৪/৬১. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৫৯০ - নামাজে তাকানো শয়তানের ছোঁ মারা
নামাযে এদিক-সেদিক তাকানো
নামাজে এদিক-সেদিক তাকানো কেন শয়তানের ছোঁ মারা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৫৯০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৫৯০
حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَنْ الاِلْتِفَاتِ فِي الصَّلاَةِ قَالَ «هُوَ اخْتِلاَسٌ يَخْتَلِسُهُ الشَّيْطَانُ مِنْ صَلاَةِ الرَّجُلِ " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে নামাজরত অবস্থায় এদিক-সেদিক তাকানো প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ এটা শয়তানের ছোঁ মারা, শয়তান সুযোগ বুঝে ছোঁ মেরে কোন ব্যক্তির নামাজ থেকে কিছু অংশ নিয়ে যায়।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান গারীব।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৫৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা রাঃ রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে নামাজের মধ্যে এদিক-সেদিক তাকানোর বিষয়ে প্রশ্ন করেন। উত্তরে তিনি বলেন, এটি শয়তানের ছোঁ মারা; শয়তান সুযোগ নিয়ে মানুষের নামাজ থেকে কিছু অংশ নিয়ে যায়। কথাটি নামাজে দৃষ্টি ও মনোযোগ রক্ষার গুরুত্ব বোঝায়। এখানে শয়তান কীভাবে বা কত অংশ নিয়ে যায়, তার পরিমাণ বলা হয়নি। তাই নির্দিষ্ট সংখ্যা বা নিশ্চিত ক্ষতির মাত্রা যোগ করার সুযোগ নেই। মূল শিক্ষা হলো, নামাজের সময় চারদিকে দৃষ্টি ঘোরানো ইবাদতের পূর্ণ মনোযোগে ঘাটতি আনে এবং শয়তান সেই দুর্বলতার সুযোগ নেয়। এই বর্ণনা মানুষকে ভয় দেখিয়ে হতাশ করার জন্য নয়; বরং নামাজে সচেতন হওয়ার জন্য সতর্ক করে। ফলে নামাজ শুরু করার পর দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ করা, অপ্রয়োজনীয় বিষয় এড়ানো এবং মনকে নামাজে ফেরানোই সরাসরি করণীয় হিসেবে বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজে এদিক-সেদিক তাকানোকে শয়তানের ছোঁ মারা বলা হয়েছে।
- এই কাজ মানুষের নামাজের কিছু অংশ কমিয়ে নেওয়ার কারণ হতে পারে।
- নামাজে দৃষ্টি ও মনোযোগ ধরে রাখা হাদিসের সরাসরি শিক্ষা।
