৪/৮. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৫০১ - কার উপর জুমা ফরজ ও কুবা থেকে উপস্থিতি

অধ্যায়ঃ

কার উপর জুমার নামাজ ফরজ: কুবা থেকে উপস্থিতির নির্দেশ

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৫০১

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مَدُّويَهْ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ ثُوَيْرٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَهْلِ قُبَاءَ عَنْ أَبِيهِ، وَكَانَ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ - قَالَ أَمَرَنَا النَّبِيُّ ﷺ أَنْ نَشْهَدَ الْجُمُعَةَ مِنْ قُبَاءَ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ فِي هَذَا وَلاَ يَصِحُّ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَلاَ يَصِحُّ فِي هَذَا الْبَابِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ شَيْءٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ «الْجُمُعَةُ عَلَى مَنْ آوَاهُ اللَّيْلُ إِلَى أَهْلِهِ» . وَهَذَا حَدِيثٌ إِسْنَادُهُ ضَعِيفٌ إِنَّمَا يُرْوَى مِنْ حَدِيثِ مُعَارِكِ بْنِ عَبَّادٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ . وَضَعَّفَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيَّ فِي الْحَدِيثِ .قَالَ وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ عَلَى مَنْ تَجِبُ الْجُمُعَةُ فَقَالَ بَعْضُهُمْ تَجِبُ الْجُمُعَةُ عَلَى مَنْ آوَاهُ اللَّيْلُ إِلَى مَنْزِلِهِ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ لاَ تَجِبُ الْجُمُعَةُ إِلاَّ عَلَى مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .

জনৈক সাহাবী হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে কুবা পল্লী হতে জুমু’আর নামাজে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি আমরা কেবল উল্লেখিত সনদেই জানতে পেরেছি। এ অনুচ্ছেদে সহীহ্‌ সনদ সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন হাদীস নেই। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ “এমন ব্যক্তির উপরও জুমু’আ ওয়াজিব যে নামাজ আদায় করে রাতের প্রথম দিকেই নিজ পরিবারে পৌঁছে যেতে পারে”। এটাও যঈফ হাদীস। কেননা এ হাদীসের এক রাবী আবদুল্লাহ ইবনু সাঈদ আল-মাকবূরী হাদীসশাস্ত্রে দুর্বল। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল কাত্তান তাকে দুর্বল বলেছেন। জুমু’আর নামাজ কার উপর ওয়াজিব তা নিয়ে আলিমদের মধ্যে মতের অমিল আছে। কেউ কেউ বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমু’আর নামাজ আদায় করে রাতের মধ্যেই ঘরে পৌঁছে যেতে পারে তার উপর জুমু’আ ওয়াজিব। অন্য একদল মনীষী বলেছেন, যতদূর আযানের শব্দ পৌঁছে ততদূর পর্যন্ত লোকদের উপর জুমু’আ ওয়াজিব। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এই মত দিয়েছেন।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৫০১-এর সারসংক্ষেপ

মূল বিষয়: জুমার উপস্থিতি। এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কুবা পল্লীর লোকদের জুমার নামাজে উপস্থিত হতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাই হাদিসটির কেন্দ্রীয় কথা হলো দূরে বসবাসকারী মুসল্লির জুমায় অংশ নেওয়া এবং কার উপর জুমার নামাজ ফরজ—এই প্রশ্ন। তবে একই বর্ণনার আরবি অংশে ইমাম তিরমিযী স্পষ্ট করেছেন, এ বিষয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم) থেকে সহিহভাবে প্রমাণিত কোনো বর্ণনা তিনি পাননি এবং উল্লিখিত সনদ দুর্বল। সেখানে আলেমদের দুই মতও এসেছে: কেউ বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতের মধ্যে বাড়ি ফিরতে পারে তার উপর জুমা আবশ্যক; আবার কেউ বলেছেন, যে আজান শুনতে পায় তার উপর তা আবশ্যক। তাই এই হাদিস থেকে সরাসরি চূড়ান্ত দূরত্ব নির্ধারণ না করে, বর্ণনার নির্দেশ ও সনদ-সতর্কতা দুটিই একসঙ্গে বুঝতে হবে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কুবা পল্লীর লোকদের জুমায় উপস্থিত হওয়ার নির্দেশের কথা বর্ণিত হয়েছে।
  • কার উপর জুমা ফরজ—এ বিষয়ে বর্ণনার ভেতরেই আলেমদের মতভেদ উল্লেখ আছে।
  • দুর্বল সনদের বর্ণনা দিয়ে এককভাবে চূড়ান্ত বিধান স্থির করা ঠিক নয়।
  • জুমার বিধান বুঝতে আজান শোনা ও যাতায়াতের সামর্থ্যের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন