৬/১৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭১৩ - সফরে সামর্থ্য অনুযায়ী রোজা
সফরে রোযা পালনের অনুমতি প্রসঙ্গে
সফরে রোজা: শক্তি ও দুর্বলতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৭১৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭১৩
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كُنَّا نُسَافِرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَمِنَّا الصَّائِمُ وَمِنَّا الْمُفْطِرُ فَلاَ يَجِدُ الْمُفْطِرُ عَلَى الصَّائِمِ وَلاَ الصَّائِمُ عَلَى الْمُفْطِرِ فَكَانُوا يَرَوْنَ أَنَّهُ مَنْ وَجَدَ قُوَّةً فَصَامَ فَحَسَنٌ وَمَنْ وَجَدَ ضَعْفًا فَأَفْطَرَ فَحَسَنٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে আমরা সফরে যেতাম। আমাদের মধ্যে রোযাদার এবং রোযা ভঙ্গকারী উভয়েই থাকতেন। রোযাদারের বিরুদ্ধে রোযা ভঙ্গকারী এবং রোযা ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে রোযাদার কোনরকম অভিযোগ করেননি। তাঁরা মনে করতেন, শক্তিশালী লোক রোযা পালন করলে তা ভালই করেছে এবং দুর্বল লোক রোযা পালন না করলে তাও ভাল করেছে।
আবূ ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ্ বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাহাবীদের সফরের বাস্তব আচরণ তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ রোজা রাখতেন, কেউ রোজা ভাঙতেন। কোনো পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর রাগ বা অভিযোগ করতেন না। তাঁরা মনে করতেন, যার শক্তি আছে সে রোজা রাখলে ভালো, আর যে দুর্বল বোধ করে সে রোজা না রাখলে সেটিও ভালো। এই বক্তব্য সফরের রোজায় সহজতা ও বাস্তবতা শেখায়। এখানে একে অন্যের আমল যাচাই করে কঠোর বিচার করার বদলে ব্যক্তির সামর্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ‘শক্তি’ বা ‘দুর্বলতা’ মাপার নির্দিষ্ট নিয়ম এই হাদিসে দেওয়া হয়নি। তাই এর সরাসরি শিক্ষা হলো নিজের অবস্থা সৎভাবে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং বৈধ ভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে অন্য মুসলিমকে দোষ না দেওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফরে রোজার সিদ্ধান্তে ব্যক্তির সামর্থ্য গুরুত্বপূর্ণ।
- শক্তিশালী ব্যক্তি রোজা রাখলে তা ভালো বলা হয়েছে।
- দুর্বল ব্যক্তি রোজা না রাখলেও তা ভালো বলা হয়েছে।
- বৈধ ভিন্ন আমলের কারণে পরস্পরকে দোষ দেওয়া উচিত নয়।
