৪৬/৭১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৯৩৩ - সুরাইয়া তারকা ও অনারবদের ঈমান
আজমীদের (অনারবদের) মর্যাদা
ঈমানের মূল্য: সুরাইয়া তারকা থেকেও খোঁজার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৯৩৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৯৩৩
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنِي ثَوْرُ بْنُ زَيْدٍ الدِّيلِيُّ، عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ حِينَ أُنْزِلَتْ سُورَةُ الْجُمُعَةِ فَتَلاَهَا فَلَمَّا بَلَغَ : ( وآخَرِينَ مِنْهُمْ لَمَّا يَلْحَقُوا بِهِمْ ) قَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ هَؤُلاَءِ الَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا بِنَا فَلَمْ يُكَلِّمْهُ . قَالَ وَسَلْمَانُ الْفَارِسِيُّ فِينَا. قَالَ فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَدَهُ عَلَى سَلْمَانَ فَقَالَ " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ كَانَ الإِيمَانُ بِالثُّرَيَّا لَتَنَاوَلَهُ رِجَالٌ مِنْ هَؤُلاَءِ " .قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ . وَأَبُو الْغَيْثِ اسْمُهُ سَالِمٌ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُطِيعٍ مَدَنِيٌّ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)–এর নিকট আমরা উপস্থিত ছিলাম। সে সময় সূরা আল-জুমু’আহ্ অবতীর্ণ হয় এবং তিনি তা পাঠ করেন। তিনি ‘ওয়া আখারীনা মিনহুম লাম্মা ইয়াল্হাকু বিহিমি” (এবং তাদের অন্যেরা যারা এখনো তাদের সঙ্গে একত্রিত হয়নি) পর্যন্ত পৌঁছলে এক ব্যক্তি তাঁকে প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! এসব লোক কারা, এখনো যারা আমাদের সঙ্গে একত্রিত হয়নি? তিনি তাকে কিছুই বললেন না।আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, সালমান আল-ফারিসী (রাঃ) আমাদের মধ্যে হাজির ছিলেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের হাতখানা সালমান (রাঃ)-এর উপর রেখে বললেন, সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! সুরাইয়্যাহ্ তারকায় ঈমান থাকলেও এদের (অনারবদের) কিছু লোক তা নিয়ে আসবে।
আবূ 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। হাদীসটি একাধিক সূত্রে আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর বরাতে নাবী (ﷺ) হতে বর্ণিত হয়েছে। আবূল গাইস এর নাম সালিম, তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুত্বী’ এর মুক্তদাস মাদীনার অধিবাসী।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৯৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূরা আল-জুমু‘আহ পাঠের সময় “ওয়া আখারিনা মিনহুম” আয়াতের প্রসঙ্গ আসে। এক ব্যক্তি জানতে চান, যারা এখনও তাদের সঙ্গে মিলিত হয়নি তারা কারা। সালমান আল-ফারিসি (রাঃ) উপস্থিত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর উপর হাত রেখে বলেন, ঈমান যদি সুরাইয়া তারকায়ও থাকত, তবে এদের কিছু লোক তা নিয়ে আসত। এখানে “ঈমান”, “সালমান ফারসি” এবং “অনারবদের মর্যাদা” সরাসরি যুক্ত। হাদিসটি কোনো জাতিগত অহংকার নয়; বরং ঈমানের মূল্য ও আল্লাহ যাকে চান তাকে কল্যাণ দান করেন—এই বোধ জাগায়। তাই মুসলিমের চোখে মর্যাদার মূল হলো ঈমানের প্রতি আগ্রহ ও সত্য গ্রহণের যোগ্যতা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঈমানের মর্যাদা জাতিগত সীমার মধ্যে আটকে নয়।
- সালমান ফারসি (রাঃ)-এর উপস্থিতিতে অনারবদের একটি বিশেষ প্রশংসা এসেছে।
- ঈমান দূরে থাকলেও তা পাওয়ার চেষ্টা মূল্যবান—এ অর্থ হাদিসে ফুটে ওঠে।
- আয়াতের ব্যাখ্যায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে হবে।
