১০/৪১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৮৩৫ - সূরা বাকারা পড়ে সালাত দীর্ঘ করার সতর্কতা
ইমাম ও মুক্তাদীর নিয়্যাতের ভিন্নতা
সূরা বাকারা পড়ে জামাআতের সালাত দীর্ঘ করার হাদিস
সুনানে আন-নাসায়ী : ৮৩৫
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৮৩৫
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ: كَانَ مُعَاذٌ يُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى قَوْمِهِ يَؤُمُّهُمْ، فَأَخَّرَ ذَاتَ لَيْلَةٍ الصَّلَاةَ، وَصَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ رَجَعَ إِلَى قَوْمِهِ يَؤُمُّهُمْ فَقَرَأَ سُورَةَ الْبَقَرَةِ، فَلَمَّا سَمِعَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ تَأَخَّرَ فَصَلَّى، ثُمَّ خَرَجَ فَقَالُوا: نَافَقْتَ يَا فُلَانُ. فَقَالَ: وَاللَّهِ مَا نَافَقْتُ وَلَآتِيَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأُخْبِرُهُ، فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ مُعَاذًا يُصَلِّي مَعَكَ ثُمَّ يَأْتِينَا فَيَؤُمُّنَا، وَإِنَّكَ أَخَّرْتَ الصَّلَاةَ الْبَارِحَةَ فَصَلَّى مَعَكَ ثُمَّ رَجَعَ فَأَمَّنَا فَاسْتَفْتَحَ بِسُورَةِ الْبَقَرَةِ فَلَمَّا سَمِعْتُ ذَلِكَ تَأَخَّرْتُ فَصَلَّيْتُ، وَإِنَّمَا نَحْنُ أَصْحَابُ نَوَاضِحَ نَعْمَلُ بِأَيْدِينَا "، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا مُعَاذُ أَفَتَّانٌ أَنْتَ، اقْرَأْ بِسُورَةِ كَذَا وَسُورَةِ كَذَا»
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
'আম্র (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, মু'আয (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সালাত আদায় করে তারপর স্বীয় সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে এসে তাদের ইমাম হয়ে সালাত আদায় করতেন। একদা নাবী (ﷺ)-এর সাথে তিনি বিলম্বে সালাত আদায় করে তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে এসে সালাত আদায় করেন এবং সূরা বাক্বারাহ্ পাঠ করলেন। সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি এমন ক্বিরাআত শুনে সালাত থেকে সরে পড়ল এবং একা একা সালাত আদায় করে বেরিয়ে পড়ল। লোকেরা তাকে বললেন, হে অমুক! তুমি কি মুনাফিক্ব হয়ে গেছ? সে বলল, আল্লাহর কসম, আমি মুনাফিক্ব হইনি। আমি নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গিয়ে তাঁকে বিষয়টি বলব।তারপর সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গিয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! মু'আয (রাঃ) আপনার সঙ্গে সালাত আদায় করেন। আপনি গত রাতে 'ইশার সালাত আদায় করতে বিলম্ব করেন। তিনি আপনার সঙ্গে সালাত আদায় করার পর আমাদের ইমামাত করতে যান এবং তিনি সূরা বাক্বারাহ্ আরম্ভ করে দেন। আমি তা শুনে পিছনে হটে যাই এবং একাকী সালাত আদায় করি। আমরা উটের রাখাল, আমরা নিজ হাতে কাজ করি। তখন নাবী (ﷺ) বললেন, হে মু'আয! তুমি কি (লোকেদের) ফিত্নাহ্ ও কষ্টে ফেলতে চাও? তুমি ঐ সূরা পাঠ কর।
[১] ইসলামের প্রাথমিক যুগে এ ধরনের এক ওয়াক্তে ফরয সালাত ফরয হিসেবে দু’বার আদায় করা বৈধ ছিল। পরবর্তীতে তা রহিত হয়ে যায়।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৮৩৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মু‘আয (রাঃ)-এর ইমামতি এবং দীর্ঘ কিরাআতের ঘটনা বলা হয়েছে। তিনি প্রথমে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে সালাত আদায় করতেন, এরপর নিজের সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে তাঁদের ইমামতি করতেন। এক রাতে তিনি তাঁদের সালাতে সূরা বাকারা পাঠ শুরু করেন। একজন শ্রমজীবী মুসল্লি তা শুনে জামাআত থেকে সরে একা সালাত আদায় করেন। অন্যরা তাঁকে মুনাফিক বলে প্রশ্ন করলে তিনি তা অস্বীকার করেন এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে ঘটনা জানান। লোকটি বলে, তারা উটের দেখাশোনা করে এবং নিজের হাতে কাজ করে। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) মু‘আয (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি মানুষকে ফিতনা ও কষ্টে ফেলতে চান। এরপর তাঁকে অন্য সূরা পড়ার নির্দেশ দেন। মূল শিক্ষা হলো, ইমামকে মুসল্লিদের কাজ, ক্লান্তি ও সামর্থ্য বুঝে কিরাআত নির্বাচন করতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমামের দীর্ঘ কিরাআত শ্রমজীবী ও ক্লান্ত মুসল্লিদের জন্য কষ্টকর হতে পারে।
- কোনো মুসল্লির কাজ না বুঝে তাকে মুনাফিক বলা ঠিক নয়।
- অভিযোগ শুনে নবী (صلى الله عليه وسلم) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করেছেন।
- ইমামকে জামাআতের উপযোগী সূরা ও কিরাআত নির্বাচন করতে হয়।
