৪/৫৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৫৮৩ - একই নামাজের পর আবার ইমামতি
ফরজ নামাজ আদায় করার পর আবার লোকদের ইমামতি করা
মুয়ায রাঃ-এর মাগরিব নামাজ ও নিজ গোত্রে ইমামতি
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৫৮৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৫৮৩
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، كَانَ يُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ الْمَغْرِبَ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى قَوْمِهِ فَيَؤُمُّهُمْ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَصْحَابِنَا الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ قَالُوا إِذَا أَمَّ الرَّجُلُ الْقَوْمَ فِي الْمَكْتُوبَةِ وَقَدْ كَانَ صَلاَّهَا قَبْلَ ذَلِكَ أَنَّ صَلاَةَ مَنِ ائْتَمَّ بِهِ جَائِزَةٌ. وَاحْتَجُّوا بِحَدِيثِ جَابِرٍ فِي قِصَّةِ مُعَاذٍ وَهُوَ حَدِيثٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ جَابِرٍ. وَرُوِيَ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ رَجُلٍ دَخَلَ الْمَسْجِدَ وَالْقَوْمُ فِي صَلاَةِ الْعَصْرِ وَهُوَ يَحْسَبُ أَنَّهَا صَلاَةُ الظُّهْرِ فَائْتَمَّ بِهِمْ قَالَ صَلاَتُهُ جَائِزَةٌ. وَقَدْ قَالَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ إِذَا ائْتَمَّ قَوْمٌ بِإِمَامٍ وَهُوَ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهَا الظُّهْرُ فَصَلَّى بِهِمْ وَاقْتَدَوْا بِهِ فَإِنَّ صَلاَةَ الْمُقْتَدِي فَاسِدَةٌ إِذِ اخْتَلَفَ نِيَّةُ الإِمَامِ وَنِيَّةُ الْمَأْمُومِ.
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে মাগরিবের নামাজ আদায় করতেন, তারপর নিজের গোত্রে গিয়ে তাদের ইমামতি করতেন।
আবূ ‘ঈসা (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আমাদের সঙ্গী ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। তাঁরা বলেছেন, কোন ব্যক্তি ফরয নামাজ আদায় করার পর আবার ইমাম হয়ে সে যদি ঐ নামাজ আদায় করায় তবে তার পিছনে ইকতিদাকারীদের নামাজ আদায় হয়ে যাবে। তাঁরা উপরের হাদীস নিজেদের দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এটা একটা সহীহ হাদীস। আর এটা বেশ কয়েকটি সূত্রে জাবির (রাঃ) -হতে বর্ণিত হয়েছে। “আবূ দারদা (রাঃ) -কে প্রশ্ন করা হলো, এক ব্যক্তি মসজিদে গেল, লোকেরা তখন ‘আসরের নামাজ আদায় করছিল। সে ধারণা করলো তারা যুহরের নামাজ আদায় করছে। সে জামা‘আতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে নামাজ আদায় করলো (তার নামাজের হুকুম কি)। তিনি বলেন, তার নামাজ জায়িয হয়েছে।” কুফাবাসীদের একদল বলেছেন, একদল লোক ইমামের পিছনে এসে ইকতিদা করলো। সে তখন ‘আসরের নামাজ আদায় করছিল। তারা মনে করলো, সে (ইমাম) যুহরের নামাজ আদায় করছে। সে তাদের নামাজ আদায় করালো এবং তারাও তার পিছনে ইকতিদা করলো। এ অবস্থায় তাদের নামাজ ফাসিদ (নষ্ট) হয়ে যাবে। কেননা ইমাম ও মুক্তাদীদের নিয়্যাতের মধ্যে প্রভেদ সৃষ্টি হয়ে গেছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৫৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুয়ায ইবন জাবাল রাঃ-এর একটি স্পষ্ট আমল বর্ণিত হয়েছে। তিনি প্রথমে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে মাগরিবের নামাজ আদায় করতেন। এরপর নিজের গোত্রের কাছে ফিরে গিয়ে তাদের ইমামতি করতেন। অর্থাৎ তাঁর নিজের মাগরিবের নামাজ আগে আদায় হয়ে যেত, তারপর তিনি অন্যদের একই ফরজ নামাজে নেতৃত্ব দিতেন। বর্ণনার পরের অংশে বলা হয়েছে, কিছু আলেম এই ঘটনাকে দলিল ধরে মুক্তাদিদের নামাজকে বৈধ বলেছেন, যদিও ইমাম আগে সেই নামাজ পড়ে নিয়েছেন। আবার কুফার কিছু আলেম ইমাম ও মুক্তাদির নিয়ত ভিন্ন হওয়ার কারণে ভিন্ন মত দিয়েছেন। তাই হাদিসের মূল ঘটনা ও বর্ণিত মতভেদ দুটিই আলাদা করে বোঝা দরকার। নিশ্চিত তথ্য হলো, মুয়ায রাঃ রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে মাগরিব পড়ে নিজের লোকদের ইমামতি করতেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুয়ায রাঃ প্রথমে রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে মাগরিব আদায় করতেন।
- তিনি পরে নিজ গোত্রে ফিরে তাদের একই নামাজে ইমামতি করতেন।
- বর্ণনার ব্যাখ্যায় ইমাম ও মুক্তাদির নিয়ত নিয়ে আলেমদের মতভেদের কথা এসেছে।
