৬/১৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭১১ - সফরে রোজা রাখা বা ভাঙার সুযোগ
সফরে রোযা পালনের অনুমতি প্রসঙ্গে
সফরে রোজা: রাখা ও ভাঙার দুটো সুযোগ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৭১১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭১১
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ حَمْزَةَ بْنَ عَمْرٍو الأَسْلَمِيَّ، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَنِ الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ وَكَانَ يَسْرُدُ الصَّوْمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ» .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَأَبِي الدَّرْدَاءِ وَحَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو الأَسْلَمِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ أَنَّ حَمْزَةَ بْنَ عَمْرٍو سَأَلَ النَّبِيَّ ﷺ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আসলাম গোত্রের হামযা ইবনু আমর (রাঃ) সফরে থাকাবস্থায় রোযা পালন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন। আর তিনি প্রায়ই রোযা পালন করতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেনঃ ইচ্ছা করলে তুমি রোযা পালন করতেও পার আবার ইচ্ছা করলে ভাঙতেও পার।
আনাস ইবনু মালিক, আবূ সাঈদ, আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবূ দারদা ও হামযা ইবনু আমর আসলামী (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত ‘হামযা ইবনু আমর নবী (ﷺ)-কে প্রশ্ন করেছেন’ হাদীসটি হাসান সহীহ্।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭১১-এর সারসংক্ষেপ
হামজা ইবনু আমর আল-আসলামী (রাঃ) নিয়মিত রোজা রাখতেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করেন, সফরে থাকলে রোজা রাখবেন কি না। নবীজি তাঁকে বলেন, ইচ্ছা করলে রোজা রাখতে পারেন এবং ইচ্ছা করলে ভাঙতে পারেন। এই উত্তর থেকে বোঝা যায়, সফরের অবস্থায় একটিমাত্র পথ সব মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়নি। ব্যক্তির সামর্থ্য ও অবস্থার ভিত্তিতে দুই সুযোগই রাখা হয়েছে। তবে এই হাদিসে কষ্ট, অসুস্থতা বা অন্য কোনো বিস্তারিত শর্ত আলাদা করে উল্লেখ নেই। তাই ব্যাখ্যার সীমা হলো—সফরে রোজা রাখা বৈধ, আবার রোজা না রাখার অনুমতিও আছে। অন্যকে শুধু নিজের পছন্দের কারণে দোষ দেওয়া এই বর্ণনার সঙ্গে যায় না। এই সহজতা সফরের বাস্তব কষ্টকে বিবেচনায় রাখে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফরে ইচ্ছা করলে রোজা রাখা যায়।
- সফরে প্রয়োজন হলে রোজা ভাঙার সুযোগও আছে।
- ব্যক্তির সামর্থ্য ও পরিস্থিতি বিবেচনা করা যায়।
- একটি বৈধ বিকল্প গ্রহণের কারণে অন্যকে দোষ দেওয়া ঠিক নয়।
