৪/৮. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৫০২ - জুমা ফরজ হওয়ার দুর্বল বর্ণনা যাচাই

অধ্যায়ঃ

জুমা কার উপর ফরজ: দুর্বল সনদ যাচাইয়ের শিক্ষা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৫০২

سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ الْحَسَنِ، يَقُولُ كُنَّا عِنْدَ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ فَذَكَرُوا عَلَى مَنْ تَجِبُ الْجُمُعَةُ فَلَمْ يَذْكُرْ أَحْمَدُ فِيهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ شَيْئًا . قَالَ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ فَقُلْتُ لأَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ فِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ . فَقَالَ أَحْمَدُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ نُصَيْرٍ حَدَّثَنَا مُعَارِكُ بْنُ عَبَّادٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «الْجُمُعَةُ عَلَى مَنْ آوَاهُ اللَّيْلُ إِلَى أَهْلِهِ» . قَالَ فَغَضِبَ عَلَىَّ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ وَقَالَ لِي اسْتَغْفِرْ رَبَّكَ اسْتَغْفِرْ رَبَّكَ .قَالَ أَبُو عِيسَى إِنَّمَا فَعَلَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ هَذَا لأَنَّهُ لَمْ يَعُدَّ هَذَا الْحَدِيثَ شَيْئًا وَضَعَّفَهُ لِحَالِ إِسْنَادِهِ .

আহমাদ ইবনু হাসান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি (তিরমিযী) আহমাদ ইবনু হাসানকে বলতে শুনেছিঃ আমরা আহমাদ ইবনু হাম্বলের নিকট উপস্থিত ছিলাম। কার উপর জুমু’আ ওয়াজিব এ নিয়ে আলোচনা জমে উঠল। আহমাদ ইবনু হাম্বল এ বিষয়ের উপর নবী (ﷺ)–এর কোন হাদীস উল্লেখ করেননি। বলেন, আমি আহমাদ ইবনু হাম্বলকে বললাম, আবূ হুরাইরা (রাঃ) এ প্রসঙ্গে নবী (ﷺ)–এর একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন, নবী (ﷺ)-এর হাদীস! আমি বললাম, হ্যাঁ। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ‘যে ব্যক্তি রাত হতে হতে বাড়ি পৌঁছতে পারবে তার উপরও জুমু’আ ওয়াজিব’। এ হাদীস শুনে আহমাদ ইবনু হাম্বল আমার উপর রেগে গেলেন এবং বললেন, তোমার আল্লাহর নিকটে ক্ষমা চাও, তোমার আল্লাহর নিকটে ক্ষমা চাও।

আবূ ঈসা বলেনঃ আহমাদ ইবনু হাম্বল এ কথা এ জন্যই বলেছেন, তিনি এ হাদীসকে গণনাতেই ধরেন না। কেননা তার সনদ দুর্বল।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৫০২-এর সারসংক্ষেপ

মূল বিষয়: সনদ যাচাই। এই বর্ণনায় আহমাদ ইবন হাসান, ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বলের সামনে ‘যে ব্যক্তি রাত হওয়ার আগে পরিবারের কাছে ফিরতে পারে, তার উপর জুমা ফরজ’—এ মর্মের একটি বর্ণনা তুলে ধরেন। ইমাম আহমাদ তা শুনে অসন্তুষ্ট হন এবং তাকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন। একই পাঠে ইমাম তিরমিযী কারণটি পরিষ্কার করেছেন: ইমাম আহমাদ এই বর্ণনাকে নির্ভরযোগ্য মনে করেননি, কারণ এর সনদ দুর্বল ছিল। তাই হাদিসটির মূল শিক্ষা শুধু কার উপর জুমা ফরজ তা নয়; বরং কোনো কথা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে বলার আগে সনদ যাচাই করা। এখানে উল্লিখিত বাক্যকে শক্ত প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা ঠিক হবে না। জুমার বিধান জানতে নির্ভরযোগ্য দলিল ও যোগ্য আলেমের ব্যাখ্যা অনুসরণ করা দরকার।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে কোনো কথা বলার আগে বর্ণনার সনদ যাচাই করা জরুরি।
  • ‘রাতের মধ্যে বাড়ি ফেরা’ সম্পর্কিত বর্ণনাটি এই পাঠে দুর্বল বলা হয়েছে।
  • ইমাম আহমাদের আপত্তি ছিল বর্ণনার সনদগত দুর্বলতার কারণে।
  • জুমা ফরজ হওয়ার বিধান দুর্বল একটি বর্ণনার উপর একা দাঁড় করানো উচিত নয়।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন