৬/১৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭১০ - সফরে কষ্ট হলে রোজা ভাঙা
সফরে থাকাবস্থায় রোজা পালন করা মাকরুহ
সফরে রোজা: কষ্ট হলে ছাড় গ্রহণের শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৭১০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭১০
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ خَرَجَ إِلَى مَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ كُرَاعَ الْغَمِيمِ وَصَامَ النَّاسُ مَعَهُ فَقِيلَ لَهُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ شَقَّ عَلَيْهِمُ الصِّيَامُ وَإِنَّ النَّاسَ يَنْظُرُونَ فِيمَا فَعَلْتَ . فَدَعَا بِقَدَحٍ مِنْ مَاءٍ بَعْدَ الْعَصْرِ فَشَرِبَ وَالنَّاسُ يَنْظُرُونَ إِلَيْهِ فَأَفْطَرَ بَعْضُهُمْ وَصَامَ بَعْضُهُمْ فَبَلَغَهُ أَنَّ نَاسًا صَامُوا فَقَالَ " أُولَئِكَ الْعُصَاةُ».قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ كَعْبِ بْنِ عَاصِمٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ " لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ " .وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ فَرَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ أَنَّ الْفِطْرَ فِي السَّفَرِ أَفْضَلُ حَتَّى رَأَى بَعْضُهُمْ عَلَيْهِ الإِعَادَةَ إِذَا صَامَ فِي السَّفَرِ . وَاخْتَارَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ الْفِطْرَ فِي السَّفَرِ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ إِنْ وَجَدَ قُوَّةً فَصَامَ فَحَسَنٌ وَهُوَ أَفْضَلُ وَإِنْ أَفْطَرَ فَحَسَنٌ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ وَإِنَّمَا مَعْنَى قَوْلِ النَّبِيِّ ﷺ " لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ " . وَقَوْلُهُ حِينَ بَلَغَهُ أَنَّ نَاسًا صَامُوا فَقَالَ " أُولَئِكَ الْعُصَاةُ». فَوَجْهُ هَذَا إِذَا لَمْ يَحْتَمِلْ قَلْبُهُ قَبُولَ رُخْصَةِ اللَّهِ فَأَمَّا مَنْ رَأَى الْفِطْرَ مُبَاحًا وَصَامَ وَقَوِيَ عَلَى ذَلِكَ فَهُوَ أَعْجَبُ إِلَىَّ .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। তিনি রোজা রাখেন এবং লোকেরাও তাঁর সাথে রোজা রাখে। কুরাউল গামীমে পৌঁছানোর পর তাঁকে বলা হল, রোজা রাখা লোকদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আপনি কি করেন তারা সেই অপেক্ষায় আছে। আসরের নামাজ আদায়ের পর তিনি এক পেয়ালা পানি চেয়ে আনালেন এবং তা পান করলেন। তখন লোকেরা তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখছিল। ফলে তাদের মধ্যেকার কিছু লোক রোজা ভাঙ্গলো এবং কিছু লোক রোজা থাকল। তখনও কিছু লোক রোজা অবস্থায় আছে এ কথা তাঁর নিকটে পৌঁছলে তিনি বললেনঃ এরা হচ্ছে অবাধ্য নাফরমান।
কা’ব ইবনু আসিম, ইবনু আব্বাস ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেনঃ “সফরের মাঝে রোজা পালন করাটা সাওয়াবের কাজ নয়”। আলিমদের মধ্যে সফরে থাকাবস্থায় রোজা পালন করা প্রসঙ্গে মতবিরোধ আছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্যদের মতানুযায়ী সফরে থাকা অবস্থায় রোজা পালন না করাই উত্তম। এমনকি কারো কারো মতানুযায়ী সফরে থাকাবস্থায় কোন লোক রোজা পালন করলে তাকে আবার সে রোজা কাযা করতে হবে। সফরে রোজা না পালনের পক্ষে ইমাম আহ্মাদ ও ইসহাক অভিমত দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অন্য আরেকদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও আলিম বলেছেন শক্তি-সামর্থ্যবান লোকে যদি সফরে রোজা পালন করে তাহলে তা ভাল এবং তাই উত্তম, রোজা আদায় না করলে তাকেও ভাল বলেছেন। সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনু আনাস ও আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাকের এই মত। ইমাম শাফিঈ বলেন, “সফরে থাকাবস্থায় রোজা পালন করা সাওয়াবের কাজ নয়" এবং "এরা নাফরমান" এই কথার তাৎপর্য হচ্ছে, যে লোকের অন্তর আল্লাহ্র দেয়া অবকাশ (রুখসাত) গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয় সে লোকের ক্ষেত্রে ঐ কথা প্রযোজ্য। কিন্তু সফরে রোজা ভেঙ্গে ফেলাকে যে লোক জায়িয মনে করে এবং রোজা রাখার সামর্থ্য থাকায় রোজা পালন করে, তা আমার নিকটে পছন্দনীয়।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মক্কা বিজয়ের বছরের একটি সফরের ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) শুরুতে রোজা রেখেছিলেন এবং লোকেরাও তাঁর সঙ্গে রোজা রাখে। কুরাউল গামীমে পৌঁছে জানানো হয়, রোজা মানুষের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে এবং তারা তাঁর সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে। আসরের পর তিনি প্রকাশ্যে পানি পান করেন, যাতে সবাই বুঝতে পারে রোজা ভাঙার অনুমতি নেওয়া হয়েছে। কেউ রোজা ভাঙে, কেউ চালিয়ে যায়। যখন জানানো হয় যে কিছু লোক এখনো রোজা রেখেছে, তিনি তাদের অবাধ্য বলেন। এই কঠোর মন্তব্যটি হাদিসের নির্দিষ্ট পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত—মানুষ কষ্টে ছিল এবং নবীজি প্রকাশ্যে রোজা ভেঙে দিকনির্দেশ দিয়েছিলেন। তাই এটিকে সব সফরের জন্য একরকম সিদ্ধান্ত বানানো ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফরে রোজা কষ্টকর হলে শরিয়তের ছাড় গ্রহণ করা যায়।
- নবীজি মানুষের অবস্থা দেখে প্রকাশ্যে রোজা ভেঙেছিলেন।
- এই ঘটনার অবাধ্যতার মন্তব্য নির্দিষ্ট কষ্টকর পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত।
- সফরের রোজার বিধান ব্যক্তির অবস্থা ও নির্দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
