثَنَا زَمْعَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ وَهْرَامَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَلَسَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ يَنْتَظِرُونَهُ قَالَ فَخَرَجَ حَتَّى إِذَا دَنَا مِنْهُمْ سَمِعَهُمْ يَتَذَاكَرُونَ فَسَمِعَ حَدِيثَهُمْ فَقَالَ بَعْضُهُمْ عَجَبًا إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ اتَّخَذَ مِنْ خَلْقِهِ خَلِيلاً اتَّخَذَ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلاً . وَقَالَ آخَرُ مَاذَا بِأَعْجَبَ مِنْ كَلاَمِ مُوسَى كَلَّمَهُ تَكْلِيمًا وَقَالَ آخَرُ فَعِيسَى كَلِمَةُ اللَّهِ وَرُوحُهُ . وَقَالَ آخَرُ آدَمُ اصْطَفَاهُ اللَّهُ فَخَرَجَ عَلَيْهِمْ فَسَلَّمَ وَقَالَ «قَدْ سَمِعْتُ كَلاَمَكُمْ وَعَجَبَكُمْ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلُ اللَّهِ وَهُوَ كَذَلِكَ وَمُوسَى نَجِيُّ اللَّهِ وَهُوَ كَذَلِكَ وَعِيسَى رُوحُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ وَهُوَ كَذَلِكَ وَآدَمُ اصْطَفَاهُ اللَّهُ وَهُوَ كَذَلِكَ أَلاَ وَأَنَا حَبِيبُ اللَّهِ وَلاَ فَخْرَ وَأَنَا حَامِلُ لِوَاءِ الْحَمْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ فَخْرَ وَأَنَا أَوَّلُ شَافِعٍ وَأَوَّلُ مُشَفَّعٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ فَخْرَ وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ يُحَرِّكُ حِلَقَ الْجَنَّةِ فَيَفْتَحُ اللَّهُ لِيَ فَيُدْخِلُنِيهَا وَمَعِي فُقَرَاءُ الْمُؤْمِنِينَ وَلاَ فَخْرَ وَأَنَا أَكْرَمُ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ وَلاَ فَخْرَ». قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিছু সাহাবী তাঁর প্রতীক্ষায় বসে ছিলেন। রাবী বলেন, তিনি বের হয়ে তাঁদের নিকট এসে তাঁদের কথাবার্তা শুনলেন। তাঁদের কেউ বললেন, বিস্ময়ের বিষয়। আল্লাহ তা'আলা তার সৃষ্টিকুলের মধ্য হতে (একজনকে) নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বানিয়েছেন। তিনি ইবরাহীম (আঃ)-কে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বানিয়েছেন। আরেকজন বললেন, এর চেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার হলঃ মূসা (আঃ)-এর সাথে তাঁর সরাসরি কথাবার্তা। আরেকজন বললেন, ঈসা (আঃ) আল্লাহর কালিমা ("কুন" (হও) দ্বারা সৃষ্ট) এবং তাঁর দেয়া রূহ। আরেকজন বললেন, আদম (আঃ)-কে আল্লাহ তা'আলা পছন্দ করেছেন।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদের নিকটে বের হয়ে তাঁদেরকে সালাম করে বললেনঃ আমি তোমাদের কথাবার্তা ও তোমাদের বিস্ময়ের ব্যাপারটা শুনেছি। নিশ্চয় ইবরাহীম (আঃ) আল্লাহ তা'আলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, সত্যিই তিনি তাই। মূসা (আঃ) আল্লাহ তা'আলার সাথে বাক্যালাপকারী, সত্যিই তিনি তাই। ঈসা (আঃ) তার রূহ ও কালিমা, সত্যিই তিনি তাই। আর আদম (আঃ)-কে আল্লাহ তা'আলা পছন্দ করেছেন, সত্যিই তিনিও তাই। কিন্তু আমি আল্লাহ্ তা'আলার হাবীব (প্রিয় বন্ধু), তাতে কোন গর্ব নেই।কেয়ামত দিবসে আমিই হব প্রশংসার পতাকা বহনকারী তাতে কোন গর্ব নেই। কেয়ামতের দিন আমিই সর্বপ্রথম শাফাআতকারী এবং সর্ব প্রথমে আমার শাফাআতই কবুল হবে, তাতেও কোন গর্ব নেই। সর্ব প্রথমে আমিই জান্নাতের (দরজার) কড়া নাড়ব। সুতরাং আল্লাহ তা'আলা আমার জন্য তার দরজা খুলে দিবেন, আমাকেই সর্বপ্রথম জান্নাতে পাঠাবেন এবং আমার সাথে থাকবে গরীব মু’মিনগণও, এতেও গর্বের কিছু নেই। আমি আগে ও পরের সকল লোকের মধ্যে বেশি মর্যাদাসম্পন্ন ও সম্মানিত, এতেও গর্বের কিছু নেই।
আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৬১৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাহাবীদের মধ্যে নবীদের মর্যাদা নিয়ে আলোচনা চলছিল। কেউ ইবরাহীম (আঃ)-কে আল্লাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু, কেউ মূসা (আঃ)-এর সঙ্গে আল্লাহর কথা, কেউ ঈসা (আঃ)-কে আল্লাহর কালিমা ও রূহ, আর কেউ আদম (আঃ)-কে আল্লাহর পছন্দের কথা বলছিলেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এসে তাঁদের কথাগুলো সত্য বলে স্বীকার করলেন। তারপর নিজের মর্যাদা বললেন: তিনি আল্লাহর হাবীব, কিয়ামতের দিন হামদের পতাকা বহনকারী, প্রথম শাফাআতকারী, প্রথম যার শাফাআত কবুল হবে, প্রথম জান্নাতের দরজা নাড়বেন এবং গরিব মুমিনদের সঙ্গে প্রবেশ করবেন। প্রতিটি জায়গায় “গর্ব নেই” বলা হয়েছে। তাই এই হাদিস নবীর মর্যাদা শেখায়, আবার বিনয়ও শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্য নবীদের মর্যাদা অস্বীকার না করে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নিজের মর্যাদা বলেছেন।
- কিয়ামতের দিন শাফাআত ও জান্নাতের দরজা খোলার কথা এসেছে।
- মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও অহংকার না করা নবীর বড় শিক্ষা।
