৬/১৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭১২ - সফরের রোজায় সহনশীলতা
সফরে রোযা পালনের অনুমতি প্রসঙ্গে
সফরে রোজা রাখা বা না রাখা: দোষারোপ নয়
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৭১২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭১২
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ أَبِي مَسْلَمَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كُنَّا نُسَافِرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي رَمَضَانَ فَمَا يَعِيبُ عَلَى الصَّائِمِ صَوْمَهُ وَلاَ عَلَى الْمُفْطِرِ إِفْطَارَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রমযান মাসেও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে আমরা সফরে গিয়েছি। কিন্তু রোযাদারকে সফরে রোযা পালনের কারণে কিংবা রোযা ভঙ্গকারীকে রোযা ভেঙ্গে ফেলার কারণে কোনরকম দোষারোপ করতেন না।
আবূ ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ্ বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭১২-এর সারসংক্ষেপ
আবু সাঈদ খুদরি (রাঃ) জানান, তাঁরা রমজান মাসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে সফর করেছেন। তখন দলের মধ্যে কেউ রোজা রাখতেন, আবার কেউ রোজা ভাঙতেন। নবীজি রোজাদারকে রোজা রাখার কারণে দোষ দেননি এবং যে ব্যক্তি রোজা ভেঙেছে তাকেও দোষ দেননি। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো সফরের বৈধ সুযোগ নিয়ে পরস্পরকে ছোট না করা। কারও শারীরিক সামর্থ্য, পথের কষ্ট বা ব্যক্তিগত অবস্থা অন্যের মতো নাও হতে পারে। তবে হাদিসে বিশদ ফিকহি শর্ত দেওয়া হয়নি; শুধু বাস্তব সফরে দুই ধরনের আমল গ্রহণযোগ্য ছিল তা বলা হয়েছে। তাই রোজা রাখা বা না রাখার প্রশ্নে অহেতুক তর্কের বদলে নিজের অবস্থা বুঝে বৈধ সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং অন্যের সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফরে রোজা রাখা ও ভাঙা—দুটোই দেখা গেছে।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কোনো পক্ষকে দোষ দেননি।
- বৈধ সুযোগ গ্রহণ নিয়ে পরস্পরকে ছোট করা উচিত নয়।
- সফরের রোজায় ব্যক্তির অবস্থা বিবেচ্য হতে পারে।
